রংপুরে কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সেই যুবক আটক

আগের সংবাদ

সংকটের মুখে মানবস্বাস্থ্য

পরের সংবাদ

এবার পীরগঞ্জে হামলা : প্রতিটি অপরাধের কঠোর বিচার হোক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২১ , ১:১৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৯, ২০২১ , ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

এ বছর দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে যা ঘটেছে, তাতে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না। কুমিল্লার পর চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, গাজীপুর, কক্সবাজার, ভোলা, নোয়াখালীসহ ২৪টি জেলার অভ্যন্তরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। খুনোখুনিও হয়েছে। সর্বশেষ দেখলাম রংপুরের পীরগঞ্জে হামলার ঘটনা। জানা গেছে, পীরগঞ্জের বড়করিমপুর গ্রামের সবার চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। গ্রামটি ঘিরে রেখেছেন পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা। গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মন্দির ও বসতবাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পর থেকে বাসিন্দারা আতঙ্কে সময় পার করছেন। আগুনে পুড়ে গেছে ২১টি বাড়ির সবকিছু। এ ঘটনায় সোমবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামের লোকজনের ভাষ্য, পাশের মাঝিপাড়া গ্রামের এক তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দিয়েছেন- এমন অভিযোগ তুলে একদল লোক সেখানে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করেন। ঘটনা আঁচ করতে পেরে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে পুলিশ মাঝিপাড়া গ্রামের ওই তরুণের বাড়িসহ আশপাশের বাড়িতে নিরাপত্তা দেয়। তখন উত্তেজিত শত শত লোক ওই গ্রামের পাশের বড়করিমপুর গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্রে করে দেশে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা প্রায় ঘটছে। ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধদের বাড়িঘর ও বৌদ্ধবিহারে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়। এ বছর মার্চ মাসে সুনামগঞ্জের ঘটনা। এসব ঘটনা ফেসবুকে দেয়া পোস্টে ধর্মীয় অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়। ঘটনাগুলো দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। আমরা বলি আমাদের দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কিন্তু ইদানীংকালে অসহিষ্ণুতা ও অধৈর্যের যে প্রকাশ প্রায়ই দেখা যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। আমরা লক্ষ করছি, ইসলামের অবমাননা করা হয়েছে- এই জিকির তুলে স্বার্থান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মাঝে মাঝেই ধর্মপ্রাণ নিরীহ মানুষকে এমনভাবে উত্তেজিত করছে যে, তারাও হয়ে পড়ছে উন্মত্ত। সত্যি সত্যি ধর্মের অবমাননা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে না অথবা হলেও প্রকৃত অপরাধীর পরিবর্তে টার্গেট হয়ে পড়ছে সামগ্রিকভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। এ প্রবণতা বিপজ্জনক। ফেসবুকের পোস্টকে কেন্দ্র করে যখন পীরগঞ্জে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তখনই প্রশাসনের আগাম নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। আক্রান্তরা বলছেন, পুলিশকে আগে হামলার আশঙ্কার কথা জানানো হলেও তারা কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও প্রশাসন চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর এ রকম আক্রমণ জাতীয় সংহতির ওপর বিরাট আঘাত। এই হামলার ফলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আরো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে না পারলে বাংলাদেশে মিলেমিশে বসবাসের যে সংস্কৃতি তা বাধাগ্রস্ত হবে এবং মানুষের জীবনযাপনের স্বাভাবিকতা হারাবে। আমরা মনে করি, দেশের বিভিন্ন স্থানে হওয়া সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার বিচার না হওয়ায় প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। ঘটা প্রতিটি সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার হোক। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ-মেরামত করাসহ ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করাও জরুরি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়