দ্রব্যমূল্যের লাগাম কোথায়

আগের সংবাদ

মেসি-রোনালদো নন, সেরা সালাহ, দাবি ক্লপের

পরের সংবাদ

মণ্ডপে হামলার নেপথ্যে কারা

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০২১ , ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৮, ২০২১ , ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ

কুমিল্লার নানুয়া দীঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে হামলার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলার ঘটনার তদন্তে এখনো কুলকিনারা হয়নি। হামলাকারী ও এর নেপথ্যের উস্কানিদাতারাও শনাক্ত হয়নি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে ‘পবিত্র কুরআন অবমাননার’ একটি ফেসবুক লাইভের পর দেশের ২৩টি জেলার মন্দির-মণ্ডপে হামলা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ফেক আইডি থেকে কারা এসব সারাদেশে ছড়াল তা ৫ দিনেও জানা সম্ভব হয়নি। অনেক স্থানে কতিপয় মাদ্রাসার ছাত্র ছাড়াও হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমেছিল। চরমোনাই পীরের অনুসারীদেরও তৎপরতা দেখা গেছে। মণ্ডপে হামলার নেপথ্যে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী জড়িত এবং তাদের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে এমন ধারণা থেকেই চলছে তদন্তকাজ। সরকারের পক্ষ থেকে আঙুল তোলা হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের দিকে। আর বিএনপি নেতারা দায় চাপাচ্ছেন খোদ সরকারের ঘাড়েই। হামলার ঘটনায় কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ঘটনার বিশ্লেষণ করে বলছেন, হামলার ঘটনা সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। সকাল থেকে দফায় দফায় চেষ্টা করে তারা বিকালে হামলা করেছে। অবশ্য ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলাকারীরা সংঘবদ্ধ হয়েই এসেছিল, তাদের চেনা যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দারা তৎপর হলে এমন ঘটনা এড়ানো যেত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তদন্ত চলছে, জড়িতরা যে ধর্মের লোকই হোক না কেন তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোথাও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে মাথা তুলতে দেয়া হবে না। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্ধকারের শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কুমিল্লার ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রদায়িক শক্তি জড়িত। তাদের নেপথ্যে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে। এদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গতকাল রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে বলেছেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পেছনে কোনো পক্ষের ইন্ধন আছে। মন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে এ ঘটনাগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্যই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এসব যারা করছে, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কারো ইন্ধনেই করছে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত এবং তাদের দোসর উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মিলে কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার উদ্দেশ্যে এবং যারা সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে রাজনীতি করে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটার স্বার্থে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। অবশ্য বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পাল্টা দাবি করেছেন, এসব ঘটনা আওয়ামী লীগ ঘটাচ্ছে। দেশের সমস্ত অর্জন বিসর্জন দিয়ে আওয়ামী লীগ এ ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে। সরকার তার এজেন্টদের দিয়ে ঘটিয়ে গণতন্ত্রের জন্য বিএনপির সংগ্রামকে ভিন্ন খাতে নিতে চাচ্ছে।

মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে র‌্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে তাদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তির সহায়তায় কাজ চলছে। সহসাই তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা যাবে বলে মনে করেন তিনি। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেছেন, উসকানি দেয়ার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। নানুয়া দিঘীর পাড়ের ঘটনায় প্রথম যে ভিডিওটি ফেসবুকে প্রকাশ পেয়েছে, তাতে খুবই উসকানিমূলকভাবে ধারা বর্ণনা দেয়া হচ্ছিল। পুলিশ ওই ভিডিও পোস্টকারী ফায়েজকে আটক করেছে। ফায়েজের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেছেন, হামলার ঘটনায় কারা জড়িত তাদের এবং ইন্ধনদাতাদের খোঁজ চলছে। চারটি মামলায় কয়েকশ আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪১ জনকে। পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করছে একাধিক ইউনিট।

এদিকে চাঁন্দমনি কালীমন্দির কমিটির নেতারা বলেছেন, বুধবার বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত তিন দফায় মন্দিরে হামলা হলেও ফোন করে দীর্ঘ সময় পুলিশের সাহায্য পাওয়া যায়নি। জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক বলেছেন, সব মন্দিরেই একই অভিযোগ- পুলিশ আসেনি। মন্দিরের ভক্তরা বলছেন, সকাল থেকে যখন একের পর এক হামলা হচ্ছে, তখন তারা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু পুলিশ আসেনি। চাঁন্দমনি কালীমন্দিরে মই দিয়ে টপকে ভেতরে ঢুকে আগুন দেয়া হয়। তাদের দাবি, সেখানে চার ঘণ্টায়ও পুলিশ যায়নি। বিজিবি নামার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি উল্লেখ করে পুজারীরা বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পূর্ব প্রস্তুতি না থাকার সুযোগ নিয়েছে হামলাকারীরা।

ডি-এফবি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়