অ্যামেসের খুনীকে সন্ত্রাসবাদ আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে

আগের সংবাদ

সুশীল সমাজের নীরবতায় হতাশ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী

পরের সংবাদ

রাজনৈতিক শক্তি নিষ্ক্রিয় কেন

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২১ , ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০২১ , ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ

জনগণের জানমাল রক্ষার মহান ব্রতের অঙ্গীকার নিয়েই রাজনীতির মাঠে নামেন রাজনীতিবিদরা। উদ্দেশ্য একটাই, যে কোনো অবস্থায় অসহায় জনগণের পাশে দাঁড়ানো। বুধবার কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে কুরআন পাওয়ার পর ওই ঘটনার জের ধরে কুমিল্লা, চাঁদপুরসহ দেশের ২৩ জেলায় মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলা চালায় ধর্মীয় উগ্রবাদীরা। সহিংসতায় এ পর্যন্ত ছয়জনের প্রাণ হারানোর খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু এ ঘটনায় মুখে কুলুপ এঁটেছেন তৃণমূল রাজনীতিবিদরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর হুঁশিয়ারির পরও ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সেভাবে সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়াননি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর স্থানীয় রাজনীতিবিদরা সতর্ক হলে জল এত দূর গড়াত না। কুমিল্লার ঘটনার পর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থান নিয়ে হামলাকারীদের প্রতিরোধে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি অন্য রকমও হতে পারত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোথাও কোনো সম্প্রীতি সমাবেশ করেননি কেউ। পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেনি। কুমিল্লার ঘটনার পর তাদের সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কেউ সতর্ক ছিলেন না। স্থানীয় নেতাকর্মীরা কেউই সংখ্যালঘুদের পাশে নেই। কোথাও প্রতিবাদ মিছিল পর্যন্ত হয়নি। হামলাকারীদের প্রতিরোধে কেউ মাঠে ছিলেন না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মেয়র, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর কেউ মাঠে নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি ধর্মান্ধ গোষ্ঠী সবসময় তৎপর থাকে।

রাজনৈতিকভাবেই এদের মোকাবিলা করতে হয়। স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীরা মাঠে থাকলে বিভিন্ন স্থানের ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল। জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ভোরের কাগজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশনার পর তৃণমূল আওয়ামী লীগকে অনেক বেশি সতর্ক থাকা উচিত ছিল। তাহলে দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।

কঠোর কেন্দ্র, গা ছাড়া ভাব তৃণমূলের : হামলার সঙ্গে সঙ্গেই দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যেখানে যেখানে যারাই এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটাবে সঙ্গে সঙ্গে তাদের খুঁজে বের করা হবে। আমরা অতীতেও করেছি এবং ভবিষ্যতে আমরা করতে পারব এবং যথাযথ শাস্তি তাদের দিতে হবে। এমন শাস্তি যেন ভবিষ্যতে আর কেউ সাহস না পায় সেটাই আমরা চাই। কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও। বিসর্জনের পরও এসব ঘটনার রেশ থাকতে পারে- এমন আশঙ্কা করে সতর্ক পাহারায় থাকার কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশের প্রশাসনকে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উসকানিমূলক তৎপরতা ও ষড়যন্ত্রমূলক দুরভিসন্ধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে কাদের বলেন, সবাই সতর্ক অবস্থানে থাকবে। দেশের উন্নয়নে যাদের গাত্রদাহ, সারাদেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনের কারণে যাদের গাত্রদাহ, তারা দেশকে পিছিয়ে দিতে চায় নানা অপকৌশলে। এর একটি হলো হিন্দু-মুসলমান বৈরিতা সৃষ্টি করা। উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী দেশের শান্তি বিনষ্ট করার পাঁয়তারা করছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের নেতৃত্বে গতকাল নোয়াখালী পরিদর্শনে যায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল। বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলার শিকারে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির পরিদর্শন করেন তারা। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, এ ঘটনা সুপরিকল্পিত। ধর্মান্ধ ও ধর্ম ব্যবসায়ী রাজনৈতিক চক্র এ অপকর্ম করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র করছে।

তবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কঠোর অবস্থানে থাকলেও গা ছাড়া ভাব তৃণমূলের। দলীয় প্রধানের নির্দেশনার পরও আওয়াজ নেই কোথাও। এমনকি কোথাও আওয়ামী লীগের ব্যানারে কোনো প্রতিবাদ সমাবেশ, মিছিল অনুষ্ঠিত হয়নি। চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারি দুলাল ভোরের কাগজকে বলেন, এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা সতর্ক রয়েছি। পূর্ব পরিকল্পিত হামলা হওয়ায় আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। প্রতিবাদ করেছেন কিনা এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, সুসংগঠিত প্রতিবাদ করেছি। তবে মিছিল, সমাবেশ করিনি।

মাঠে নেই বিএনপি: এই ইস্যুতে কোথাও নেই বিএনপি। না আন্দোলনের মাঠে, না সংখ্যালঘুদের পাশে। কোথাও নেই সাবেক এই বিরোধী দলটি। বরাবরের মতোই এবারের হামলাও ক্ষমতাসীনদের অভিযোগের তীর বিএনপি-জামায়াতের দিকে তাক করা হলেও এ ব্যাপারে সরকারকেই পাল্টা দোষারোপ করেন বিএনপি নেতারা। এমনকি ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও আক্রান্ত এলাকাগুলো পরিদর্শনে যাননি বিএনপি কোনো কেন্দ্রীয় নেতা। স্থানীয় নেতারাও নেই আক্রান্তদের পাশে। বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ মিছিল হয়নি। জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান ভোরের কাগজকে বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ও স্থানীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি পালন করা হয়নি। হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর এমন আঘাতের বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা সহমর্মী।

মিছিলে-প্রতিবাদে বামপন্থিরা: কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে প্রতিবাদ মিছিল করেছে কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। ইতোমধ্যে পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে ঘটনাস্থল কুমিল্লা ও নোয়াখালী পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি এলাকা পরিদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির জন্য আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই দলকেই দায়ী করে তিনি বলেন, তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। ভোটাধিকার হরণ করেছে।

ডি-এফবি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়