ডিএনসিসি মেয়র কাপের ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন

আগের সংবাদ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সতর্ক থাকতে হবে

পরের সংবাদ

মেট্রোরেল : মহাসড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নে নতুন পালক

আ ফ ম মোদাচ্ছের আলী

লেখক ও গবেষক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২১ , ১:৫২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০২১ , ১:৫২ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বমানচিত্রে এগিয়ে যাওয়া একটি দেশের নাম বাংলাদেশ। নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুকন্যা। প্রতিনিয়তই যুক্ত হচ্ছে উন্নয়ন ও অগ্রগতির এক একটি উজ্জ্বল পালক। যার একটি রাজধানী ঢাকার মেট্রোরেল। কোটি মানুষের এই রাজধানীকে যানজট মুক্ত করতে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ সালে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জাপান সরকারের দাতা সংস্থা ‘জাইকা’র সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল বাংলাদেশ সরকার। প্রায় ২২০০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প। এর নির্মাণকাজ শেষ হবে এই বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর এটি জনবহুল ঢাকার যানজট নিরসনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্ত হবে আরেকটি নতুন পালক। চুক্তি অনুযায়ী জাইকা প্রকল্পটির ৮৫ শতাংশ অর্থ ১৬ হাজার ৯৫ কোটি টাকা দিয়েছে বিভিন্ন ধাপে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে ২০.১ কিলোমিটার এই রেলপথে ১৬টি স্টেশন থাকবে। উত্তরা থেকে পল্লবী হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত স্থাপিত এই রেলপথ প্রতি ঘণ্টায় ৮০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। যার প্রকৌশলী থেকে কর্মচারী সবাই নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত। রাজধানীতে শহরভিত্তিক নির্মাণাধীন রেল ব্যবস্থা হচ্ছে ঢাকা মেট্রো, যা ‘ম্যাস র?্যাপিড ট্রানজিট বা সংক্ষেপে এমআরটি নামে পরিচিত। ২০১৬ সালের ২৬ জুন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এমআরটি ৬-এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর এমআরটি-১ ও এমআরটি-৫ নামক দুটি নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এমআরটি-১ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ও নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত মোট ৩১.২৪ কিলোমিটার পথে মেট্রোরেল নির্মিত হবে। প্রকল্প ব্যয় ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এই পরিবহনে deicated power supply থাকবে, যা সাধারণত সেনা সদর, বঙ্গভবনে বা গণভবনে থাকে। জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিধায় এর backup power supply-এর জন্য নিজস্ব Power supply থাকবে। এই ট্রেনের সব গøাস বুলেট প্রæফ এবং কার্ড সিস্টেম ব্যবস্থা থাকবে। উদ্বোধনের পর থেকে এটি জাপান ও বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের যৌথ তত্ত্বাবধানে থাকবে। এর সর্বোচ্চ গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার।
২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে এই মেট্রোরেলের উদ্বোধন করার পরিকল্পনা আছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এই পরিবহনটির। অদূর ভবিষ্যতে রাজধানীর সীমানা পেরিয়ে দেশের বাণিজ্যিক চট্টগ্রামেও এই মহাসড়ক নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা সরকার নেবে- এটাই প্রত্যাশা।
মেট্রোরেল ব্যবস্থা চালু বাংলাদেশের মহাসড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নে অনন্য সংযোজন, বঙ্গবন্ধুর কন্যার সরকারের উন্নয়নের মুকুটে যুক্ত হবে নতুন পালক।
আ ফ ম মোদাচ্ছের আলী
লেখক ও গবেষক।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়