শুরুতেই সৌম্য-লিটনকে হারাল বাংলাদেশ

আগের সংবাদ

এমপিদের নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে যুক্তরাজ্য

পরের সংবাদ

বিশ্বকাপ মাতাবেন দুই নারী ধারাভাষ্যকার

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২১ , ১০:৩৪ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০২১ , ১০:৩৪ অপরাহ্ণ

ওমানে রবিবার জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আগামী ২২ অক্টোবর ওমানে বাছাইপর্বের ম্যাচ শেষে ২৩ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১২ দল নিয়ে পর্দা উঠবে সপ্তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসরের। এবারের আসরে মাঠের খেলা নিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখবেন ২১ জন ধারাভাষ্যকার। এর মধ্যে নারী ধারাভাষ্যকার হিসেবে মাঠে থাকবেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাতালি জার্মানোস ও ভারতের আনজুম চোপড়া।

তাছাড়া বিশ্বকাপের ধারাভাষ্যে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন আতহার আলী খান। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা জেতা অধিনায়ক ড্যারেন স্যামিও এবার ধরা দেবেন ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায়। তার সঙ্গে এবার মাইক হাতে কথা বলতে দেখা যাবে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার ডেল স্টেইন এবং ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় শেন ওয়াটসনকেও।

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুধু মাঠে নয়, ধারাভাষ্য কক্ষেও রীতিমতো তারার মেলা বসবে। পুরনো রথী-মহারথীদের সঙ্গে দেখা যাবে অতি সম্প্রতি ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়া অনেক তারকাকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে ২১ সদস্যের ধারাভাষ্য প্যানেল ঘোষণা করেছে আইসিসি। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আছেন আতহার আলী খান। ভারত থেকে আছেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনিল গাভাস্কার, মুরালি কার্তিক, হার্শা ভোগলে।

ইয়ান বিশপ, মাইক আথারটন এবং ড্যানি মরিসনের মতো জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকারদেরও দেখা যাবে বিশ্বকাপে। ২১ জনের ধারাভাষ্যকার টিমে আছেন স্কটল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার প্রিস্টন মমসেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব অ্যালান উইলকিন্স, বাজিদ খানদেরও এবারের বিশ্বকাপে ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করতে দেখা যাবে।

পুরুষদের বিশ্বকাপে নারী ধারাভাষ্যকার হিসেবে থাকছেন দুজন। আঞ্জুম চোপড়া এবং নাতালি জার্মানোস। আঞ্জুম চোপড়াকে তো এখন নিয়মিত বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত যে কোনো সিরিজে ধারাভাষ্য কক্ষে দেখা যায়। সম্প্রতি শেষ হওয়া নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশে ধারাভাষ্যকার হিসেবে ছিলেন ভারতের সাবেক এই ক্রিকেটার।

আনজুম চোপড়া ১৯৯৫ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভারতের জার্সি গায়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৪৪ বছর বয়সি এই প্রমিলা ক্রিকেটার ১২টি টেস্ট, ১২৭টি ওয়ানডে ও ১৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। অন্যদিকে নাতলি জার্মানোস ক্রিকেটার না হলেও দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নাতালি আফ্রিকাতে মূলত টেলিভিশন ও রেডিওতে সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি নারীদের খেলাধুলা নিয়ে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে কাজ করছেন।

২১ জনের ধারাভাষ্য প্যানেল : আতহার আলী খান, ইয়ান বিশপ, শেন ওয়াটসন, ডেল স্টেইন, সুনিল গাভাস্কার, ড্যারেন স্যামি, নাসের হুসাইন, আঞ্জুম চোপড়া, ড্যানি মরিসন, রাসেল আর্নল্ড, মার্ক নিকোলাস, নিয়াল ও’ব্রায়েন, হার্শা ভোগলে, মাইকেল আথারটন, নাটালি জার্মানোস, সাইমন ডউল, প্রিস্টন মমসেন, এমপুমেলেলো এমবাংওয়া, মুরালি কার্তিক, বাজিদ খান, অ্যালান উইলকিন্স।

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসর দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। ওমানে ১৭ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচ। এরপর ২৩ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলবে বিশ্বকাপের মূল পর্বের আয়োজন। ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সপ্তম টি-টোয়েন্টি আসর আয়োজিত হলেও টুর্নামেন্টটির মূল আয়োজক ভারত।

করোনা মহামারির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিকে বেছে নিয়েছে বিসিসিআই। এবারের আসরে সব মিলিয়ে প্রাইজমানি ধরা হয়েছে ৫৬ লাখ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১৬ লাখ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে রানার্সআপ দল পাবে ৮ লাখ ডলার। তবে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ না হলেও এই বিশ্বমঞ্চ থেকে খালি হাতে ফিরবে না কোনো দল। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া ১৬টি দলের প্রত্যেকেই পাবেন নির্ধারিত ৫.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি অংশ।

সেমিফাইনালে বিদায় নেবে যে দুদল তাদের জন্যও বড় অঙ্কই বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবার। ৪ লাখ ডলার করে পাবে বিদায়ী সেমিফাইনালিস্টরা। ২০১৬ বিশ্বকাপের মতোই এবারের আসরেও সুপার টুয়েলভে প্রতিটি ম্যাচে জয়ের জন্য থাকছে বোনাস অর্থ। এই রাউন্ডে বিজয়ী দল পাবে ৪০ হাজার ডলার। শুধু তাই নয় সুপার টুয়েলভ থেকে বিদায় নেয়া দলগুলোর জন্যও রয়েছে উপহার। বিদায়ী ৮টি দলের প্রত্যেকে ৭০ হাজার ডলার করে পাবে।

প্রথম রাউন্ড খেলা দলগুলোর জন্যও ভেবেছে আইসিসি। দুই টেস্ট সদস্য বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সহযোগী দেশ নামিবিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, ওমান, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ড দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে লড়বে এই রাউন্ডে। এই রাউন্ড থেকে বিদায় নেয়া চার দলের প্রত্যেকে ৪০ হাজার ডলার করে পাবে।

এদিকে বৃষ্টিবিঘ্নিত বা বিলম্বিত ম্যাচে ন্যূনতম ওভারের সংখ্যাও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে আইসিসি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বের খেলায় ডিএলএস মেথডে ফল পেতে অন্তত পাঁচ ওভার ব্যাট করতে হবে প্রত্যেক দলকে। যে কোনো টি-টোয়েন্টিতেই এমন নিয়ম। কিন্তু সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ফল কার্যকরে প্রত্যেক দলকে ব্যাট করতে হবে অন্তত ১০ ওভার করে আগের প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী।

পুরুষ ও নারীদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডিআরএস ব্যবহার করা হতো দ্বিপক্ষীয় সিরিজে অংশগ্রহণ করা দলের সম্মতিক্রমে। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডিআরএস প্রথম হলেও ২০১৮ সালে নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ছিল রিভিউ সিস্টেম। তাদের ২০২০ সালের বিশ্বকাপেও বহাল ছিল এই নিয়ম। অন্যদিকে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সর্বশেষ হয়েছিল ২০১৬ সালে। তখন টি-টোয়েন্টিতে ডিআরএসের ব্যবহার শুরু হয়নি।

রি-এসএস/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়