রাতে টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু

আগের সংবাদ

২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু

পরের সংবাদ

ফেনীতে প্রতিবাদের সময়েও সংঘর্ষ, আহত ৪০

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২১ , ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০২১ , ১০:০১ পূর্বাহ্ণ

ফেনীতে পূজা উদযাপন পরিষদের কর্মসূচিতে হামলার পর শহরে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। একাধিক মন্দির এবং হিন্দুদের মালিকানাধীন কিছু দোকানপাটে ভাঙচুর, যানবাহনে অগ্নিসংযোগের খবর শোনা গেছে।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে চারটা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত থেমে থেমে এই সংঘর্ষে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিনসহ ৪০ জন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশপাশের জেলা থেকে বাড়তি পুলিশ আনা হয়েছে, ভূমি অফিসে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শনিবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে ফেনী শহরের ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন ট্রাংক রোড এলাকায় জয়কালী মন্দিরের সামনে কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

ওই সময় পুলিশ মাঝামাঝি অবস্থান নিয়ে হামলাকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে এক দফা সংঘর্ষ বাঁধে। এরপর শহরের বড় বাজার, বড় মসজিদ, সেন্ট্রাল হাই স্কুল, তাকিয়া রোড ও কাঁচাবাজার এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

রাতে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরো শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এশার নামাজের পর জেলা ভূমি অফিসের নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ভূঁইয়া।

আহতদের মধ্যে ইনডিপেনডেন্ট টিভির ক্যামেরা পার্সন রিয়াদ মোল্লাও রয়েছেন।

দুর্গাপূজার মধ্যে কুমিল্লায় একটি মন্দিরে ‘কোরআন অবমাননার’ কথিত অভিযোগ তুলে হামলার পর থেকে গত কয়েকদিনে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুর ধারাবাহিকতায় ফেনীতে এ ঘটনা ঘটল।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ফেনী জেলা শাখার সভাপতি শুকদেব নাথ তপন বলেন, বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে মণ্ডপে হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বানে সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় ফেনী শহরের ট্রাংক রোডে জয়কালী মন্দিরের সামনে তাদের কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল।

পুলিশ বলেছিল সোয়া চারটায় আসরের নামাজের সময় শেষ হলে তখন মিছিল করা যাবে। সে অনুযায়ী বিকাল চারটা ৪০ মিনিটে মিছিলের প্রস্তুতি চলছিল। তখন ট্রাংক রোড বড় মসজিদের সামনে থেকে হামলা শুরু হয়।

তার ভাষ্য, মসজিদের এলাকায় আগে থেকেই লোক জড়ো হয়েছিল। তারা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে এবং ঢিল ছুঁড়তে থাকে।

পুলিশ তখন দুপক্ষের মধ্যে অবস্থান নেয় জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের পরামর্শে তারা কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে সেখান থেকে সরে যান।

পরে হামলাকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে জয়কালী মন্দিরে হামলা চালায় অভিযোগ করে তিনি বলেন, তারা ঢিল ছুঁড়তে ছুঁড়তে এসে মন্দিরের দুটি গেট ভেঙে ফেলে এবং ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। সেখানে থাকা পুলিশ তখন গুলি করে, তাতে হামলাকারীরা পিছু হটে যায়।

হামলাকারীদের নিক্ষেপ করা পেট্রোল বোমায় মন্দিরের আসবাবপত্র পুড়ে গেছে বলে জয়কালী মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন দাস জানিয়েছেন।

সন্ধ্যার পর দফায় দফায় সংঘর্ষ চলার সময়ে সেবাশ্রম চত্বরে রাখা একটি লেগুনায় আগুন দেওয়া হয়। আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি হামলার শিকার হন।

কারা ঘটিয়েছে এসব?

পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলার প্রতিবাদে যখন সরব হয়েছে দেশ, ঠিক সেই সময়েই এমন সাম্প্রদায়িক প্রতিহিংসার ঘটনা ঘটেছে। কারা এসব ঘটনার জন্ম দিয়েছে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু জানাননি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।

তবে র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেছেন, তৃতীয় একটি পক্ষ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আমরা তাদের প্রতিহত করেছি। তাদের কয়েকজনকে আমরা চিহ্নিত করেছি। গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।

ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনির হোসেন বলেন, সংঘর্ষের পর কিছু দোকানপাট ভাঙচুরের খবর আমরা পেয়েছি, সেটা নিয়ে কাজ করছি। আমাদের স্যারদের মিটিং চলছে, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়