ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ডেঙ্গু আক্রান্ত

আগের সংবাদ

জাতীয় জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু লোকশিল্প প্রদর্শনী

পরের সংবাদ

প্রতিমা বিসর্জনে দুই বাংলার হাজারো মানুষ

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২১ , ৯:৫৭ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০২১ , ৯:৫৭ অপরাহ্ণ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিনে প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে সীমান্তে জড়ো হয়েছিল দুই বাংলার হাজারো মানুষ। বিজয়া দশমীর উৎসব ভাগাভাগির পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে তারা নিজ নিজ সীমান্তে আসেন। মিলিত হন উৎসব আয়োজনে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সাঙ্গ হয় দুর্গোৎসব। দুই বাংলার বসবাসরত মানুষের মধ্যে উৎসবের পাশাপাশি অন্যরকম আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এপারে বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ সীমান্ত আর ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার করিমপুর থানার শীকারপুর সীমান্ত। দুই বাংলার মাঝে বিভাজন রেখা টেনে দিয়েছে পদ্মার শাখা মাথাভাঙ্গা নদী। প্রতি বছরেই হাজারো মানুষের ভিড় হয় এই মাথাভাঙ্গা নদীর দুই পাড়ে। শুধু এই সীমান্ত এলাকার মানুষজনই নন, ছুটে আসেন দূর-দূরান্তের বিভিন্ন এলাকার লোকজনও।

বছরে এই একবারই সীমান্তরক্ষীদের বিনা বাধায় দুই বাংলার হাজারো মানুষ মাথাভাঙ্গার দুই পাড়ে জড়ো হন। প্রতি বছরের মতো শুক্রবার বিকেলে তারা সীমান্তের নিজ নিজ অংশে অবস্থান নিয়ে উৎসব করেন। প্রতিমা বিসর্জন করেন। শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নন, মুসলমান ধর্মের লোকজনও নদী পাড়ে আসেন। উদ্দেশ্য, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করা। যদিও নির্দিষ্ট দূরত্বে থেকেই তারা শুধু চোখের দেখার সুযোগ পান। সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ নেই। মাথাভাঙ্গাকে মাঝখানে রেখে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকেন আর দূর থেকেই কুশলাদী বিনিময় করেন। তৈরি হয় অন্য রকম এক আবেগঘন দৃশ্য।

প্রতি বছর এই দিনের অপেক্ষায় থাকেন দুই বাংলার মানুষেরা। কবে আসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। সেই মোতাবেক দুর্গোৎসবের পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে শুধুমাত্র দেখা করতে পারেন তারা, সরাসরি কথা বলতে বা সামনা সামনি হতে পারেন না। সীমান্তের জিরো পয়েন্ট বা নোম্যান্স ল্যান্ডে এই দিনটিকে ঘিরে বিজিবি এবং বিএসএফের তৎপরতা অনেক বেশি লক্ষ্য করা যায়। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা কড়া নজরদারিতে রাখেন জড়ো হওয়া মানুষজনকে। তারা কেউ যেন নদী পেরিয়ে এপার-ওপার হতে না পারেন সেই জন্য সীমান্তরক্ষীদের খুবই সতর্ক দৃষ্টি থাকে।

একটি বিকেলকে ঘিরে দুই বাংলার মানুষজন আনন্দ উৎসবে মেতে থাকেন। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পূজামণ্ডপগুলো থেকে একে একে দেবী দুর্গাকে বিসর্জনের জন্য এই মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে নিয়ে আসা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দল বেধে ঢাকের তালে তালে নাচতে নাচতে প্রতিমা নিয়ে উপস্থিত হন। সীমান্তের প্রায় ২০টির মতো প্রতিমা মাথাভাঙ্গায় বিসর্জন করা হয়।

সূর্য যতো পশ্চিমে গড়াতে থাকে মাথাভাঙ্গা নদীর পাড়ে মানুষের উপস্থিতি তত কানায় কানায় পূর্ণ হতে থাকে। ঢাক ও নাচের তালেতালে প্রতিমা বিসর্জন দিতে কারা কখন আসবেন সে জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকেন সবাই। ঢাকের বাড়ি শুনলেই পূলকিত হয়ে ওঠেন তারা। প্রতিমাগুলো সন্ধ্যা লাগার আগেই এসে হাজির হয় মাথাভাঙ্গা নদীর পাড়ে। শেষ বিদায় জানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সন্ধ্যায় মাথাভাঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোউৎসব সাঙ্গ হয়। উৎসব শেষে দুই বাংলায় বসবাসরত আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নদী পাড়ে আসা মানুষজন ফের আগামী বছর মিলিত হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে ফিরে যান আপন ঠিকানায়।

রি-এসআরএস/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়