ওয়াসা কর্মচারী সমিতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আগের সংবাদ

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান ওয়ার্কার্স পার্টির

পরের সংবাদ

পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের নিন্দা সিপিবির

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২১ , ৬:১১ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০২১ , ৬:১১ অপরাহ্ণ

দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজাম-পে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি। শনিবার (১৬ অক্টোবর) চাল, ডাল, তেল, আটা, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম লাগামহীন বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিপিবি আহূত দেশব্যাপী ‘বিক্ষোভ সপ্তাহের প্রথম দিনে ঢাকার শান্তিনগর কাঁচাবাজারের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ-সমাবেশে দলটির পক্ষ থেকে এ নিন্দা জানান হয়।

সমাবেশে সিপিবির নেতারা বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া তো দূরে থাক, সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক অপশক্তির পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে হবে। সর্বত্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তার জন্য বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তির উত্থান ঘটাতে হবে।

সেলিম দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর ও ম-পে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, প্রশাসনের গাফিলতিতে এক শ্রেনীর সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মুক্তিযুদ্ধের মূল চারটি স্তম্ভের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ধুলিস্বাদ করতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের দর্শনের বদলে সরকার এখন মুক্তবাজার দর্শনের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করছে। সরকার তথা প্রশাসনকে আরো সতর্ক হওয়া উচিৎ ছিল। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

সেলিম দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বলেন, গণবিরোধী সরকার আর অবৈধ সিন্ডিকেটের যোগসাজশে একদিকে ভোক্তাদের পকেট কাটা হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদক কৃষক প্রতারিত হচ্ছে। অবৈধ ব্যবসায়ী-সিন্ডিকেট শুধু বাজার নয়, গণবিরোধী কর্তৃত্ববাদী সরকারকেও নিয়ন্ত্রণ করছে। গণবিরোধী সরকার লুটেরা, মুনাফাখোর, মজুদদারদের ‘পাহারাদার’ হিসেবে ব্যবসায়ী-সিন্ডিকেটকে রক্ষা করে চলেছে। সাধারণ মানুষের প্রতি ‘বিনা ভোটের সরকারের কোনো দায় নেই।

সিপিবি পল্টন থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক জলি তালুকদার, শান্তিনগর শাখার সম্পাদক ফারহান হাবিব প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, করোনার আঘাতে মানুষ যখন বিপর্যস্ত, তখন ‘দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার ধাক্কায় মানুষের জীবন চরম হুমকির মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যেই ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে সরকার আবারও ১২ কেজি সিলিন্ডারের এলপিজির দাম বাড়িয়েছে। দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে তীব্র লড়াই গড়ে তোলার পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বাণ জানান নেতারা।

সমাবেশ থেকে গরিব মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, গণবণ্টন ব্যবস্থা চালু, টিসিবির কার্যক্রম জোরদার করা, ন্যায্য মূল্যের দোকান চালু, ‘বাফার স্টক’ গড়ে তোলা, অবৈধ ব্যবসায়ী-সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া, লুটেরা-মজুদদার-মুনাফাখোর-মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শান্তিনগর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়