লঙ্কায় প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ টাইগার যুবারা

আগের সংবাদ

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের টার্গেট কী

পরের সংবাদ

নেপালের প্রথম না ভারতের অষ্টম

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ১০:৫৯ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচ দেশের মধ্যে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। শিরোপার লড়াইয়ে শনিবার মালদ্বীপ জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের মুখোমুখি হবে নেপাল। সাফের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে হিমালয়ের দেশ নেপাল। এবারের আসরে দুর্দান্ত খেলা কিরণ চেমজংরা চাইবেন শিরোপা জিতে ইতিহাসে নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে। অন্যদিকে সাফে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত চাইবে সুনীল ছেত্রীর নেতৃত্বে অষ্টম শিরোপা অর্জন করে নিতে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা হবে শিরোপার মালিক, তা বলে দেবে মাঠের লড়াই। এর আগে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে রেফারির ভুল সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ বিদায় নেয় আসর থেকে। শ্রীলঙ্কা বিদায় নেয় আসরটিতে জ্বলে উঠতে না পেরে। মালদ্বীপ ড্র করলেও ফাইনাল খেলবে, এমন সমীকরণেও ভারতের বিপক্ষে হেরে নিজেদের ঘরের মাঠে আসর থেকে বিদায় নেয়।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বিশ্বকাপের সমতুল্য। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ১৯৯৩ সাল থেকে ফুটবলের এ প্রতিযোগিতা চলে আসছে। টুর্নামেন্টের প্রথম থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে আসছে ভারত। এখন পর্যন্ত ১২টি আসরের মধ্য ৭টি আসরের ট্রফিই জিতেছে ভারত। এবার তারা অপেক্ষা করছে অষ্টম শিরোপা জয়ের। সাফে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দুটি শিরোপা জিতেছে মালদ্বীপ। শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ জিতেছে একটি করে। এখন পর্যন্ত শিরোপা ঘরে তুলতে পারেনি পাকিস্তান, ভুটান ও নেপাল। তবে নেপালের সামনে এবার সুযোগ এসেছে ট্রফিখরা কাটানোর। তবে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে সেটা অনেক কঠিনই হবে তাদের জন্য। কারণ আসরে রাউন্ড রবিন পর্বে ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল দেশটি। সেই ম্যাচে ৮২তম মিনিটে সুনীল ছেত্রীর একমাত্র গোলে হেরেছিল নেপাল। তাই ফাইনালে তাদের জিততে হলে নবযুগ শ্রেষ্ঠাদের প্রথম লক্ষ্য থাকতে হবে ছেত্রীকে আটকানো।

ভারতও অবশ্য চুপসে থাকবেন এমন নয়। আসরের শুরুতে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ড্র করে আসর থেকে ছিটকে পড়ার সংশয় থাকলেও শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ায় সাতবারের চ্যাম্পিয়নরা। পর পর নেপাল ও মালদ্বীপকে হারিয়ে দলটি পৌঁছে যায় টুর্নামেন্টের ফাইনালে।

এদিকে পরিসংখ্যান বলছে সাফের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে নেপালের জয়ের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এখন পর্যন্ত ভারত ও নেপাল পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে ২২টি আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে। এর মধ্যে ভারতের জয় ১৫ ম্যাচে আর ড্র ৫ ম্যাচে। বাকি দুই ম্যাচ জিতেছে হিমালয়ের দেশটি। নেপাল ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ জয় পেয়েছে ২০১৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। এরপর আরো আট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দলের মধ্যে। দুটি ড্রয়ের বিপরীতে বাকি ছয় ম্যাচই জিতেছে ভারত।

এদিকে এবারের আসরে বাংলাদেশ দলের প্রত্যাশা ছিল ফাইনাল খেলা। সে লক্ষ্যের দ্বারপ্রান্তেও ছিল জামালরা। রাউন্ড রবিন লিগে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ও ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছিল। অবশ্য মালদ্বীপের বিপক্ষে ছন্নছাড়া ম্যাচে তপু বর্মনরা হেরেছিল ২-০ গোল ব্যবধানে। তারপরেও বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল ফাইনাল খেলার। প্রতিপক্ষ আসরের দুর্দান্ত খেলা নেপাল হলেও আশাবাদী ছিল বাংলার ছেলেরা। আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ ম্যাচের নবম মিনিটে গোল করে ম্যাচের ৮০তম মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল। কিন্তু শেষ দিকে নিজেদের ভুলে গোলরক্ষক জিকোর লাল কার্ড ও রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের বিপক্ষে পেনাল্টি ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেয়। ১-১ গোলে ড্র করলেও বাংলাদেশ দল পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় ছিটকে যায় আসর থেকে। তবে ম্যাচে জয় পেলে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা পৌঁছে যেতে পারতেন ফাইনালে। প্রায় ১৬ বছর পর জামালদের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভঙ্গ হলো রেফারির ভুল সিদ্ধান্তে ম্যাচের কয়েক মিনিট বাকি থাকতে। এর আগে বাংলাদেশ শেষবার ফাইনাল খেলেছিল ২০০৫ সালে ভারতের বিপক্ষে। সেবার ২-০ গোলে হেরে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা সাফে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা জয় হতে বঞ্চিত হয়েছিলেন। এর আগের আসর, ২০০৩ সালে সাফের ফাইনালে ট্রাইব্রেকারে ৫-৩ গোল ব্যবধানে মালদ্বীপকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। আর ১৯৯৩ সাল থেকে যাত্রা করা সাফের ফাইনালে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা প্রথমবার খেলেছিলেন ১৯৯৩ সালে। সেবার ভারত তাদের নিজের ঘরের মাঠে ২-০ গোল ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশকে। তবে নেপালের বিপক্ষে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের হার সাফের ফাইনালে খেলার অপেক্ষা আরও বাড়াল।

আর- এস / ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়