জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে প্রতিমা বিসর্জন

আগের সংবাদ

চৌমুহনীতে হাজারখানেক পূজামণ্ডপে হামলা

পরের সংবাদ

ধনী দেশগুলোতে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে কার্বন নিঃসরণ

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ১০:৩৮ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০২১ , ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণ রোধে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু দেখা গেছে, বিশ্বের ধনী দেশগুলো থেকে এর নিঃসরণের হার দ্রুতগতিতে বাড়ছে। নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের ২০টি ধনী দেশে কার্বন নিঃসরণের হার বেড়েই চলেছে। খবর বিবিসির

‘দ্য ক্লাইমেট ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধনী ও উন্নত দেশগুলোর জোট জি-টোয়েন্টি’র সদস্যদের মধ্যে চলতি বছর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের নির্গমন ৪ শতাংশ বাড়বে। ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে এই হার ৬ শতাংশ কমেছিল। চীন, ভারত ও আর্জেন্টিনাও তাদের ২০১৯ সালের নির্গমন মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে।

এ প্রসঙ্গে গবেষকেরা বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির অব্যাহত ব্যবহার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে হ্রাস করছে।

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠেয় জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন কপ-২৬ এর দুই সপ্তাহ বাকি। সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য হলো, তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টিকে নাগালের মধ্যে রাখার পদক্ষেপ নেওয়া।

প্রাক-শিল্পযুগের তুলনায় বর্তমানে বিশ্ব এক দশমিক এক ডিগ্রি বেশি উষ্ণ। ক্রমবর্ধমান উষ্ণতা বৃদ্ধিকে সীমাবদ্ধ রাখাটা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ধনী দেশগুলোর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তথ্য উঠে আসেনি।

১৬টি গবেষণা সংস্থা ও পরিবেশগত গোষ্ঠীর তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে জি-টোয়েন্টি দেশগুলোতে কয়লার ব্যবহার এ বছর পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য দায়ী থাকবে চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতেও কয়লার ব্যবহার বাড়ছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে জোরেশোরে এগোতে থাকায় চীনে জ্বালানি চাহিদা বেড়েছে। তাই সেখানে কয়লার ব্যবহারও বাড়তে দেখা গেছে। সঙ্গে বেড়েছে দামও। গত বছরের তুলনায় কয়লার দাম ২০০ শতাংশ বেড়েছে।

ক্লাইমেট ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত জি-টোয়েন্টি দেশগুলোতে গ্যাসের ব্যবহার ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

রাজনৈতিক নেতারা কোভিডের ধাক্কা থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সবুজের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ধনী দেশগুলো বাস্তবে সে পথে হাঁটেনি। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে যে ১৮০ কোটি ডলার খরচের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে মাত্র ৩০ কোটি ডলার সবুজ প্রকল্পের জন্য রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ধনী দেশগুলোতে সৌর এবং বায়ুশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে এসেছে। গত বছর জি-টোয়েন্টি দেশগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। ২০২০ সালে যেখানে পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ছিল ১০ শতাংশ, তা এ বছর ১২ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিকভাবেও জি-টোয়েন্টি গ্রুপগুলোতে কার্বন নিঃসরণ কমানো নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জি-টোয়েন্টি-এর অধিকাংশ দেশ এ শতকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যের বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। গ্লাসগো সম্মেলনের আগেই এ জোটের সব সদস্য ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন কার্বন পরিকল্পনা গ্রহণে সম্মত হয়েছেন। তবে চীন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও সৌদি আরব এ নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

ব্রিটেনের রানির ক্ষোভ

ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথ বলেছেন, যেসব বিশ্বনেতা জলবায়ু নিয়ে বাগাড়ম্বর করেন কিন্তু সংকট মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ নেন না, তাদের ওপর তিনি বিরক্ত। রানি বলেন, তিনি গ্লাসগো সম্মেলনে অংশ নেবেন। কিন্তু সম্মেলনে কারা আসবেন, সে সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি।

রানি আরও বলেন, যারা আসছেন না, আমরা কেবল তাদের বিষয়ে জানি। তারা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেন। কিন্তু তারা এ নিয়ে পদক্ষেপ নেন না। এটা সত্যিই বিরক্তিকর।’

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়