সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র

আগের সংবাদ

সৌম্য সরকার চান নিজেকে নতুন করে চেনাতে

পরের সংবাদ

ইসি গঠনে স্বতন্ত্র আইন চায় ইসলামী দলগুলোও

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ
ফাইল ছবি

পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বিদায় নিচ্ছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দুই বছর পর দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন। এর আগে নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়ার জন্য সরকারের হাতে আর মাত্র চার মাস সময় রয়েছে। কারণ আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি বিদায় নিচ্ছে বর্তমান ইসি। তাই নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ নিয়ে সংবিধানে আইন প্রণয়নের আবশ্যকতা থাকলেও তা এখনো হয়নি। এ অবস্থায় জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন, শক্তিশালী, কার্যকর এবং অর্থবহ নির্বাচন কমিশন গঠনে সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নের ওপর জোর দেয় ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো।

এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর চরমোনাই বলেন, সুস্থ ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি এ দেশে এখনো গড়ে ওঠেনি। ফলে বাস্তবতা হচ্ছে নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার না হলে কোনো নির্বাচন কমিশনের পক্ষেই অবাধ ও সব মহলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। এ জন্য নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আলোচনার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে তা নিয়ে আলোচনা করা। আক্ষেপ করে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, বড় রাজনৈতিক দলগুলো মুখেই শুধু গণতন্ত্রের চটকদার স্লোগান দেয়; আর ক্ষমতায় গিয়ে তারা সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়। গত দুটি জাতীয় নির্বাচনে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। আগামীতেও এর পুনরাবৃত্তি ঘটুক আমরা তা চাই না। আমরা চাই দেশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হোক, যাতে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে।

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী বলেছেন, এবারের নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেয়ার জন্য বড় ধরনের ‘অগ্নিপরীক্ষা’। এ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে অতীতের মতো দেশে রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধীদল উভয়পক্ষকেই সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন, শক্তিশালী, কার্যকর এবং অর্থবহ নির্বাচন কমিশন গঠনের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্য নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনব্যবস্থায় যে গলদ রয়েছে তা-ও দূর করতে হবে। এছাড়া নির্বাচনব্যবস্থায় সংস্কার আনতে সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিশন গঠনে দ্রুত একটি স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে দুটি কমিশনই গঠিত হয়েছে সার্চ কমিটির মাধ্যমে। যদিও এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোনো কোনো দল দ্বিমতও পোষণ করছে। তাই নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিশন গঠনই বেশি ফলপ্রসূ হবে। আগামী নির্বাচনে মানুষ যাতে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা নিশ্চিতে এটি খুবই জরুরি।

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, দেশ-জাতিকে সুসংহত করতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন একান্ত জরুরি। তাই ইমানদার-আমানতদারদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। যাদের সৎ সাহস ও মেরুদণ্ড থাকবে। দক্ষ, নিরপেক্ষ, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি আইন করা আবশ্যক। সার্চ কমিটির মাধ্যমেও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে সরকারকে তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে এবং সার্বিক সহযোগিতা করতে হবে। এছাড়া সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে চাইলে সব পক্ষের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে অবশ্যই একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। তাহলেই জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে।

এদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেছেন, জনগণ এমন একটি নির্বাচন কমিশন চায়, যে কমিশন গঠিত হবে সৎ, নিরপেক্ষ, সবার আস্থাভাজন, নির্ভরযোগ্য ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদের দিয়ে। গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও নির্বাচনে সঠিকভাবে জনমত প্রতিফলিত হওয়া নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের প্রধানতম চ্যালেঞ্জ। সংগত কারণেই সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানকে যত নিখুঁতভাবে সাজানো যায় ততই মঙ্গল। মাওলানা আফেন্দী বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সর্বাঙ্গীন সুন্দর করতে হলে এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চত করতে চাইলে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে ভালো একটা নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। সংবিধানের আলোকে আইনের মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশন গঠন হবে। এতে নির্বাচন কমিশন গঠনে স্থায়ী সমাধান হবে। সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন করার বাধ্যবাধকতা আছে। প্রতি পাঁচ বছর পর রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেন। এতে নানাবিধ সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তাই নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল এবং এ বিষয়ে সিভিল সোসাইটির বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য একটি আইন প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

রি-এসএমএম/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়