ইন্টার মিলান কেনার ছক কষছেন সৌদি যুবরাজ

আগের সংবাদ

কুমিল্লার ঘটনায় নবীগঞ্জের পূজামণ্ডপে হামলা, ওসিসহ আহত ২০

পরের সংবাদ

শুক্রবার ফাইনালে জ্বলে উঠবেন সাকিব!

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২১ , ১১:৩৪ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০২১ , ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

আইপিএলে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারিয়ে ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করেছে সাকিবের কলকাতা নাইট রাইডার্স। সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা আছে মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় ফাইনাল ম্যাচে শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে লড়াই করবে দুদল। এদিন কলকাতা-চেন্নাইয়ের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে তা নতুন করে বলার কিছু নেই। তাছাড়া শক্তির দিক থেকে দুদলই এগিয়ে আছে।

তবে আইপিএলে গত ১৩ আসরে সবচেয়ে বেশি ফাইনালে খেলার ও শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা আছে ধোনিদের। শুক্রবার নবম ফাইনালের অপেক্ষায় থাকা চেন্নাই আগের আট ফাইনালের ম্যাচে হেরেছে পাঁচটিতে। আর ২০১০ সালে মুম্বাই, ২০১১ সালে ব্যাঙ্গালুরু ও ২০১৮ সালে হায়দারাবাদের বিপক্ষে জিতে তিনবার শিরোপা ঘরে তুলেছে ধোনি বাহিনী। এবার আইপিএলে ১৪তম আসরে তাদের লক্ষ্য চতুর্থ শিরোপা জয় করা। আর গত ১৩ আসরে দুবার ফাইনাল খেলে দুবারই শিরোপা জিতেছে কলকাতা। তারা ২০১২ সালে চেন্নাই ও ২০১৪ সালে পাঞ্জাবের বিপক্ষে জিতে দুবার শিরোপার স্বাদ নিয়েছে। এমনকি ওই দুই আসরে খেলেছেন বিশ^সেরা অলরাউন্ডার সাকিব। শুক্রবার তৃতীয় শিরোপার সন্ধানে ধোনির দলের বিপক্ষে খেলবেন ইয়ন মরগানরা। তবে যাইহোক সময় বলে দেবে ফাইনালে কে শেষ হাসি হেসে শিরোপা ঘরে তুলবে।

এদিকে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ব্যাট-বল হাতে চমক দেখাতে পারেনি সাকিব। উইকেটবিহীন ৪ ওভারের পর ব্যাট হাতে ফেরেন শূন্য রানে। কিন্তু ভিন্ন একটি কারণে প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন সাকিব। দিল্লির শিখর ধাওয়ানের ক্যাচ লুফে নিয়ে ‘ভিভো পারফেক্ট ক্যাচ অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার পেয়েছেন বিশ^সেরা অলরাউন্ডার। খেতাবটির পুরস্কার স্বরূপ এক লাখ রুপি পেয়েছেন সাকিব। তাছাড়া ক্রিকেট মাঠে ব্যাট-বল হাতে সাকিবের দাপট নতুন কিছু নয়। তিনি মাঠে নামেন ক্রিকেটপ্রেমীদের নতুন কিছু উপহার দেয়ার জন্য। সাকিবের বিকল্প খুঁজে পাওয়া মুশকিল তা, আরো একবার প্রমাণ পাওয়া গেল ভারতের জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আইপিএলে। কিন্তু আরব আমিরাতে এ টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় অংশে সাকিবের কিছুতেই জায়গা হচ্ছিল না একাদশে। শেষ পর্যন্ত আন্দ্রে রাসেলের চোটই তার ভাগ্য খুলে দিয়েছে। যার কার্যকারিতা প্রমাণ করেন তিন ম্যাচেই।

৯ ম্যাচ পর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে প্রথম একাদশে ডাক পান সাকিব। ওই ম্যাচে ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২০ রান খরচায় ১ উইকেট শিকার করেন। কিন্তু ব্যাট করতে হয়নি তাকে। কারণ আগেই জিতে যায় তার দল কলকাতা। ওই ম্যাচে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে দুর্দান্ত থ্রোয়ে রানআউট করেন সাকিব। এরপর বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বাঁচা-মরার ম্যাচে রাজস্থানের বিপক্ষেও দুর্দান্ত খেলেছেন। এক ওভার বল করে ১ রান দিয়ে প্রতিপক্ষের প্রথম উইকেট নেন। জয়দেব উনারকাটের ক্যাচও ধরেন।

এছাড়া দারুণ থ্রোতে চেতন সাকারিয়ার রান আউটে রাখেন অবদান। এর ফলে রাজস্থানকে ৮৬ রানে হারিয়েছে কলকাতা। এমনকি গত সোমবার (১১ অক্টোবর) এলিমিনেটর ম্যাচে ব্যাঙ্গালুরুকে হারানোয় দারুণ অবদান রেখেছেন সাকিব। তার ব্যটিং-বোলিংয়ে ভর করে ৪ উইকেটের জিতেছে কলকাতা। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ৪ ওভারে ২৪ রান খরচ করে উইকেট শূন্য থাকলেও ব্যাট হাতে খেলেন ৯ রানের কার্যকরী ইনিংস।

মূলত দলের জয়সূচক রানও আসে সাকিবের ব্যাট থেকে। তবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ব্যাট-বল হাতে চমক দেখাতে পারেনি সাকিব। গত বুধবার (১৩ অক্টোবর) রাতে হাই ভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হয় দিল্লি ও কলকাতা। টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কেকেআর অধিনায়ক এউইন মরগান। কলকাতার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দিল্লি দ্রুত রান তুলতে ব্যর্থ হয়। নির্ধারিত ২০ ওভার ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রানের লক্ষ্য দেয় দিল্লি। দলটির পক্ষে ৩৯ বলে সর্বোচ্চ ৩৬ রান আসে শিখর ধাওয়ানের ব্যাট থেকে। তিনি সাজঘরে ফেরেন সাকিবের দুর্দান্ত ক্যাচে।

এর ফলে বাংলাদেশি অলরাউন্ডারের ভূয়সী প্রশংসা করেন কেকেআরের চিফ মেন্টর মাইক হাসি। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ফাইনাল ম্যাচেও আমরা সাকিবকে পাচ্ছি। আশা করি সবাই ফাইনাল ম্যাচের জন্য থাকবেন। গত কয়েক ম্যাচে সাকিব দলকে অনেক কিছু দিয়েছে। দুটি জয়ে দলে বড় অবদান রেখেছে। সে একজন গুণী খেলোয়াড়।

দিল্লির ১৩৫ রানে লক্ষ্যে খেলতে নেমে সহজ করে ফেলা ম্যাচটি হঠাৎই যেন কঠিন হয়ে যায়। শেষ ২৪ বলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দরকার ছিল শুধু ১৩ রান। ওই ম্যাচে কিনা শেষ ওভারের সমীকরণ দাঁড়ায় ৭ রানে। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল এই রানও নিতে পারবে না কলকাতা।

অশ্বিনের করা শেষ ওভারের প্রথম চার বল থেকে তারা নিতে পেরেছিল মাত্র ১ রান। হারায় সাকিব ও নারিনের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। কিন্তু পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে কলকাতাকে ফাইনালে নিয়ে যান রাহুল ত্রিপাঠি।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়