রোমানিয়া নেবে ৪০ হাজার শ্রমিক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আগের সংবাদ

ফাইনালে আবাহনী

পরের সংবাদ

প্রস্তুতি পর্বে বিবর্ণ টাইগাররা

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২১ , ৯:২৪ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০২১ , ৯:২৪ অপরাহ্ণ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসরের বাছাইপর্বে আগামী ১৭ অক্টোবর মাঠে নামছে বাংলাদেশ। বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচে টাইগাররা খেলবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। বাছাইয়ে নামার আগে টাইগাররা শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুটি ম্যাচেই হেরে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) নিজেদের দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ১৭৭ রান করে আইরিশরা। জবাবে ২০ ওভার খেলে ১৪৪ রান করে অলআউট হয় টাইগাররা। আবুধাবির শেখ আবু জায়েদ স্টেডিয়ামের নার্সারি-২ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ম্যাচটি।

এর আগে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০ ওভার খেলে ৭ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৪৭ রান করতে সমর্থ হন মুশফিক-লিটনরা। যে রান শ্রীলঙ্কা এক ওভার ও চার উইকেট হাতে রেখে টপকে যায়। আবুধাবির টলারেন্স ওভালে হয় এ ম্যাচটি। দুটি পিচই ছিল ব্যাটিং সহায়ক। কিন্তু এর একটিতেও ১৫০ রান পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। যা বাছাইয়ের আগে বাংলাদেশের জন্য অসন্তোষজনকই। যদিও এ ম্যাচটিতেও খেলেননি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে দলে ফিরেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু তিনি বোলিংয়ে জ্বলে উঠতে পারেননি। আইপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করার পর তিনি দলে যোগ দেন। কিন্তু গতকাল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে চার ওভার বল করে ৪০ রান দিয়ে কোনো উইকেট তুলে নিতে পারেননি তিনি। তবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ থাকলেও দলে তা কেমন প্রভাব পড়ত তা হয়তো খেললে বোঝা যেত।

এদিকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ৩ ওভারেই ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ম্যাচের অধিনায়ক লিটন দাস ১, আরেক ওপেনার নাইম শেখ ৩ ও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৪ রান। চতুর্থ উইকেটে ৩৭ রান যোগ করেন সৌম্য ও আফিফ হোসেন ধ্রুব।

অষ্টম ওভারের পঞ্চম বলে দলীয় ৫২ রানে আউট হওয়ার আগে আফিফ করেন ১৬ বলে ১৭ রান। আগের ম্যাচে অলরাউন্ড পারফর্ম করা সৌম্যর ব্যাট থেকে আসে এক চার ও দুই ছয়ের মারে ৩০ বলে ৩৭ রান। এরপর ব্যর্থ হন শামীম পাটোয়ারীও। ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরের পথ ধরার আগে ৭ বল খেলে মাত্র ১ রান করেন তিনি। ইনিংসের ১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৯৬ রান। সেখান থেকে দেড়শ রানের কাছাকাছি যাওয়ার মূল কৃতিত্ব নুরুল হাসান সোহানের।

এ উইকেটরক্ষক ব্যাটার ছয়টি চারের মারে ২৪ বলে করেন ৩৮ রান। আর শেষদিকে তাসকিন আহমেদ ১১ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকলে বাংলাদেশের ইনিংস পৌঁছায় ১৪৪ রানে।

এ ছাড়া মেহেদি হাসান ৯, নাসুম আহমেদ ০ ও মোস্তাফিজুর রহমান করেন ৭ রান। আয়ারল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন মার্ক এডায়ার। এছাড়া জশ লিটন ও ক্রেইগ ইয়ংয়ের শিকার একটি করে উইকেট।

এর আগে টস জেতা আইরিশদের হয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে টাইগার বোলারদের বড় পরীক্ষা নিয়েছেন গ্যারেথ ডিলানি। তিনে নেমে খেলেছেন অপরাজিত ৮৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। তার এই ইনিংসেই বড় রান সংগ্রহ করতে সমর্থ হয় আইরিশরা। দলে ফিরেই খরুচে বোলিং করা মোস্তাফিজুর রহমানের মতো খরুচে বোলিং করেছেন পেসার শরিফুল ইসলাম এবং স্পিনার নাসুম আহমেদও। ৩ ওভার হাত ঘুরিয়ে নাসুম পল স্টার্লিংয়ের উইকেট পান বটে, তবে ওভারপ্রতি ১১ করে রান দিয়েছেন ৩৩। ৪ ওভারে রান দিয়েছেন ৪১। তিনিও কোনো উইকেট তুলে নিতে পারেননি।

ম্যাচটিতে বাংলাদেশের সফলতম বোলার পেসার তাসকিন আহমেদ। ২৬ রানে তিনি নিয়েছেন দুই উইকেট। ইনিংসের প্রথম দুই বলে দুই চার হজম করা তাসকিনের শুরুটা ভালো না হলেও শেষটা হয়েছে দারুণ। আইরিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু বালবার্নি এবং জর্জ ডকরেলকে সাজঘরে পাঠান তাসকিন।

তবে বাকি বোলারদের ব্যর্থতায় আইরিশদের অল্পতে আটকানো যায়নি। স্টার্লিং ২২ এবং বালবার্নি ২৫ করে ফেরার পর আয়ারল্যান্ডকে একাই টানেন ডিলানি। ৩৩ বলে অর্ধশতক পূরণ করার পর আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকেন তিনি। শেষ ১৭ বলে ৩৮ রান আসে তার ব্যাট থেকে। হ্যারি টেক্টর খেলেন ২৩ বলে ২৩ রানের মন্থর ইনিংস।

আর- ই / ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়