শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ‘আগস্ট ১৯৭৫’ চলচ্চিত্রটি দেখানোর নির্দেশনা

আগের সংবাদ

তাইওয়ানকে ‘পুনরায় একত্রীকরণে’ বল প্রয়োগ করতে হবে না: পুতিন

পরের সংবাদ

ইউপি নির্বাচন

নাসিরনগরে মন্দির হামলায় ২ অভিযুক্তের মনোনয়ন বাতিল

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২১ , ৮:৫০ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০২১ , ৯:০০ অপরাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দির ও হিন্দুপল্লীতে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দেওয়া মনোনয়ন অবশেষে বাতিল করা হয়েছে। গত বুধবার (১৩ অক্টোবর) রাতে তাঁদের মনোনয়ন বাতিল করে কেন্দ্রীয় আওয়ালী লীগ।

মনোনয়ন বাতিল হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন, দেওয়ান আতিকুর রহমান ও আবুল হাসেম। সদরে আবুল হাসেমের পরিবর্তে নতুন করে পুতুল রানী বিশ্বাস ও হরিপুরে আতিকুরের পরিবর্তে ওয়াসিম আহমেদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

আগের দিন গত মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নাসিরনগর উপজেলার সদর ও হরিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দেওয়ান আতিকুর রহমান ও আবুল হাসেম মনোনয়ন দিয়েছিল।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে নাসিরনগর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আতিকুর ও আবুল হাসেমসহ দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বুধবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ তাদের মনোনয়ন বাতিলের জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন, নাসিরনগর সদর ও হরিপুর বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান দুজনই মন্দিরে হামলার মামলার অভিযোগপত্রভূক্ত আসামী। তাঁদের মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছিল। তাঁরা প্রথমে মনোনয়ন পেলেও বুধবার রাতে তাঁদের মনোনয়ন বাতিল করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

জানা যায়, আতিকুর রহমান উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা। তিনি ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনার অন্যতম প্রধানহোতা। আবুল হাসেমও সদর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক। তিনি প্রয়াত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের ভাগনে। হামলার ঘটনার পর তাঁকে দল থেকে বহিস্কারের সুপারিশ করেছিল জেলা আওয়ামী লীগ।

থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় আতিকুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর ছবি পোস্টের জেরে নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ৮ মামলায় প্রায় ৩ হাজার জনকে আসামি করা হয়। ২০১৭ সালে ১১ ডিসেম্বর এসব মামলার একটিতে আতিকুর রহমান ও আবুল হাসেমসহ ২২৮জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় ‍পুলিশ। আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৩০-৩৫ ও বিএনপির ৬০-৭০ জন নেতা-কর্মী রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি দুপুরে ঢাকার ভাটারা এলাকা থেকে দেওয়ান আতিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। হামলার ঘটনায় আদালতে এ পর্যন্ত ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে একাধিক আসামী বলেছেন, আতিকুর রহমানের নির্দেশে এবং যোগান দেয়া অর্থেই ১৩ থেকে ১৪টি ট্রাক ভাড়া করা হয়। এসব ট্রাকে করে হরিপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দুর্বৃত্তদের উপজেলা সদরে নেয়া হয়। এর আগে আরেক অন্যতম হোতা যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আতিকুরের নাম বলেছেন। ট্রাক ভাড়ার টাকা দেওয়ার কথা দেওয়ান আতিকুরও পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়