যুদ্ধাপরাধ বিচারে স্থবিরতা

আগের সংবাদ

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের দাবি জাতীয় পার্টির

পরের সংবাদ

ইসি গঠনে আইনের দাবি জোরদার হচ্ছে

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২১ , ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০২১ , ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
ফাইল ছবি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সংবিধানের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামোর দাবি দিনে দিনে জোরদার হচ্ছে। ইসি গঠনে আইন চান দেশের বাম দলসহ সুশীল সমাজও। এদিকে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কে এম নূরুল হুদা কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগেই নতুন কমিশন গঠনের জন্য নানা ফোরামে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বাম দলগুলো চাইছে ইসি গঠনে সংবিধান প্রদত্ত ধারা অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামো। তাহলে নির্বাচন কমিশন নিয়ে যে নানামুখী বিরূপ মতামত তা কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে চাইছি ইসি গঠনের জন্য সংবিধানের ১১৮ ধারা অনুযায়ী একটি আইন প্রণয়ন করা হোক। কিন্তু দীর্ঘ ৫০ বছরেও কোনো দল এ আইনটি করেনি। এটা সত্যি দুর্ভাগ্য। এখন যদি সময় না থাকে তাহলে এবারো সার্চ কমিটির মাধ্যমে প্রতিটি দলের মতামত নিয়ে তাদের কাছ থেকে নাম নিয়ে সেখান থেকে সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে ইসি গঠন করা হোক। তবে আগামী পার্লামেন্টে নিশ্চয়ই এ বিষয়টি জোরেশোরে উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু মনে করেন, আইনমন্ত্রী ইচ্ছে করলে ইসি গঠনে একটি আইনি খসড়া দাঁড় করাতে পারেন, যা পার্লামেন্টে আলোচনায় আনা যেতে পারে, পাস না হলেও রাষ্ট্রপতির অর্ডিনেন্সের মাধ্যমে তা কার্যকর করা হোক, পরে পার্লামেন্টে পাস করা যাবে। এটি যদি বর্তমান সরকার করেন তাহলে এটা একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে। তিনি বলেন, এ আইনটি করতে এক মাসের মধ্যে সব নিবন্ধিত দলের কাছ থেকে আলোচনা করে বা লিখিত মতামত নিতে পারেন। তা থেকে তিনি একটা গ্রহণযোগ্য আইন তৈরি করে তা সংসদে পাস করাতে পারেন।

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায় না। দল নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে, তা সুনির্দিষ্ট আইন দ্বারা করতে হবে। তাই কমিশন গঠনে সব দলের মতামত নিয়ে একটা আইন করা জরুরি। এখন যে সার্চ কমিটি গঠন করে ইসি গঠিত হয় তা শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর মতামতের ভিত্তিতে হয়ে থাকে। এটা বদলাতে হবে। একেবারে দল নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের এখানে আনতে হবে। তিনি ভোট ব্যবস্থার পরিবর্তন করে ‘সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বকারী’ ভোট ব্যবস্থাপনার দাবি জানান।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সাংবিধানিকভাবে নির্দিষ্ট করে দিতে হবে কাদের নিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। সাংবিধানিক কমিটি আছে যেমন- বিচার বিভাগ, দুদকসহ যেসব সাংবিধানিক সংস্থা আছে তাদের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। তবে সব বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য আইন করার আহ্বান জানান তিনি।

বাসদ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, বিগত ৫০ বছরে একটা আইনি কাঠামো করাতে পারেনি। শুধু ইসি নয়, বিচারক নিয়োগের বিষয়েও আইনি কাঠানো করতে পারেনি। তিনি জানান, সব দলের মতামত নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসি গঠনে আইন তৈরি বিশেষ জরুরি, আর সেই আইনের আলোকে আমাদের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন সংগঠন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। গত ৪ অক্টোবরের বৈঠকে সুজনের পক্ষ থেকে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২১’ নামে একটি আইনের খসড়া উপস্থাপন করা হয়।

খসড়ায় নির্বাচন কমিশন নিয়োগের লক্ষ্যে প্রাক্তন একজন জ্যেষ্ঠতম প্রধান বিচারপতিকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। খসড়ায় আরো বলা হয়েছে, কমিশনে নিয়োগ দিতে ধারা ৪-এর অধীন যোগ্যতা ও গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে প্যানেল তৈরির লক্ষ্যে যোগ্যতা ও গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তিদের অনুসন্ধান করতে হবে। একই সঙ্গে কমিশনে নিয়োগ দিতে নাগরিকদের কাছ থেকে নাম আহ্বান করতে হবে। প্রাপ্ত নামগুলো থেকে কমিটি যাচাই-বাছাই করে ন্যূনতম পাঁচজন নারীসহ ২০ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা ও তাদের যোগ্যতা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন গণবিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করতে হবে। এরপর প্রাথমিক তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে অনুসন্ধান কমিটি গণশুনানির আয়োজন ও তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে সর্বসম্মতভাবে ন্যূনতম দুইজন নারীসহ সাতজনের একটি প্যানেল তৈরি করে রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেবে। রাষ্ট্রপতি তালিকা পাওয়ায় সাত দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন।

এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের সংবিধানের ধারাগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি নিয়ে কাজ করতে হবে। এর আগেও ২০১১ সালে আমরা একটি খসড়া প্রস্তাব করেছিলাম, দুঃখজনক হলেও এটি নিয়ে পরবর্তী সময় তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। আমাদের এমন একটি খসড়া আইন প্রণয়ন করা উচিত যেটি দূরদর্শী হবে, শুধু বর্তমান প্রেক্ষাপটে নয়।

ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ওকুপাইড এরিয়া বা দখলকৃত এলাকাকে সম্মান প্রদর্শন করেই এই কাজটি করতে হবে। অন্যান্য দেশের প্র্যাকটিসগুলো কীভাবে হচ্ছে আমরা সেবিষয়ে আবারো চিন্তা করতে পারি।

অনুসন্ধান কমিটিতে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি উল্লেখ না করে আপিল বিভাগ কর্তৃক মনোনীত একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বা বিচারপতির কথা বলেন ড. শাহদীন মালিক। কমিশনের কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে প্রথম চারজন নিয়োগ দিয়ে এক বছর পর আরেকজন কমিশনার নিয়োগ দেয়ার বিধান রাখা যেতে পারে। সৎ ও ন্যায়পরায়ণ এসব ক্যাটাগরিগুলো আইনে জটিল এবং পরিমাপযোগ্য না, এগুলো উল্লেখ না করে অভিজ্ঞতা আরো সুনির্দিষ্ট করা দরকার বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্যানেল নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংসদকে পাশ কাটানোর কোনো সুযোগ নেই। সরকার চাইলে এ রকম একটি আইন পাস করতে বেশি সময় লাগার কথা না। বর্তমানে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গঠিত সার্চ কমিটির মাধ্যমে জনগণকে ধোকা দেয়ার প্রক্রিয়া চালু হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা। সেলক্ষ্যে এ ধরনের একটি আইন হলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, আইনটি হতে হবে জনস্বার্থে- দলীয় বা কোটারি স্বার্থে নয় এবং এটি প্রয়োগও হতে হবে জনগণের স্বার্থে, যাতে কয়েকজন সৎ, নির্ভীক ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ পান।

বিচারপতি এম এ মতিন বলেন, অনুসন্ধান কমিটিতে বিচারপতিদের না আনাই ভালো। কারণ কমিটি নিয়োগ দেয়ার পর কমিশন ভালো না হলে বিচারপতিদের নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে। তাদের এই বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখাই উত্তম।

রি-এনআরআর/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়