নোয়াখালীতে পূজা মণ্ডপ ভাঙচুর, আটক চার

আগের সংবাদ

১৭৮ অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধ করল বিটিআরসি

পরের সংবাদ

ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা : জেলে সহায়তা না পেলে কার্যকর করা কঠিন

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২১ , ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০২১ , ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

অপেক্ষার পর হাসি ফুটে উপকূলীয় জেলেদের মুখে। সাগরে ধরা পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। ইলিশ ধরাকে কেন্দ্র করে জেলে পরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। ভাগ্য বদলে যায় জেলেদের। কিন্তু ভাগ্য বদলের জন্য কিছুটা নিয়ন্ত্রণও দরকার। এ বছর ৪ অক্টোবর মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান শুরু হয়েছে। চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত, অর্থাৎ মোট ২২ দিন। এ সময়টায় দেশের প্রায় ৩৮টি জেলায় ইলিশ শিকার সরকারিভাবে বন্ধ থাকবে। এ সময় জেলেরা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকলে বড় সাফল্য পাবে। জানা গেছে, ২০০২ সালে ইলিশ রক্ষার জন্য মা মাছ ও জাটকা ধরায় নিষেধাজ্ঞা এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর ফলস্বরূপ গত ১০ বছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে কয়েকগুণ? কিন্তু এর মধ্যে দেখা যাচ্ছে মা ইলিশ শিকার হচ্ছে। প্রশাসনও তৎপর। মানিকগঞ্জে যমুনা নদীতে ইলিশ শিকারের দায়ে ৫৬ জেলে আটক হয়েছেন। হয়তো এ সময়ের মধ্যে আরো আটকের খবর আমরা পাব। প্রশাসনের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে জেলেরা কেন নদীতে যাচ্ছে? নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের সাময়িক ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নেও চলে গড়িমসি। দিন এনে দিনে খাওয়া জনগোষ্ঠীর কাছে এ এক নিষ্ঠুর তামাশা ছাড়া আর কী? আমরা মনে করি, জাটকা ও মা ইলিশ নিয়ে নিষেধাজ্ঞামূলক কর্মসূচি প্রাথমিক সাফল্য পাওয়ার পর এখন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরো সুচারু করার বিষয়ে ভাবার সময় হয়েছে। কীভাবে জেলেদের সম্পৃক্ত করে ও তাদের জীবিকা হুমকিতে না ফেলে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে। অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সময়টিকে সাধারণভাবে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এ মৌসুমে ঝাঁকে ঝাঁকে ডিমওয়ালা মা ইলিশ সাগর থেকে নদ-নদীতে এসে ডিম ছাড়ে। ইলিশ উৎপাদন বাড়ানো ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই এ সময় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের আওতায় ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাসহ সারাদেশে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার আইন জারি করেছে। এই সময়ে মা ইলিশ রক্ষা অবশ্যই জরুরি একটি পদক্ষেপ। এ ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা মনে করি মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল দেশের উপকূলীয় এলাকার কয়েক লাখ জেলের জন্য বিকল্প আয় বা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা খুবই দরকার। এছাড়া দরকার এ ব্যাপারে গণসচেতনতা তৈরি করা; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন মানুষের নজরদারি নিশ্চিত করা। এখন প্রস্তুতিমূলক এ কাজগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেয়া উচিত। মা ইশিশ রক্ষার পদক্ষেপ পুরোপুরি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে রুপালি ইলিশের সুদিন আমাদের হাতছাড়া হবে না। এর জন্য ইলিশ আহরণকারী, ব্যবসায়ী, ভোক্তা সবার সচেতন ও সংযমী ভূমিকা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়