নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার অপরাধে ৭৩ জনকে কারাদণ্ড

আগের সংবাদ

আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া নিছক কোনো ঘটনা নয়

পরের সংবাদ

শুভ শক্তির বিজয় হোক

গোপাল নাথ বাবুল

দোহাজারী, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২১ , ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০২১ , ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ

দুর্গাপূজার নাম শুনলেই আপামর বাঙালি সনাতনী জাতি কেমন নস্টালজিক হয়ে পড়ে। এ উৎসব যে বাঙালি সনাতনীদের প্রাণের ও হৃদয়ের উৎসব, তা তো আমাদের সবার জানা। দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়ে রাত জেগে দুর্গাঠাকুর দেখা, নতুন জামা-কাপড় পরে মণ্ডপে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারা, মহাষ্টমীতে মায়ের অঞ্জলি দেয়া, মায়ের ভোগ প্রসাদ খাওয়া, এসবের কোনো বিকল্প হয় না বাঙালির জীবনে। স্বভাবত তাই দুর্গাপূজা আসছে ভেবেই মন যেন পবিত্র হয়ে ওঠে। কেননা দুর্গাপূজার মন্ত্রগুলো সাধারণত শ্রীশ্রী চণ্ডী থেকে পাঠ করা হয়। ঢাক-ঢোল, খোল-করতাল, সুগন্ধী আগর বাতি এবং ধূপ নিয়ে নয়নাভিরাম আরতি নৃত্য তার সঙ্গে সংস্কৃত মন্ত্রগুলো এক পবিত্র পরিবেশের জন্ম দেয়।
দেবী দুর্গা মূলত শক্তির দেবী। মৎস্যপুরাণ, মার্কণ্ডেয়পুরাণ, দেবীপুরাণ, কালিকাপুরাণ ও দেবী ভাগবতের বর্ণনা অনুযায়ী দেবী দুর্গা জয়দুর্গা, জগদ্বাত্রী, গন্ধেশ্বরী, বনদুর্গা, চণ্ডী ও নারায়ণী প্রভৃতি নামে ও রূপে পূজিত হন। বিভিন্ন দেবতার তেজপঞ্জে সৃষ্টি হয়েও তিনি সব তেজের উৎস রূপেই প্রতিভাত তেজময়ী। তিনি আসলে রুদ্রপন্তী, উমা, অম্বিকা, হৈমবতী, ভগবতী, গৌরী, ভবানীর মিলিত দৈব সত্তা। সাধারণত তাকে দয়াময়ী ও উগ্র দুই রূপেই দেখা যায়। তার দয়াময়ী রূপগুলো হলো- কাত্যায়নী, অন্নপূর্ণা, মহাগৌরী, কমলা, ভূবনেশ্বরী, ললিতা প্রভৃতি আর উগ্ররূপ হলো- দুর্গা, কালী, তারা, চণ্ডী ইত্যাদি। এছাড়া বিভিন্নকালে অসুরদের বিনাশের জন্য দেবী দুর্গা কালিকা, নন্দা, ভ্রমরী, শাকম্ভরী, রক্তদণ্ডিকা, কৌশিকী প্রভৃতি ভিন্ন ভিন্ন অবতাররূপে আবির্ভূত হন এবং মধুকৈটভ, শুম্ভ ও নিশুম্ভ, মহিষাসুর, দুর্গামাসুর ইত্যাদি বহু অত্যাচারী দৈত্যাদি বিনাশ করে জগৎবাসীর দুর্গতি নাশ করেছিলেন বলেই তিনি দুর্গা। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী দেবী দুর্গা বিভিন্ন প্রকার বাধা-বিঘœ, রোগ-শোক, পাপভয়, শত্রæ ও বিপদ থেকে আমাদের মুক্ত করেন। যেমন, দ + উ-কার + রেফ ফলা + গ + আ-কার = দুর্গা। অর্থাৎ ‘দ’ অক্ষরটি দ্বারা দৈত্য বিনাশ বুঝায়, ‘উ-কার’ দ্বারা বিঘœ নাশ বুঝায়, ‘রেফ ফলা’ দ্বারা রোগ নাশ বুঝায়, ‘গ’ দ্বারা পাপ নাশ করা বুঝায় এবং ‘আ-কার’ দ্বারা শত্রæ নাশ বুঝায়। এককথায়, তিনি জগৎজননী, কামার্থদায়িনী, অন্নদা, রুদ্রাণী, শতাক্ষী, বৈষ্ণবী, গৌরী, পার্বতীসহ বহু নামের অধিকারী। তিনি এক ও অভিন্ন এবং অনন্য শক্তির রূপে রূপান্তরে প্রকাশ হওয়ায় তিনি মহাশক্তি মহামায়া। তিনি আমাদের মাঝে মাতৃরূপে ও শক্তিরূপে বিরাজ করেন।
এ পূজার মাধ্যমে নারীর ভূমিকাকে সনাতন ধর্মে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দেবী দুর্গা সৃষ্টির প্রতীক হেতু নারীর চিরন্তন মাতৃরূপকে বর্ণনা করা হয়েছে মাতৃরূপে দেবী বন্দনার মাধ্যমে এবং সংসারকে সব আপদ-বিপদ থেকে রক্ষা হেতু মহাশক্তির আধাররূপে বর্ণনা করা হয়েছে মহিষাসুরকে বধের মাধ্যমে। বাংলা সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠা এ পূজা মূলত দেবীপক্ষে শুরু হয়ে মহালয়া পর্ব থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত মোট ১০ দিনের মধ্যে মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও মহাদশমী এ চার দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকারের কাছে আকুল আবেদন, সনাতনীদের এ প্রধান ধর্মীয় উৎসবে একদিনের পরিবর্তে কমপক্ষে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হোক, সঙ্গে সব বন্ধুকে মাস্ক ব্যবহারের অনুরোধ জানাচ্ছি। কারণ এ বছর আমাদের অনেক নিয়ম-কানুন মেনেই পূজায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এবারের পূজায় প্রধান আরাধনা হোক, বিশ্ববাসী করোনাসুরের প্রকোপ থেকে মুক্তি পাক এবং কামনা করি, শান্তি-সম্প্রীতি ও যথারীতি উৎসবমুখর পরিবেশেই যেন দুর্গাপূজার পরিসমাপ্তি ঘটে। শুভ শক্তির বিজয় হোক।
গোপাল নাথ বাবুল
দোহাজারী, চট্টগ্রাম।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়