দুর্যোগ ঝুঁকি মোকবেলায় বিশ্বের আদর্শ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

আগের সংবাদ

মিয়ানমারের ৩০ সেনাসদস্যকে হত্যা করেছে বিদ্রোহীরা

পরের সংবাদ

নাসিরনগরের হামলায় অভিযুক্ত তিনজন পেলেন আ.লীগের মনোনয়ন

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২১ , ৩:২৯ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০২১ , ৩:৩০ অপরাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছেন নাসিরনগর হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মো. আবুল হাসেম, মো. আক্তার মিয়া এবং দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় তাদের তিনজনকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

এর মধ্যে সদরে মো. আবুল হাসেম, পূর্বভাগে মো. আক্তার মিয়া এবং হরিপুর ইউনিয়ন থেকে দেওয়ান আতিকুর রহমান ইউপির প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়াও গোয়ালনগরে বিএনপি নেতা আজহারুল হককে মনোনয়ন দেওয়া নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নাসিরনগরের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

২০১৬ সালে ৩০ অক্টোবরে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট-অগ্নিসংযোগে ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুই শতাধিক হিন্দু বাড়িঘর ও ১৫টি মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে। পিটিয়ে আহত করা হয়েছে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষকে।

এ ঘটনায় আদালতে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে ২২৮ আসামির মধ্যে আওয়ামী লীগের ৩০-৩৫ জন এবং বিএনপির ৬০-৭০ জন নেতাকর্মীর নাম আসে। সেখানে উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে আবুল হাসেম, আক্তার মিয়া এবং দেওয়ান আতিকুর রহমানেরও তিনজনের নাম রয়েছে।

এ ঘটনায় হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ১৩ কিলোমিটার দূরের হরিপুর ইউনিয়ন থেকে ১৪ থেকে থেকে ১৫টি ট্রাক ভরে মানুষ আসার পর হামলা হয় নাসিরনগরের হিন্দুপল্লীতে। যেসব ট্রাকে চড়ে হামলাকারীরা এসেছিল সেগুলোর ব্যবস্থা ও অর্থের যোগান দেন আঁখি। তবে তার দাবি, তিনি বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, হামলার আগের দিন রসরাজের নামে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ছড়ালে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় চেয়ারম্যান আঁখি হিন্দু প্রধান ওই গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যেতে বলেন। তার কথা শুনে অনেক পুরুষ আশপাশের এলাকায় গিয়ে হামলা থেকে রক্ষা পেলেও তাদের বাড়ি-ঘর ছাড় পায়নি। এখন তিনি চেয়ারম্যার প্রার্থী।

এছাড়াও অপর দুজন সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাসেম ও মো. আক্তার মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় সেসময়।

এদিকে, গোয়ালনগর বিএনপি নেতা আজহারুল হককে মনোনয়ন দিতে আওয়ামী লীগ সমর্থন করেছে। ওই নেতাকে প্যানেলভুক্ত করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য বি এম ফরহাদ হোসেন সুপারিশ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, উপজেলা ও তৃণমূল নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে কেন্দ্রের কাছে পাঁচজনের প্যানেল করে তালিকা পাঠানো হয়েছে। আজহারুল হক বিএনপি সমর্থিত, এটা সত্য। তবে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নিয়মিত দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে সাংসদ ফরহাদ হোসেন বলেন, দলের নিয়ম অনুসারে প্রার্থী বাছাই করা হয়। এখানে সংসদ সদস্যের কিছু করার নেই। শুধু গোয়ালনগর নয়, সব ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানদের নাম প্যানেলে রাখা হয়েছে। এখানকার চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র থেকে পাস করেছিলেন।

ডি-এফবি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়