রোনালদোর হ্যাটট্রিকে লুক্সেমবার্গকে উড়িয়ে দিল পর্তুগাল

আগের সংবাদ

নিউজ ফ্ল্যাশ

পরের সংবাদ

কার্যকর হচ্ছে ‘এক নেতার এক পদ’

কর্তৃত্ব হারাচ্ছেন বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২১ , ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০২১ , ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ

বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ‘এক নেতার এক পদ’ ধারা সংযুক্ত হয়েছিল ষষ্ঠ কাউন্সিলে। দীর্ঘ ৬ বছর ধরে প্রক্রিয়াটি ঝুলে থাকলেও পরোপুরি সুরাহা হয়নি। ফলে ‘এক নেতা এক পদ’ কার্যকরে ফের কঠোর হচ্ছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। নামের সঙ্গে একাধিক পদের তকমা লাগানো নেতাদের তালিকা করা হচ্ছে। পছন্দমাফিক একটি পদ রেখে বাকিগুলো দ্রুত ছেড়ে দিতে তাদের দেয়া হবে চিঠি। সিনিয়র নেতারা এ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। এতে দলটিতে একাধিক পদ আঁকড়ে থাকা ৬০ জনেরও বেশি প্রভাবশালী নেতা তাদের কর্তৃত্ব হারাচ্ছেন।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে বিএনপির গঠনতন্ত্রের ১৫ ধারার বিশেষ বিধান ‘এক নেতা এক পদ’ যুক্ত করা হয়। গঠনতন্ত্রের ১৫-এর ‘ক’ ও ‘খ’ উপধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে দলের কোনো পর্যায়ের কমিটির শীর্ষ দুই পদে থাকতে পারবেন না। গঠনতন্ত্রে এ ধারা যুক্ত হওয়ার পরের দিনই বিধান মেনে কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতির পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ওই সময়ে মির্জা ফখরুলের স্ব-ইচ্ছায় পদ ছাড়ার বিষয়টি সিগন্যাল ভেবে নিয়ে রাজত্ব হারানোর শঙ্কায় ছিলেন বিএনপির সিনিয়র অনেক নেতাই। নির্বাচনী এলাকার একক কর্তৃত্ব রাখবেন, নাকি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে অংশীদার হবেন? এমন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাটিয়ে দিয়েছেন বেশ কয়েক বছর। লবিং তদবিরও করে পদগুলো ধরেও রেখেছেন। এই ফাঁকে নানা ইস্যুতে ঢাকা পড়েছিল একক পদ বাছাইয়ের এই কার্যক্রম।

সূত্র জানায়, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে ৩০ জন নেতা এক পদ রেখে বাকি পদ থেকে পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় দপ্তরে। তবে কর্তৃত্ব ছাড়েননি। এ নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এরপর গত বছরের জুলাই মাসে দলটির কেন্দ্র থেকে বেশ ঘটা করে চিঠি দিয়ে এই বিশেষ বিধান কার্যকরের উদ্যোগ নেয়া হয়। তালিকা করা হয় ৪১ জন নেতার। একটি পদ রেখে বাকি পদ ছেড়ে দিতে চিঠিও দেয়া হয়। কয়েক জন সেই নির্দেশনা মানলেও বেশির ভাগ নেতা বিষয়টি পাশ কাটিয়ে গেছেন।

বিএনপির নেতারা জানান, এক নেতা এক পদের ধারাটি কার্যকরে সিনিয়র জুনিয়র বিভেদের কারণে কাকে কোন পদ দেয়া হবে- এ নিয়ে রয়েছে জটিলতা। খান রবিউল আলম রবি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হওয়ায় তাকে ঢাকা মহানগরের কমিটিতে রাখা হয়নি। অথচ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটিতে বেশ কয়েক জন নেতা আছেন যারা নির্বাহী কমিটিরও সদস্য। গত আগস্টে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সদস্য সচিব করা হয়েছে কামরুজ্জামান রতনকে। অথচ তিনি দলের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। অন্যদিকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুকে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট গৌতম চক্রবর্তীকে সহসভাপতি করা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে দলীয় গঠনতন্ত্রের বিশেষ বিধান এক নেতার এক পদ যুক্ত করা হয়। গত ৬ বছরে এ বিষয়ে তেমন কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। একাধিক পদ আঁকড়ে থাকা নেতারা একটি করে পদ রেখে যদি বাকি পদ ছেড়ে দেন তবে আরো ত্যাগী নেতারা স্থান পাবে এতে দল উপকৃত হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চিন্তা-ভাবনা দলকে এগিয়ে নেয়ার। সেভাবেই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ ইমরান প্রিন্স বলেন, ষষ্ঠ কাউন্সিলের পরে বিষয়টি ঝুলে আছে। এটি যেহেতু সাংগঠনিক বিষয়, তাই সেভাবেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেন্দ্রীয় অনেক নেতার প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন একাই ৬টি পদ দখল করে আছেন। এছাড়াও যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, মজিবুর রহমান সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আসাদুল হাবিব দুলু, নজরুল ইসলাম মঞ্জু মহানগর ও জেলার শীর্ষ পদে আছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আরো বেশ কয়েকজন নেতা একাধিক পদে রয়েছেন। এসব নেতা বারবার এক পদ রেখে অন্য পদগুলো ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেয়ার পরও তা মানেননি।

সূত্র জানায়, এক নেতা এক পদ বাস্তবায়ন দলের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে, এমন শঙ্কা দলের ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছে। এ নিয়ে দলের ভেতর বিতর্ক চলে আসছে। একাধিক পদধারী নেতারা মনে করছেন, জেলা রাজনীতি থেকে সরিয়ে কেন্দ্রে অন্তর্ভুক্ত হলে তৃণমূল থেকে তারা অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। নেতারা জানান, রাজনীতির একটা প্রধান উপাদান নির্বাচনে অংশ নেয়া। কিন্তু জেলা কিংবা তৃণমূলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে না পারলে হঠাৎ করে এলাকায় নির্বাচনে অংশ নিতে গেলে জেলার অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী বাধার সৃষ্টি করতে পারে। আর তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকায় তারাও বিদ্রোহ করতে পারেন। তবে এক নেতার এক পদ কার্যকর করতে গিয়ে যাতে তৃণমূল দুর্বল না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে। এজন্য কোনো কোনো নেতাকে কেন্দ্রে না রেখে জেলা বা মহানগরের শীর্ষ পদে রাখা হবে।

বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাধিক পদ ধরে রাখা নেতাদের বিরুদ্ধে পদবঞ্চিতদের পক্ষ থেকে প্রায় ২৫টি অভিযোগও জমা পড়েছে। তবে গঠনতন্ত্র মেনে সর্বশেষ কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদকের পদ ত্যাগ করেছেন। এর আগে মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার একদিন পরই ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু তাদের আগের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান পদ রেখে নোয়াখালী জেলা সভাপতির পদ ছেড়ে দেন মো. শাহজাহান। যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ছেড়ে দেন যুবদলের সভাপতির পদ। সাংগঠনিক সম্পাদক পদ ছেড়ে চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি হন (বর্তমান আহ্বায়ক) ডা. শাহাদাত হোসেন।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতউল্লাহ বলেন, একজন নেতার এতগুলো পদ দখল করে রাখাটা যেমন যুক্তিসঙ্গত নয়, তেমনি যোগ্যতার ভিত্তিতেই তারা ওই পদে বহাল রয়েছেন। এক্ষেত্রে সুষ্ঠুভাবে নতুন কমিটি করে না দিলে তাদের জন্য পদ ছাড়া দুস্কর হয়ে যাবে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়