করোনায় বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য চিত্র

আগের সংবাদ

বিদ্যমান পদ্ধতির বাইরে যাবেই না আওয়ামী লীগ

পরের সংবাদ

কর্ণফুলী রক্ষায় মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন দরকার

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২১ , ১:৫২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০২১ , ১:৫২ পূর্বাহ্ণ

নদীমাতৃক দেশের ইতিহাস ক্রমেই মøান হতে যাচ্ছে। দেশের নদীগুলোর অবস্থা যে শোচনীয় তা নদীর সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যায়। এর পেছনে দখলদারিত্ব থেকে শুরু করে নানা অনিয়ম জড়িত। চট্টগ্রামের লাইফ লাইন কর্ণফুলী নদী আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দখলের মহোৎসব চলছে। এমনকি কর্ণফুলী রক্ষায় হাইকোর্ট রায় দিলেও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসব বিষয় তোয়াক্কা করেনি। গতকাল ভোরের কাগজের খবরে প্রকাশ, বন্ধ হয়ে যাওয়া কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান বারবার তাগাদা সত্ত্বেও শুরু না করায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টের আদেশ অবমাননার অভিযোগের প্রতিকার চাইতে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন কমিটির নেতারা। নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ না হওয়ার জন্য সংগঠনটির নেতারা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তরকে দায়ী করেছেন। নেতারা আরো অভিযোগ করছেন, ১৫ বছরের চুক্তিনামা দিয়ে কর্ণফুলী নদী দখল ও ভরাট করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করেছে। ২০১৯ সালের আদেশের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন মাছ বাজার উচ্ছেদ করা বাধ্যতামূলক ছিল। বন্দর কর্তৃপক্ষ মাছ বাজার উচ্ছেদ না করে নতুন করে বরফকল স্থাপনের জন্য কর্ণফুলী নদীর মাঝখানে শাহ আমানত ব্রিজের মাঝ-পিলার বরাবর ২০০০ বর্গফুট নদী নতুন করে লিজ দিয়েছে, যা সরাসরি মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের লঙ্ঘন। কর্ণফুলীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা দিলেও সেই আদেশ লঙ্ঘন করে নদীকে হত্যা করছে বন্দর। বিষয়টি দুঃখজনক। এই নদী সঙ্গে ২ কোটির বেশি মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর কর্ণফুলীর দুই তীরে সীমানা নির্ধারণ করে। জরিপে কর্ণফুলী নদীর দুই তীরে প্রায় আড়াই হাজার অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়। এরপর বড় পরিসরে ও কয়েকটি সংস্থার সমন্বয়ে কর্ণফুলীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ২০১৯ সালেও অভিযান চালানো হয়। কিন্তু আশানুরূপ কোনো সাফল্য আমরা দেখিনি। এমতাবস্থায় কর্ণফুলী রক্ষা করতে নতুন একটি মহাপরিকল্পনা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা হিমাগারে চলে গেছে। অস্বীকারের অবকাশ নেই যে, মহাপরিকল্পনায় তাৎক্ষণিক, স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি যেসব পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে, তা যথার্থ। কিন্তু বাস্তবায়নই যদি শুরু না হয়, যদি নতুন করে দখল চলতেই থাকে; তাহলে মহাপরিকল্পনা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে। নদীগ্রাস আগামী দিনে পরিবেশসহ সার্বিক পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই নদীদূষণ ও দখলের খবর পত্রিকায় আসে। নদীদূষণ ও দখল এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দখলে-দূষণে বিপর্যস্ত কর্ণফুলী হারাচ্ছে স্বাভাবিক নাব্য। নদীর পানি ধারণক্ষমতা অনেক কমে গেছে। নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় জোয়ারের পানি নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত করছে। কর্ণফুলীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার ওপর মারাত্মক রকমের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যেভাবেই হোক কর্ণফুলী নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে। কারণ চট্টগ্রামকে বাঁচাতে হলে কর্ণফুলীকে বাঁচাতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়