বিমানের টিকিট বিক্রির নামে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

আগের সংবাদ

মা ইলিশ রক্ষা করে উৎপাদন বৃদ্ধি করি

পরের সংবাদ

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি ও আমাদের প্রত্যাশা

প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০২১ , ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১২, ২০২১ , ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল স্থাপন কাজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পরমাণু বিশ্বে কাজের অগ্রগতি হলো। জাতি হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আমাদের জন্য অনেক গৌরব ও আনন্দের। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র উন্নত বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে আশা রাখি। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাহিদা ও জোগানের ব্যবধান দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য পারমাণবিক শক্তি অন্যান্য প্রকারের জ্বালানির চেয়ে সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব। বর্তমানে বিশ্বে পারমাণবিক চুল্লির মাধ্যমে বিশ্বের মোট ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। কেবল আমরাই এ থেকে পিছিয়ে আছি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহারে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে। ২০১০ সালে রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিয়ে ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট হয়। একই বছর জাতীয় সংসদে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়। ২০১২ সালে বাংলাদেশ অ্যাটোমিক অ্যানার্জি রেগুলেটরি অ্যাক্ট পাস করা হয়। অতঃপর আরো কিছুটা পথ পরিক্রমণ শেষে প্রকল্পটি এখন আলোর মুখ দেখতে চলেছে। এই রিঅ্যাক্টর স্থাপনের মধ্যে দিয়ে বলা যায় কমিশনিং প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে একক প্রকল্প হিসেবে এটি সবচেয়ে বড় কোনো অবকাঠামো প্রকল্প। জানা গেছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প (আরএনপিপি) বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। ইউনিট ১-এর ভৌত কাঠামোর ভেতরে রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের পারমাণবিক যন্ত্রাংশ স্থাপন সম্পন্ন হবে। এর ফলে এই ইউনিটের রিঅ্যাক্টর ভবনের ভেতরের কাজ প্রায় শেষ হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট থেকে ১২শ মেগাওয়াট এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও ১২শ মেগাওয়াট অর্থাৎ মোট ২ হাজার ৪শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি আরো ত্বরান্বিত হবে বিশ্বাস করি। পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নির্মাণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকির বিষয় হলো এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইতোমধ্যেই পৃথিবীবাসী কয়েকটি পারমাণবিক দুর্ঘটনার সাক্ষী। জলবায়ু পরিবর্তনের কথা চিন্তা করে বর্তমানে বিশ্বে নবায়নযোগ্য শক্তির ওপরে যে জোর দেয়া হচ্ছে পারমাণবিক শক্তি তার অন্যতম একটি উৎস। তবে এসব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লির নিরাপত্তা নিয়ে সব সময় কিছুটা উদ্বেগ থেকেই যায়। তবে দুর্ঘটনার কথা ভেবে আমাদের পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। প্রতিবেশী ও অন্য দেশগুলো এগিয়ে চলেছে। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। তবে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পরিবেশবিদদের কথাও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নিতে হবে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ও ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়ে আগাম সতর্কতারও ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়