বিদেশ ফেরতদের ট্রেনিং নিতে হবে না

আগের সংবাদ

অস্কার ব্রুজন নেপাল বধের ছক কষছেন

পরের সংবাদ

প্রস্তুতি পরখে মুখোমুখি বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা

প্রকাশিত: অক্টোবর ১১, ২০২১ , ৯:৪৮ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০২১ , ৯:৪৮ অপরাহ্ণ

বিশ্বকাপে নিজেদের আসল মিশন শুরু করার আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। আবুধাবিতে মঙ্গলবার(১২অক্টোবর) নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে ম্যাচটি। আবুধাবির যে মাঠে বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সেই মাঠের বদলে নতুন করে তৈরি করা অনুশীলন মাঠ আবুধাবির টলারেন্স ওভালে হবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার লড়াই।
লঙ্কানদের বিপক্ষে সর্বশেষ ২০১৮ সালে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। সেবার প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দুটি ম্যাচ খেলে তারা। ম্যাচগুলো ছিল নিদাহাস ট্রফির গ্রুপ পর্বের। আর দুটি ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছিল মাহমুদউল্লাহ বাহিনী। নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলা দুটি ম্যাচে দারুণ রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

২০১৮ সালের পর ফের ২০ ওভারের ম্যাচে খেলতে নামছে দুই দেশ। তবে এ ম্যাচটি যেহেতু বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ। ফলে এটি অফিসিয়াল ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হবে না। ফলে এ ম্যাচটির রান বা ফলাফল কোনো কিছুই বিবেচিত হবে না। তবে বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় তুলে নিতে পারলে এটি বাছাইপর্বের তিনটি ম্যাচে বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা দুই দেশই আইসিসির টেস্ট খেলুড়ে দেশ হলেও দুই দলের কেউ সরাসরি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ বা মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি। বাংলাদেশ অবশ্য এবারই প্রথমবারের মতো যে বিশ্বকাপের বাছাইয়ে খেলছে তা নয়। কারণ ২০১৪ ও ২০১৬ সালের বিশ্বকাপেও বাছাইপর্বের বাধা টপকে টাইগারদের খেলতে হয়েছিল মূল পর্বে। তবে শ্রীলঙ্কা এবারই প্রথমবারের মতো বাছাইপর্বে খেলছে। বিশ্বকাপের সাবেক চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা বাছাইপর্বে খেলবে নামিবিয়া, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বাছাইপর্বে খেলবে স্কটল্যান্ড, ওমান ও পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে। দুই দেশকে যেহেতু বাছাইপর্বে খেলতে হবে ফলে উভয়ই চাইবে বাছাইয়ে নামার আগে নিজেদের মনোবল বাড়িয়ে নিতে।

বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলা নিজেদের শেষ দুটি ম্যাচে জয় তুলে নিলেও দুই দলের অতীত পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যাচ্ছে জয়ের দিক দিয়ে এগিয়ে আছে শ্রীলঙ্কাই। লঙ্কানদের বিপক্ষে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ১১টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে টাইগাররা জয় পেয়েছে চারটি ম্যাচে। আর শ্রীলঙ্কা জয় পেয়েছে সাতটি ম্যাচে। ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দুই দল চারটি ম্যাচে মুখোমুখি হয়। যেখানে চারটিতেই জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। অবশেষে জয়ের খরা কাটিয়ে ২০১৬ সালে মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় টাইগাররা। এরপর ২০১৭ সালে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচের সিরিজে মুখোমুখি হয় তারা। যার মধ্যে একটিতে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। অন্যটিতে জয় পায় শ্রীলঙ্কা। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ নিদাহাস ট্রফিতে অংশ নেয়ার আগে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ সফরে আসে। সেবার দুই ম্যাচের সিরিজে দুটি ম্যাচেই বাংলাদেশ হেরে যায়। কিন্তু এ হারের প্রতিশোধ টাইগাররা নিয়ে নেয় সে বছরই নিদাহাস ট্রফির টানা দুটি ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে।

এদিকে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা বাছাইপর্বে খেললেও এ দুই দলই খুব সহজে বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে জায়গা করে নিবে বলেই মনে করছেন সবাই। বিশেষ করে বাংলাদেশের কথা যদি বলা হয় বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচটি করে ম্যাচ খেলে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইগাররা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয়। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ সিরিজ জেতে ৩-২ ব্যবধানে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যে দল নিয়ে বাংলাদেশ সিরিজ জয় করেছে সেই একই দল নিয়ে বিশ^কাপ মিশনে গেছে। বাংলাদেশ দলের ১৫ জনের মূল দলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বে আছেন সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, আফিফ হোসেন, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, নুরুল হাসান সোহান, শামীম পাটোয়ারী, মোস্তাফিজুর রহমান, সাইফউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ ও রুবেল হোসেন।

বাংলাদেশের এ দলটিকে টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে সেরা দল হিসেবে ধরা হচ্ছে। এবারের বিশ্বকাপে এ দলটির ভালো কিছু করার সক্ষমতা আছে বলেই মনে করেন ক্রিকেট বোদ্ধারা। বাংলাদেশ ওমানে গিয়ে ওমান ‘এ’ দলের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলে। যেটিতে বিশাল স্কোর দাঁড় করায়। তবে আজ আরব আমিরাতের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ কেমন করবে তা এখন দেখার বিষয়।

শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার আগে ওমান জাতীয় দলের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ খেলে। যেখানে দুটি ম্যাচেই শ্রীলঙ্কা জয় তুলে নেয়। যদিও ওমান শক্তির বিচারে শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে আছে, তাই তারা সহজেই জয় তুলে নেয়। এখন বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলার আগে সমশক্তির বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে তারা কেমন করে এখন এটিই দেখার বিষয়।

শ্রীলঙ্কা ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু ওই বিশ্বকাপের পর তাদের পারফরম্যান্স দিনে দিনে খারাপ হয়েছে। আর তাই তো র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থেকেও তারা সরাসরি সুপার টুয়েলভে জায়গা করে নিতে পারেনি। তবে সরাসরি জায়গা করে নিতে না পারলেও এখন বিশ্বকাপে তারা ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখছে। আর তাই তো নতুন ও অভিজ্ঞদের নিয়ে শ্রীলঙ্কা দল গড়েছে। যদিও দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই তরুণ। শ্রীলঙ্কা মূলত এখন আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এজন্য তারা বিশ্বকাপের জন্য তরুণদেরই সুযোগ বেশি দিয়েছে যেন ধীরে ধীরে দলটি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়