সুষ্ঠু ইউপি নির্বাচন করে মুখরক্ষার চেষ্টায় ইসি

আগের সংবাদ

সাংবাদিক অপহরণ মামলা: পিবিআইকে আবারও তদন্তের নির্দেশ

পরের সংবাদ

পদোন্নতি ফাইলবন্দি, হতাশ কাস্টমসের মাঠ কর্মকর্তারা

প্রকাশিত: অক্টোবর ১১, ২০২১ , ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০২১ , ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ

দুই বছর ধরে নানা জটিলতায় আটকে আছে কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ফাইল। করোনার অজুহাতে পদোন্নতি কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে সিপাইদের পদোন্নতির ফাইলও। সবশেষ বিসিএস কাস্টমসের ৩১ ব্যাচের পদোন্নতি সংক্রান্ত্র বৈঠকের পরও অনেক দিন ধরে আটকে আছে। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেনের সময়ে অর্থাৎ ২০১৯ সালের আগস্টে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা থেকে রাজস্ব কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পান। এর পরে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের আর পদোন্নতি হচ্ছে না। ইতোমধ্যে রাজস্ব কর্মকর্তার প্রায় ১২৫ পদ শূন্য রয়েছে। অনেকে চলতি দায়িত্বে থাকলেও পদোন্নতি হচ্ছে না। শূন্যপদের পরও পদোন্নতিতে গড়িমসি করছে এনবিআরের শুল্ক প্রশাসন।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন পদোন্নতির কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ ছিল। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর আবার প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসবে। করোনাকালে সবাই যখন ঘরবন্দি, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন কাস্টমসের কর্মকর্তারা। দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে করোনার মধ্যে সার্বক্ষণিক চালু ছিল আমদানি-রপ্তানি। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে গেছেন কাস্টমসের অর্থাৎ শুল্ক প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কিন্তু দুই বছর ধরে এসব কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ফাইল

আটকে থাকায় চরম হতাশ তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ভোরের কাগজকে বলেন, করোনাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা মাঠে দায়িত্বপালন করলাম। অথচ আমাদের ফাইল দুই বছর ধরে পড়ে আছে। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক কর্মকর্তা মারা গেছেন। দায়িত্ব পালনের পরও আমাদের পদোন্নতি পাওয়ার নৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এর পেছনে এনবিআরের শুল্ক প্রশাসনের সদস্য ও প্রথম সচিবকে দায়ী করছেন তারা। তারা বলছেন, করোনার সময় এনবিআর চেয়ারম্যান অফিস করেছেন। তার কাছে কোনো ফাইল আটকে থাকে না। তিনি তাৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত দিয়ে দেন। কিন্তু তার কাছে ফাইল উপস্থাপন করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের। মূলত এনবিআরের শুল্ক প্রশাসনের প্রথম সচিব কাস্টমসের এই ফাইল ইচ্ছে করেই আটকে রাখছেন বলেও অভিযোগ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

পদোন্নতির জটিলতা নিয়ে গতকাল রবিবার এনবিআরের শুল্ক প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করলে তিনি পদোন্নতি সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে উপসচিব পদমর্যাদার আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোরের কাগজকে বলেন, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের ফাইল পিএসসিতে পাঠানো হয়েছে। আর করোনার কারণে মূলত পদোন্নতি কার্যক্রমে একটু ঢিলেঢালা ছিল। এখন প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

এনবিআর সূত্র জানায়, শুধু সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের ফাইল আটকে আছে তা নয়। ডিপিসি বৈঠকের পরও আটকে আছে সহকারী কমিশনার থেকে উপকমিশনার পদের পদোন্নতির ফাইলও। কাস্টমসের বিসিএস ৩১ ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি সংক্রান্ত্র কার্যক্রম শেষ হলেও আটকে আছে সেই ফাইল। যদিও এনবিআরের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন, যারা পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন তাদের কারণেই মূলত আটকে আছে উপকমিশনার পদে পদোন্নতির ফাইল। ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের বাইরেও দীর্ঘদিন ধরে সিপাইদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। না হচ্ছে পরীক্ষা, না হচ্ছে পদোন্নতি।

এতে মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। করোনার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে কী লাভ, প্রশ্ন তাদের। এর আগে ২০১৯ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন চেয়ারম্যান সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার আইনি প্রক্রিয়া মেনে এনবিআরের কর্মচারীদের মধ্যে থেকে ৬৭ জনকে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি দেন। এর মধ্যে কিছু কর্মকর্তাদের পদায়নও করেন তিনি। এর মধ্যে ৩৭ কর্মকর্তার কপাল পুড়েছে। দুই বছরের অধিক সময় ধরে এনবিআরেই যুক্ত আছেন। নানা অজুহাতে তাদের পদায়নের বিষয়টিও আটকে আছে। সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে পদবি থাকলেও কাজ করছেন আগের দপ্তরে।

পদোন্নতি বঞ্চিতদের বিষয় নিয়ে কথা হয় এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদের সঙ্গে। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, সাধারণত পদোন্নতি বঞ্চিতদের মধ্যে ক্ষোভ হতাশা থাকবেই। তবে পদোন্নতির বিষয়টি এনবিআরের প্রশাসনিক বিষয়। আর এই বিষয়ে কি ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হবে এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা আরো উৎসাহী হবেন, নির্ধারণ করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

এনবিআরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনায় সবকিছু স্বাভাবিক হলেও কাস্টমসের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা থাকায় তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তারা বলছেন, সারাদেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এনবিআরও পুরোদমে চালু রয়েছে। যত সমস্যা পদোন্নতি আর পদায়নে। এর পেছনের কারণ হিসেবে তাদের ভাষ্য, এনবিআরের শুল্ক প্রশাসনের প্রথম সচিব ঈদতাজুল ইসলামের কারণে মূলত এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

কারণ হিসেবে তারা বলছেন, প্রায় ৬ বছর আগে শুল্ক প্রশাসনের প্রথম সচিব সাবেক এক চেয়ারম্যানের পিএস হিসেবে চার মাস কাজ করেন এনবিআরে। তৎকালীন সময়ে পদোন্নতি পাওয়ার পর বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। বর্তমান চেয়ারম্যান এনবিআরে আসার পর শুল্ক প্রশাসনের প্রথম সচিব হিসেবে তিনি এনবিআরে যোগ দেন। বর্তমান চেয়ারম্যান তাকে স্নেহ করেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পদোন্নতি থেকে শুরু করে বদলি পদায়নেও তার মতামত গুরুত্ব পায়। আর তার পরিচিত তথা কথিত ভালো কর্মকর্তারা প্রাইজ পোস্টিং পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ মাঠ পর্যায়ের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদেরও। নিজের পছন্দের কর্মকর্তাদের বিষয়ে নরম হলেও অনেকের বিষয়ে তিনি আপত্তি তোলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এনবিআরের চেয়ারম্যানের দপ্তরে সময় মতো ফাইল ছাড়েন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এনবিআরের আরেকটি সূত্র বলছে, পদোন্নতির ফাইল আটকে রাখার পেছনে শুল্ক প্রশাসনের সদস্যেরও নির্দেশনা রয়েছে বলেও অভিযোগ অনেকের।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়