দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভের ডাক সিপিবি’র

আগের সংবাদ

সালথার ইউএনওকে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিময় উপহার

পরের সংবাদ

অনন্য কীর্তি গড়ল ফ্রান্স

প্রকাশিত: অক্টোবর ১১, ২০২১ , ১০:০৮ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০২১ , ১০:০৮ অপরাহ্ণ

উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনাল ম্যাচটি ছিল টানটান উত্তেজনায় ঠাঁসা। ফাইনালে সোমবার (১১অক্টোবর) ফ্রান্স-স্পেনের মধ্যে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হয়েছে। প্রথমার্ধে আক্রমণে বিবর্ণ দুদল বিরতির পর দর্শকদের উপহার দিয়েছে চমৎকার ফুটবল। দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ফ্রান্স। এমনকি ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপা জয়ের উৎসবে মাতেন দিদিয়ে দেশমের শিষ্যরা। মিকেল ওইয়ারসাবাল স্পেনকে (১-০ গোলে) এগিয়ে নেয়ার পর চমৎকার গোলে (১-১) সমতা ফেরান করিম বেনজেমা। এরপর জয়সূচক গোলটি (২-১) করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এ জয়ের সুবাধে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ, ইউরো ও নেশন্স লিগ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়ল ফ্রান্স।

এর আগে ২০১৯ সালে নেশন্স লিগের প্রথম আসরের শিরোপা জিতেছিল পর্তুগাল। এবার দ্বিতীয় আসরের শিরোপা ঘরে তুলেছে ফরাসিরা। কদিন আগে এ টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বেলজিয়ামের জালে তিনবার বল পাঠিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিল ফ্রান্স। তিন দিনের ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়ানোর আরেকটি নজির গড়ল তারা। তবে যাইহোক ফ্রান্সের এমন অর্জনের নেপথ্যের নায়ক কোচ দিদিয়ে দেশম। তিনি খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ও ইউরো জয়ের পর কোচ হিসেবে ২০১৮ সালে দেশকে জিতিয়েছিলেন বিশ্বকাপ। এবার তার অর্জনের ঝুলিতে যোগ করলেন নেশন্স লিগের মুকুট। এদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বেলজিয়ামকে হারিয়ে উয়েফা নেশন্স লিগে তৃতীয় হয়েছে ইতালি। তুরিনের আলিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে এ ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে রবের্তো মানচিনির শিষ্যরা। নিকোলা বারেল্লা ইতালিকে এগিয়ে নেয়ার পর ব্যবধান বাড়ান দোমেনিকো বেরার্দি। শেষ দিকে একটি গোল শোধ করেন চার্লস ডে কেটেলায়েরে। তবে এ ম্যাচে বেলজিয়াম জিততে পারত, কিন্তু তাদের তিনটি প্রচেষ্টা ক্রসবার কিংবা পোস্টে লাগে। বল দখলে পিছিয়ে থাকা ইতালি গোলের জন্য ১২টি শট নেয়, যার পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। আর বেলজিয়ামের ১৩ শটের চারটি লক্ষ্যে ছিল।

এছাড়া ফাইনাল ম্যাচে বল দখলে এগিয়ে ছিল স্পেন। তারা প্রথমার্ধে বল দখলে আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও আক্রমণে ছিল না ধার। এই সময়ে গোলের জন্য স্পেনের দুই শটের একটি লক্ষ্যে ছিল। আর ফ্রান্স শটই নিতে পারে একটি। দ্বাদশ মিনিটে পাবলো সারাবিয়ার শট সহজেই ঠেকান ফ্রান্স গোলরক্ষক উগো লরিস। দেশের হয়ে শততম ম্যাচ খেলতে নামা অঁতোয়ান গ্রিজম্যানের সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে ২৬ মিনিটে করিম বেনজেমার শট রুখে দেন স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া। এরপর ৩৬ মিনিটে আরেকটি দারুণ সুযোগ পেয়েও বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হয় স্পেন। মার্কোস আলোনসোর ফ্রি-কিকে পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে যায় বল। বিরতির আগে ধাক্কা খায় ফরাসিরা। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানে। ৫৩ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ডি-বক্সে দারুণ নিচু ক্রস বাড়ান সারাবিয়া। কিন্তু বলের কাছে যেতে পারেননি স্পেনের খেলোয়াড়রা। এরপর বেনজেমা পাস দেন এমবাপ্পের উদ্দেশে আর ছুটে গিয়ে পা বাড়িয়ে বিপদমুক্ত করেন আলোনসো। ৬৩ মিনিটে ভাগ্যের ফেরে গোল পায়নি ফ্রান্স। পল পগবার পাস বাঁ দিকে খুঁজে নেয় বেনজেমাকে। এই স্ট্রাইকারের পাসে কাছ থেকে থিও এরনদেজের প্রচেষ্টা ক্রসবারের নিচের দিকে লেগে ফেরে।

উল্টো পরের মিনিটে এগিয়ে যায় স্পেন। সার্জিও বুসকেতসের থ্রু বল ধরে সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে ডি-বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন ওইয়ারসাবাল। এরপর গোল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স। এক মিনিট পরই বেনজেমার অসাধারণ গোলে সমতায় ফেরে তারা। এমবাপ্পের পাসে ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে রিয়াল মাদ্রিদ তারকার বাঁকানো শট দূরের পোস্টের ওপরের কোণা দিয়ে জাল খুঁজে নেয়। গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও দলকে বাঁচাতে পারেননি। ৭২ মিনিটে দারুণ একটি সুযোগ পেয়েও বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন এমবাপ্পে। তার দুর্বল শট সহজেই ঠেকান উনাই সিমোন। ৮০ মিনিটে গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। থিও এরনদেজের বাড়ানো বলে অফসাইড পজিশনে ছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু বল স্প্যানিশ ডিফেন্ডার গার্সিয়ার পায়ে লেগে আসায় অফসাইডের বাঁশি বাজেনি। বল ধরে দারুণ ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন পিএসজি ফরোয়ার্ড। ৮৮ মিনিটে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় স্পেন। কিন্তু বল জালে জড়াতে পারেনি তারা। এর ফলে জয় নিশ্চিত করে উল্লাসে মাতে ফ্রান্স। তবে শিরোপা জিতে সেঞ্চুরির মাইলফলক ছোঁয়ার দিনটি রাঙাতে চেয়েছিলেন গ্রিজম্যান। নিজে খুব একটা আলো ছড়াতে না পারলেও শিরোপা স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় ম্যাচ শেষে তার উদযাপনটা ছিল দেখার মতো।

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দলের ছিটকে পড়ায় দায় থাকায় যিনি কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, সেই এমবাপ্পেই সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গোল করে শিরোপা জয়ে রাখলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আর অপ্রীতিকর এক কারণে দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি সময় জাতীয় দলে উপেক্ষিত থাকার পর গত মে মাসে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের দলে ডাক পান বেনজেমা। সেই থেকে নিয়মিত আলো ছড়াচ্ছেন তিনি। ইউরোয় চার গোল করার পর এখানে শেষ চারের পর ফাইনালেও চমৎকার গোলে রাখলেন অবদান। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটিই তার প্রথম শিরোপা।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়