রূপপুর পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন কার্যক্রম উদ্বোধন আজ

আগের সংবাদ

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে এখনো অনেক পিছিয়ে দেশ

পরের সংবাদ

ভোটযুদ্ধে সরগরম তৃণমূল

প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০২১ , ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০২১ , ৯:০১ পূর্বাহ্ণ

রাজনীতির তৃণমূলে তুমুল আলোড়ন। জনপদে ভোটের হাওয়া। দোরগোড়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তরের এই নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলে উৎসবের আমেজ। সরগরম রাজনীতি। ইতোমধ্যেই গ্রামেগঞ্জে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী ডামাডোল। মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া, সৌজন্য সাক্ষাৎ করাসহ জনসংযোগের পাশাপাশি দলীয় টিকেট পেতে শীর্ষ নেতাদের কাছে নিয়মিত ধরনা দিচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা। অবশ্য অন্য নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। তবে ফাঁকা মাঠে গোল করার সুযোগ নেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। কঠোর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও মাঠে রয়েছেন একাধিক প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীরাই গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে আওয়ামী লীগের। এ ছাড়া নির্বাচনে রয়েছে জাতীয় পার্টি। রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীও।

বিএনপি বর্জন প্রকাশ্যে বর্জন করলেও দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে বাধা দেবে না, এমন বার্তা আগেই জানিয়ে দিয়েছে। ফলে প্রায় সব ইউনিয়ন পরিষদেই লড়ছেন বিএনপির কেউ না কেউ। সবমিলিয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ ৪ হাজার ৫৭১টি। সবশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৬ সালে। দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনেও অংশ নেয়নি বিএনপি। ফলে বড় জয় পায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। যদিও বিদ্রোহীদের কারণে অনেক জায়গায় ভরাডুবি হয়েছে দলীয় প্রার্থীর। তবে ওই সময় বিদ্রোহীদের শোকজ করাও হয়েছিল। এদিকে বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষেদের মধ্যে প্রথম ধাপে ২০৪টি ও পরে স্থগিত হওয়া ১৬০ আসনে নির্বাচন হয়েছে। প্রথম ধাপের নির্বাচনও বর্জন করেছে বিএনপি। দ্বিতীয় ধাপেও অংশ নেবে না বলে সাফ না জানিয়েছে দলটি।

আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে মন্তব্য করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান ভোরের কাগজকে বলেন, একতরফা নির্বাচন। বিএনপি নির্বাচনে এলেও কিছু যায় আসে না। নির্বাচন নির্বাচন খেলা হয়। গ্রহণযোগ্যতা নেই। নির্বাচন কমিশন বলে ভোটার আনা আমাদের দায়িত্ব নয়। এটি তারা বলতে পারে না। তারা খতিয়ে দেখতে পারে কেন ভোটার আসে না। কিন্তু তারা দায়িত্ব পালন করে না।

তৃণমূলে ভোটের হাওয়া : সিলেট বিভাগের চারটি জেলার ৪৫ ইউপিতে নির্বাচন হবে। জনপদে লেগেছে ভোটের হাওয়া। তৃণমূলের সবচেয়ে জমজমাট এ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের চিত্র। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দিনরাত চষে বেড়াচ্ছেন নিজ নিজ এলাকা। অন্তত তিন শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। আর এ ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল। প্রার্থী বাছাইয়েও তারা অনেক দূর এগিয়েছে।

শুধু সিলেট নয়, ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ১৭ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র বাছাই ২০ অক্টোবর, আপিল দায়ের করা যাবে ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর, আপিল নিষ্পত্তি ২৪ ও ২৫ অক্টোবর, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২৬ অক্টোবর, প্রতীক বরাদ্দ ২৭ অক্টোবর ও ১১ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় ধাপের ৮৪৮টি ইউপির মধ্যে ২০টি ইউপিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হুমায়ূন কবীর খোন্দকার।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলে সবসময় প্রবল আগ্রহ থাকে। স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন ধাপের এই নির্বাচনে প্রার্থীরা জনগণের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত থাকার কারণে এই নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ সবসময়ই লক্ষণীয়। নির্বাচন ঘিরে শুরু হয়েছে নানা অস্থিরতা। মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে সরকারি দলে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও দুয়েক দিনের মধ্যে মনোনয়ন আহ্বান করবে বলে জানা গেছে।

ক্লিন ইমেজ খোঁজে আওয়ামী লীগ : সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের উপনির্বাচন এবং সপ্তম ধাপে ১০ পৌর নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৯১ জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। অনানুষ্ঠানিক প্রচারণাও শুরু করেছেন তারা। পর্যায়ক্রমে সব প্রার্থী চূড়ান্ত করতে গণভবনে ধারাবাহিক বৈঠক করছে দলটি। মনোনয়নে ক্লিন ইমেজ প্রার্থীদের গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিদ্রোহী, বিতর্কিতদের মনোনয়ন না দেয়া, ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রাধান্য দেয়া, সুশিক্ষিত, নারী নেতৃত্ব, দক্ষ ও যোগ্যদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে নৌকার টিকেট।

এদিকে ঘোমটা পরে বিএনপি ইউপি ভোটে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয়ভাবে অংশ না নিয়ে তাদের প্রার্থীদের স্বতন্ত্র প্রার্থী করে ভোটে দাঁড় করাচ্ছে। বিএনপি ঘোমটা ছেড়ে প্রকাশ্যে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সৎ সাহস প্রদর্শন করুক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি ‘বর্জন’ করলেও ভোটের মাঠে নেতারা : আসছে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। নির্বাচন ‘নিরপেক্ষ’ হচ্ছে না বলেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এটা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভোট চুরির অভিযোগ তুললেও পরে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশ নেয় দলটি। ফখরুল বলেন, আমরা মনে করেছিলাম, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অন্তত একটা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করার ব্যবস্থা করা হবে, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার ব্যবস্থা নেবে।

কিন্তু এখন পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদসহ পৌরসভা-উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে যা হয়েছে; এত হতাশাজনক- আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনগুলোতে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদে আমাদের দলের কাউকে মনোনয়ন দিচ্ছি না। এদিকে, প্রকাশ্যে বর্জনের ঘোষণা দিলেও দলের কোনো নেতা নিজ দায়িত্বে প্রার্থী হলে বাধা দেবে না বিএনপি- এমন ইঙ্গিতও স্পষ্ট করেই দেয়া হয়েছে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে। ফলে প্রায় সব ইউপিতেই ভোটে লড়ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। প্রথম ধাপে যেসব ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়েছে- তাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে বেশ কয়েকটিতে জয়ীও হয়েছেন বিএনপি নেতারা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। এরই মধ্যে অনেক জায়গায় স্বতন্ত্র প্রার্থিতা ঘোষণা করে মাঠে নেমে পড়েছেন বিএনপির তৃণমূল নেতারা।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন : বর্তমানে যেসব নির্বাচন হচ্ছে, তা গ্রহণযোগ্যতার সংজ্ঞায় পড়ে না মন্তব্য করে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, নির্বাচন আর নেই। নির্বাসনে চলে গেছে। কেউ আর নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামায় না। নির্বাচন দরকার, তাই হচ্ছে। শুধু নিয়ম রক্ষা। আর কিছুই নয়।

জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ (জানিপপ) চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ভোরের কাগজকে বলেন, সত্তরের নির্বাচন মওলানা ভাসানী বর্জন করেছিলেন। তাতে কোনো সমস্যা হয়নি। নির্বাচনে কোনো অ্যাক্টর যদি রোল প্লে না করেন, সেটা তার সমর্থকদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আর কিছু নয়। সামগ্রিক নির্বাচনে প্রভাব পড়ে না। গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আসে না। সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য যারা অংশ নেবেন, তারা দায়িত্বশীল আচরণ করবেন। অন্যদিকে ভোটাররা যেন সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেন সেজন্য ভোট সংশ্লিষ্টদের দক্ষ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, সব রাজনৈতিক দল যদি এগিয়ে না আসে, তাহলে নির্বাচন কীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে?

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়