করোনাকালে আয়েবার উদ্যোগে ইউরোপে ফিরেছে ৪৮২ প্রবাসী বাংলাদেশি

আগের সংবাদ

রবিবার প্লে অফে দিল্লি-চেন্নাই মুখোমুখি

পরের সংবাদ

ক্লাব ফুটবলে নতুন পরাশক্তি নিউক্যাসল

প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২১ , ১০:৩০ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০২১ , ১০:৩০ অপরাহ্ণ

আরবের ধনকুবরা একটি মরা ক্লাবকে কীভাবে চাঙ্গা করে তুলতে পারে তার বড় প্রমাণ ফ্রেঞ্চ লিগ ক্লাব পিএসজি। ফরাসি ক্লাবটির বয়স ৫১ বছর হলেও এর অর্জনের ৯০ শতাংশই গত এক দশকে। ২০১১ সালে কাতার ফরাসি ক্লাবটিকে নিজেদের মালিকানাধীন করে ফ্রেঞ্চ লিগে একচ্ছত্র আধিপত্য করে যাচ্ছে। ৪০ বছরে ২টি ফ্রেঞ্চ লিগ ট্রফি জেতা দলটি কাতারের অধীনে এসে শেষ ১০ বছরে জিতেছে ৭টি প্রিমিয়ার লিগ ট্র্রফি। সভাপতি নাসের আল খেলাইফি টাকার বস্তা হাতে নিয়ে ক্লাবটিতে ভিড়িয়েছে বিশ্বের নামি-দামি সব ফুটবলারকে।

বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সেরা তিন তারকা মেসি, এমবাপ্পে, নেইমাররা একসঙ্গে খেলছেন ক্লাবটিতে। পিএসজির এতসব প্রসঙ্গ এসেছে ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসলকে ঘিরে। সম্প্রতি দলটির মালিকানায় এসেছে পরিবর্তন। দলটিকে নিজেদের মালিকানায় টেনে নিচ্ছেন আরব বিশ্বের আরেক ধনকুব রাষ্ট্র সৌদি আরব। আরো ভেঙে বললে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ফলে এবার অন্ধকারে থাকা আরেকটি ক্লাবের আকাশে নতুন সূর্য উঁকি দিচ্ছে।

নিউক্যাসল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শেষবার শিরোপা জিতেছে ৯৪ বছর আগে ১৯২৬-২৭ মৌসুমে। এদিকে সৌদি যুবরাজের ছোঁয়ায় ক্লাবটি পিএসজিকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে অনেকে মতপোষণ করছে। বলা যায়, পিএসজি যেমন মেসি, নেইমার, এমবাপ্পেকে নিয়ে শক্তিশালী দল গঠন করেছে, নিউক্যাসলও তারকা সব ফুটবলার ভিড়িয়ে ছাড়িয়ে যাবে প্রিমিয়ার লিগের বাকি সব ক্লাবকে।

নিউক্যাসল তাদের দলে অ্যালান শিয়ারার, পল গ্যাসকোয়েন, অ্যান্ডি কোল, কেভিন কিগান, পিটার বিয়ার্ডসলির মতো একাধিক প্রিমিয়ার লিগ কিংবদন্তি ফুটবলারকে দলে ভিড়িয়েও গত ৯৪ বছর লিগ জিততে পারেননি, এবার তারাই সবকিছু জেতার স্বপ্ন দেখছেন। ঐতিহ্যবাহী এ ক্লাবকে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, সৌদি মালিকানাধীন কনসোর্টিয়াম সৌদি পাবলিক ইনভেস্ট ফান্ড (পিআইএফ), পিসিপি ক্যাপিটাল পার্টনার্স এবং আরবি স্পোর্টস মিডিয়া নিউক্যাসল কিনে নিয়েছে। পিআইএফের এই তহবিলের প্রধান সৌদি যুবরাজ প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এতে শুধু প্রিমিয়ার লিগেরই নয়, বিশ্ব ফুটবলেরই অন্যতম পরাশক্তি হয়ে ওঠার অপেক্ষায় আছে ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম প্রাচীন এ ক্লাব।

ম্যানচেস্টার সিটি, পিএসজি, চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, লিভারপুল, জুভেন্টাসের মতো আগামী দলবদলের বাজারেই হয়তো টাকার বস্তা নিয়ে নামবে নিউক্যাসল। ঝুলিতে পুড়বে ফুটবলের নামকরা ও প্রতিভাবান একেক খেলোয়াড়কে। গত ১৪ বছর কিপটে মালিক মাইক অ্যাশলির কারণে একসময়ের ঐতিহ্যবাহী নিউক্যাসল ধুঁকছিল ইংলিশ ফুটবলে। সেদিন আর নেই, এটা এখন বলাই যায়।

নিউক্যাসল ইউনাইটেড ফুটবল ক্লাব প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী একটি ক্লাব। ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত ১২৮ বছরের পুরনো ক্লাবটি দ্য ম্যাগপাইস নামেও পরিচিত। প্রত্যাবর্তনের শুরুতে ক্লাবটি বেশ দাপটের সঙ্গেই প্রিমিয়ার লিগে খেলতো। বিশ শতকের প্রথম দিকে দ্য ম্যাগপাইসের জন্য ছিল সোনালি যুগ।

১৯০৪-০৫, ১৯০৬-০৭, ১৯০৮-০৯ ও ১৯২৬-২৭ সালে ক্লাবটি জিতেছিল প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা। এরপরে হঠাৎই কালের বিবর্তনে হারিয়ে যায় ক্লাবটি। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় লিগ শিরোপা ও এফএ কাপের শিরোপা জিতলে প্রিমিয়ার লিগে যেন তারা গভীর সমুদ্রে ডুবে যাওয়া কোনো তরী। মাঝে ১৯৯৫-৯৬ ও ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে অবশ্য টানা দুইবার রানার্সআপ হয় দ্য ম্যাগপাইসরা।

এরপর আবার অতল সমুদ্রে ডুব দেয় দলটি। এবার ক্লাবটির সামনে সুযোগ এসেছে পাল তুলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দাপিয়ে ভেড়ার। ২০২০-২১ মৌসুমে ২০ দলের মধ্য ১২তম স্থানে থাকা দলটি এবার সৌদি মালিকানায় ম্যান সিটি, লিভারপুল, ম্যানইউ, চেলসির মতো ইংলিশ জায়ান্ট ক্লাবগুলোকে চোখ রাঙিয়ে কথা বলার স্বপ্ন দেখছে।

এদিকে লিভারপুল, সিটি, ইউনাইটেড, চেলসি, আর্সেনালসহ প্রিমিয়ার লিগের অন্য ক্লাবগুলোও হঠাৎ নিজেদের লিগে সৌদি রাজপরিবারের এই ‘দাদাগিরি’ মানতে পারছে না। আগামী সপ্তাহে নিজেদের মধ্যে জরুরি সভার আয়োজন করে প্রিমিয়ার লিগের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে চাইছে তারা। তবে এই সভা করে যে নিউক্যাসলের মালিকানা বদল আটকানো যাবে না, সেটা অন্য ক্লাবগুলো বেশ ভালোই বোঝে।

বরং এভাবে মালিকানা বদল হওয়ায় তারা যে কতটা ক্ষিপ্ত, এই সভায় মূলত তার বহিঃপ্রকাশই দেখা যাবে বলে জানিয়েছে ইংলিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। তবে সৌদি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের হাতে নিউক্যাসলকে তুলে দেয়া নিয়ে সতর্ক করেছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা দাবি করেছিল, সৌদি আরবের রাজতন্ত্র এই ক্লাবকে ব্যবহার করে অতীত মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো কাজগুলো মুছে ফেলার চেষ্টা করবে, খেলাধুলার ভাষায় যা ‘স্পোর্টসওয়াশিং’।

নিউক্যাসলে বিলিয়নিয়ার মালিক আসার কারণে খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামো ও দলবদল ফি যে আরো বেড়ে যাবে, এ ব্যাপারটা নিয়েও অসন্তুষ্ট প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাস্টার্স ও সভাপতি গ্যারি হফম্যান নিউক্যাসলের মালিকানা বদল নিয়ে এর মধ্যেই অনেক ক্লাবের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছেন। বলা হয়েছে, নিউক্যাসলে যে পালাবদল আসতে চলেছে সে ব্যাপারে ওসব ক্লাব কিছুই জানত না। এমনকি এ বিষয়টি সম্প্রতি হওয়া শেয়ারহোল্ডারদের সভাতেও উত্থাপিত হয়নি।

রি-এস/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়