৭০ ভাগ গার্মেন্টসে সুশাসন নেই: সিপিডি

আগের সংবাদ

করোনায় একদিনে আরও ২০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৪১৫

পরের সংবাদ

আফগানিস্তানের মেয়ে আলিয়ার ময়না এখন ফরাসি রাষ্ট্রদূতের কাছে

প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২১ , ৪:৫৭ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০২১ , ৪:৫৭ অপরাহ্ণ

ছোট্ট একটি পোষা ময়না পাখি জুজি। তাকে অত্যন্ত আদরে পুষে রেখেছিল আফগানিস্তানের মেয়ে আলেয়া। তাদের মধ্যে গড়ে উঠেছিল নিখাদ বন্ধুত্ব। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একদিন বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হলো দুজনকে।

গত ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুল দখলের মাধ্যমে আফগানিস্তানের শাসনক্ষমতা গ্রহণ করে। এর ফলে কাবুল ছাড়তে বাধ্য হয় আলিয়ার পরিবার। প্রথমে কাবুল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আরেকটি ফ্লাইটে ফ্রান্সের প্যারিসে পাড়ি দেয় তারা। তবে বিমানে ওঠার আগে বাধে বিপত্তি। আবুধাবি থেকে ফ্রান্সের উদ্দেশে রওনা দেয়ার সময় জুজির কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হয় আলিয়াকে। ইচ্ছা থাকলেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়মের প্রতিবন্ধকতায় জুজিকে বিমানে তোলার অনুমতি পায়নি সে।

আলিয়ার কষ্ট বুঝতে পেরে এগিয়ে আসেন আবুধাবিতে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জেভিয়ার চ্যাটেল। জুজিকে বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। সেখানেই নতুন আশ্রয় খুঁজে পায় জুজির ময়না পাখিটি। আস্তে আস্তে ফরাসি শব্দও শিখতে শুরু করেছে সে। জেভিয়ার চ্যাটেল কথা দিয়েছেন, আলিয়া আর জুজিকে আবারও একত্র করতে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তিনি।

তালেবান কাবুল দখলে নেয় গত ১৫ আগস্ট। ১৪ থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে এক লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে আফগানিস্তান থেকে বিমানে করে সরিয়ে নেয়া হয়।

ঝুঁকিতে থাকা প্রায় দুই হাজার ৬০০ আফগানকে বিশেষ ফ্লাইটে ফ্রান্সে সরিয়ে নেয়া হয়। তেমনই একটি ফ্লাইটে জায়গা হয় আলিয়ার পরিবারের।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত জেভিয়ার চ্যাটেল টুইটে বলেন, আল দাফরা বিমানঘাঁটিতে ছোট্ট একটি মেয়েকে ময়না পাখি নিয়ে আসতে দেখেন তিনি। মেয়েটি ভীষণ ক্লান্ত ছিল। পাখিটি সঙ্গে থাকায় কাবুল বিমানবন্দরে প্রবেশে অনেকেই তাকে বাধা দেয়। তবু হাল ছাড়েনি আলিয়া। পাখিটিকে বিমানে ওঠার অনুমতি দেওয়া হবে না- এমন কথা শুনে আলিয়া কাঁদতে শুরু করে। চ্যাটেল বলেন, তিনি আলিয়াকে কথা দেন পাখিটিকে বাসায় নিয়ে যাবেন। যত্ন নেবেন। আলিয়াকে এমনও বলেন, সে চাইলে যেকোনো সময় জুজিকে দেখতে আসতে পারে।

আলিয়াকে দেওয়া কথা রেখেছেন জেভিয়ার চ্যাটেল। পাখিটির জন্য একটি খাঁচা কিনেছেন। নিয়ম করে তাকে খাওয়ান। সকালে তাকে বাইরে বেড়াতেও নিয়ে যান তিনি, যেন জুজির সঙ্গে অন্য পাখিদের দেখা হয়। চ্যাটেল বলেন, ‘জুজি ধীরে ধীরে পোষ মানতে লাগল, অনেক কথা বলতে শুরু করল। যে ভাষায় ও কথাগুলো বলত, তা আমাদের বোধগম্য ছিল না।’

মানুষের ভাষা অবিকল অনুকরণের সক্ষমতার জন্য ময়না পাখি খুব পরিচিত। সে কথা চ্যাটেলেরও জানা আছে। এ জন্য জুজিকে কিছু ফরাসি ভাষা শেখানোর চেষ্টা করছেন তিনি। প্রথমেই তিনি শিখিয়েছেন ‘বনজোর’ শব্দটি। এর অর্থ হলো ‘হ্যালো’।

জুজিকে লালন-পালনের শুরুর দিকের কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রদূত চ্যাটেল। বলেন, পুরুষদের পছন্দ করত না জুজি। ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকাত। তবে নারীদের দেখলে সে খুশি হতো। ধীরে ধীরে পাখিটি পোষ মানতে শুরু করে।

জেভিয়ার চ্যাটেল জানান, আলিয়া প্যারিস থেকে নিয়মিত পাখিটির খোঁজখবর নিচ্ছে। তার আদরের পাখিটি এতটা যত্নে আছে জেনে সে খুব আনন্দিত।

আলিয়ার উদ্দেশে চ্যাটেল টুইটে বলেন, আলিয়া, দূতাবাসের সবাই মনে করে তোমার পাখিটি সৌভাগ্য বয়ে এনেছে। তবে ও তোমার কাছেই ফিরে যাবে। আমি নিজেই ওকে তোমার কাছে নিয়ে যাব।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়