আবরার হত্যার দুই বছর: ছেলের হত্যার বিচারের প্রতীক্ষায় মা

আগের সংবাদ

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ফেরাতে হবে

পরের সংবাদ

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হেলাফেলা আর নয়

প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২১ , ১:২২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৭, ২০২১ , ১:২২ পূর্বাহ্ণ

সঠিক ব্যবস্থার অভাবে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য অনেকটাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ডিজিটাল বর্জ্য, চিকিৎসা বর্জ্য, পলি বর্জ্যরে মতো বিষয়গুলো সামলাতে নগর কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খুবই নাজুক। দেশে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য উৎপাদন হার প্রতিদিন বেডপ্রতি ০.৯৪ কেজি। এর মধ্যে কোভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট বর্জ্যরে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে মারাত্মক স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত বিপর্যয় আরো বেড়ে গেছে। কিন্তু এর উৎপাদন সম্পর্কিত নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে সঠিক বাস্তবায়ন করতে পারলে বর্জ্য থেকে সম্ভাবনার সম্পদ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। গত মঙ্গলবার ইউএসএআইডিও এবং এফসিডিওর আর্থিক সহযোগিতায়, কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনালের কারিগরি সহায়তায়, ডিএসকে কনসোর্টিয়াম ও ভোরের কাগজের যৌথ আয়োজনে ‘কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। এছাড়া ওয়েবিনারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অনেক সুপারিশ উঠে আসে। বেসরকারি সংস্থার সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, শুধু ঢাকা মহানগরে প্রতিদিন ২০৬ দশমিক ২১ টন করোনা বর্জ্য হচ্ছে। মাস্ক, হ্যান্ড গøাভস, হেড কভার, সু কভার, গগলস, ফেইস শিল্ড বা গাউনসহ যেসব সুরক্ষা সামগ্রী সাধারণ মানুষ ব্যবহার করছেন, তার একটা বড় অংশ রাস্তাঘাটে উন্মুক্ত জায়গায় ফেলে দেয়া হচ্ছে। এসব বর্জ্য থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিনিয়ত এসব বর্জ্য পানি, খাবার, মাটি, বাতাস, পশু-পাখির মাধ্যমে মানুষ ও পরিবেশের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিষয়টির ভয়াবহতা জেনেও সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে উদাসীন। করোনার বর্জ্য মানব স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ংকর ঝুঁকি বিবেচনায় সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে ৫টি নির্দেশনা মানতে চিঠি দেয়। নির্দেশনায় প্রত্যেক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে করোনা বর্জ্য আলাদা করার প্রক্রিয়া নিয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া, দুই স্তরবিশিষ্ট প্লাস্টিক ব্যাগের দুই-তৃতীয়াংশ এসব বর্জ্য ভর্তি করে ব্যাগের মুখ ভালোভাবে বেঁধে আলাদা বিনে রাখতে হবে, বিনের গায়ে লেখা থাকতে হবে- কোভিড-১৯ বর্জ্য। তবে সরকারি হাসপাতালগুলোতে অল্পসংখ্যক পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিলেও বেসরকারি হাসপাতালে এমন কোনো উদ্যোগ নেই বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি। এমন উদাসীনতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মাস্ক, গøাভসসহ যে কোনো ধরনের মেডিকেল বর্জ্য বাইরে ফেলা উচিত নয়। সরকারি-বেসরকারি যে প্রতিষ্ঠানই হোক, তাদের মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যে গাইডলাইন আছে, সেগুলো অনুসরণ করে কাজ করা উচিত। অতি দ্রুত সিটি করপোরেশন বা পৌরসভাগুলোকে তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ঢেলে সাজাতে হবে। ধরন ভেদে প্রতিটি বর্জ্য তার উৎসেই আলাদা করার ব্যবস্থা নিতে হবে। আলাদা আলাদাভাবে সংগ্রহ, পরিবহন, ডাম্পিং ও ধ্বংস করার ব্যবস্থা নিতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষাও। দায়িত্ব যতটা স্বাস্থ্য বিভাগের, ততটাই নগর কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমেরও। পাশাপাশি পারিবারিক স্তরে, সামাজিক বলয়ে এবং প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব বোধের বিষয়টাও প্রত্যাশিত।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়