লালমনিরহাটে জাতীয় পার্টির আহবায়ক কমিটি গঠন

আগের সংবাদ

পরীক্ষার ১৮ বছর পর স্বপ্ন পূরণ হলো সুমনার

পরের সংবাদ

অর্থবছরের প্রথম মাসে দুই হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি

প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২১ , ১০:৫৩ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৭, ২০২১ , ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

সম্প্রতি জাতীয় সঞ্চয়পত্রের স্কিমগুলোর মুনাফার হার কমিয়েছে সরকার। নতুন হার অনুযায়ী ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের স্কিমে মুনাফার হার আগের মতো রাখা হয়েছে। তবে এর বেশি পরিমাণ স্কিমে মুনাফার হার কমানো হয়েছে। তবুও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। সাধারণ মানুষ নিশ্চিত মূলধন ফেরত ও ব্যাংকের চেয়ে বেশি মুনাফার আশায় সঞ্চয়পত্র কিনছেন।

চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রথম মাস শেষে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল ও মুনাফা বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে তিন হাজার ২৬১ কোটি টাকা। তবে মূল ও মুনাফার খরচ বাদ দিয়ে জুলাই শেষে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ১০৪ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরের (২০২০-২০২১ সালের জুলাই মাসের শেষে) একই সময়ে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঘাটতি বাজেট পূরণে সরকার বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ উৎসের আশ্রয় নিয়ে থাকে। তবে চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎসের চেয়ে বৈদেশিক উৎসের প্রতি নির্ভরতা কিছুটা বাড়িয়েছে সরকার। অভ্যন্তরীণ খাত থেকে চলতি অর্থবছরে ঋণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। যার মধ্যে ব্যাংক থেকে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা এবং জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা থেকে ঋণ নেবে সরকার। আর অন্যান্য খাত থেকে সরকার নেবে ৫ হাজার ১ কোটি টাকা।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। যা আগের অর্থবছর ২০১৯-২০২০-এ ছিল ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। অর্থবছর হিসেবে এটিই সর্বোচ্চ বিক্রি। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৯০ হাজার ৩৪২ কোটি ৩৯ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিক্রি হয়েছিল ৬৭ হাজার ১২৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র।

গত অর্থবছরের সর্বশেষ মাস জুনে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা, মে মাসে ছিল ২ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা এবং এপ্রিলে ১ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা। তার আগের মাস মার্চে নিট ঋণ এসেছিল ৩ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৩ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা, জানুয়ারিতে ৫ হাজার ২১৫ কোটি টাকা, ডিসেম্বরে ১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা, নভেম্বরে ৩ হাজার ৪০২ কোটি টাকা, অক্টোবরে ৪ হাজার ৩৪ কোটি টাকা, সেপ্টেম্বর মাসে ৪ হাজার ১৫২ কোটি টাকা, আগস্টে ৩ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা এবং অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা নিট ঋণ এসেছিল সঞ্চয়পত্র থেকে।

আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে, তাকে নিট বিক্রি বলা হয়। বিক্রির ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। এর বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে লভ্যাংশ দিতে হয়। অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়