কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাস্তবায়নযোগ্য নীতি প্রণয়নের তাগিদ

আগের সংবাদ

হারনাজ সান্ধুর টার্গেট মিস ইউনিভার্স

পরের সংবাদ

শাজাহান খানের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেয়া কর্মকর্তার শাস্তির সুপারিশ

প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০২১ , ৯:৩৭ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৫, ২০২১ , ৯:৩৭ অপরাহ্ণ

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের দুই কর্মকর্তা এবং সংসদ সদস্য শাজাহান খানকে শ্রমিক অসন্তোষের ষড়যন্ত্রের মিথ্যা অভিযোগে জড়ানোর দায়ে অধিদফতরের উপমহাপরিদর্শক ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত সাব-কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনার পর এ সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি মুজিবুল হকের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, শাজাহান খান, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, মানু মজুমদার, শামসুন নাহার এবং আনোয়ার হোসেন (হেলাল) আলোচনায় অংশ নেন।

বেশ কিছুদিন আগে কলকারাখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক শেখ আসাদুজ্জামান এবং জাকির হোসেন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সংসদ সদস্য শাজাহান খানের সংসদ হোস্টেলের কার্যালয়ে গিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য কাজ করছে- এমন প্রতিবেদন দিয়েছিলেন অধিদফতরের উপমহাপরিদর্শক ইউসুফ আলী। ওই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।

জানা গেছে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য শাহাজান খান তাকে জড়িয়ে সরকারি দফতরের প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়টি গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটিতে তোলেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে তার সুরাহা চান। পরে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি পুনঃতদন্তের জন্য বেগম শামসুন নাহারকে আহ্বায়ক করে দুই সদস্যের সাব-কমিটি গঠন করা হয়। মঙ্গলবারের বৈঠকে ওই সাব-কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শেখ আসাদুজ্জামান এবং জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে, তার পুরোটাই মিথ্যা। ঘটনার দিনে তারা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য শাজাহান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। ওই ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলীও সাব-কমিটির কাছে স্বীকার করেছেন দুই জন কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে অনুমানের ভিত্তিতে তাদের জড়িত থাকার প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও তথ্য প্রমাণাদি দাখিল করতে পারেনি বলে সাব-কমিটির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। ঘটনার জন্য মো. ইউসুফ আলী সাব-কমিটির কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

জানা গেছে, বৈঠকে দুই কর্মকর্তাকে অভিযোগ থেকে রেহাই দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ওপর থেকে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়। একইসঙ্গে ভুল ও মিথ্যা তদন্তের জন্য উপমহাপরিদর্শক মো. ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবার সুপারিশ করা হয়।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি মুজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সাব-কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করেছি। তদন্তকারী কর্মকর্তা দুই জন অফিসারের বিরুদ্ধে অসন্তোষের মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছি। আমরা ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তি প্রত্যাহার করতে বলেছি। আর মিথ্যা তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার কারণে মো. ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

রি-এনআরআর/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়