নতুন মজুরি স্কেল ঘোষণার দাবি করল গার্মেন্টস শ্রমিকরা

আগের সংবাদ

শেখ হাসিনার জন্মদিনে যশোর যুবলীগের ব্যতিক্রমী আয়োজন

পরের সংবাদ

মনোরম পরিবেশের এক অপূর্ব ঠিকানা আছরাঙ্গা দীঘি

প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২১ , ১০:০৮ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১, ২০২১ , ১০:০৮ অপরাহ্ণ

জয়পুরহাট জেলা শহর হতে ১৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ক্ষেতলাল। ১৮৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্ষেতলাল উপজেলায় হাজার হাজার গাছগাছালির ছায়াঘেরা মনোরম ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশের এক অপূর্ব ঠিকানা ঐতিহাসিক আছরাঙ্গা দীঘি।

ক্ষেতলাল উপজেলার ১৪২ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২৯ হাজার ৮০৫ টি পরিবারে বাস করে এক লাখ আট হাজার ৩২৬ জন লোক (২০১১ আদমশুমারি অনুযায়ী)। উপজেলা সদর হতে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। সেই পরিষদ ভবন হতে মাত্র দুই কিলোমিটার পশ্চিমে আঁকাবাঁকা পাকা রাস্তা পেরিয়েই এক নিভৃত পল্লীতে অবস্থিত ঐতিহাসিক আছরাঙ্গা দীঘি আর দীঘির চারপাশে রয়েছে ৭ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। ফলে গাছ-গাছালির ছায়াঘেরা অপূর্ব এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ এর অপূর্ব ঠিকানা হিসেবে পরিচিত দীঘিটি।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা, দীঘিটির আয়তন ২৫ একর। যার দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৭০ ফুট এবং প্রস্থ ১ হাজার ফুট। দীঘির চারদিকে লাগানো রয়েছে সারি সারি শোভাবর্ধনকারী ৭ হাজারেরও অধিক বনজ ও ফলজ গাছ।

জনশ্রুতি আছে, ঐতিহাসিক আছরাঙ্গা দীঘি অনেক প্রাচীন একটি দীঘি। ধারণা করা হয় আনুমানিক ৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে এই দীঘি খনন করা হয়েছিল। তবে কে খনন করে সে নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। জমিদার মহারাজাদের হুকুমে রাজেন্দ্র রায় দীঘিটি খনন করেন। অনেকের মনে করেন, তাহেরপুর রাজপরিবারের সদস্য মনু ভুট্র এই দীঘি খনন করেছিলেন। যার মালিক ওই ছিলেন রাজবংশের রাজা কংস নারায়ণ রায়। রাজ পরিবারের গোসল ও পানি ব্যবহারের সুবিধার্থে দীঘিটির চারদিকে ৫০ ফুট দৈর্ঘের চারটি ঘাট নির্মান করা হয়, যা এখনও বিদ্যমান।

বিগত ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রবেশ মুখেই আছরাঙ্গা দীঘির দূরত্ব উল্লেখসহ একটি প্রবেশ গেট তৈরী করে দেন। এছাড়া এ বছর গত মার্চ মাসে এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে চীনের কয়েকজন নাগরিকদের নিয়ে দীঘিটি পরিদর্শন করেন তিনি।

হুইপ স্বপন স্বাধীনতার ৫০ বছর পর ক্ষেতলাল উপজেলাবাসীকে দৃষ্টিনন্দন একটি পর্যটন কেন্দ্র উপহার দিবেন এমনটিই প্রত্যাশা উপজেলাবাসীর।

জানা গেছে, ১৯৯২ সালে দীঘিটি খনন কাজের পর হতে দীর্ঘ ২৪ বছরেও দীঘিটিতে ছিলনা কোন উন্নয়নের ছোঁয়া। কিন্তু বর্তমান জাতীয় সংসদের হুইপ ও জয়পুরহাট-২ সংসদীয় আসনের এমপি আবু সাঈদ আল মাহমুদ এমপি নির্বাচিত হওয়ার পূবের্ই ওই জনপদের দায়িত্ব নিলে দীঘিটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগা শুরু করে। কাঁচা রাস্তার পরিবর্তে হয়েছে পাকা রাস্তা। এছাড়া বর্তমানে দীঘিতে আগত অতিথি ও দর্শনার্থীদের বসার জন্য দীঘির চারপাশে ৮টি বেঞ্চ ও বিশ্রামের জন্য ২ কক্ষের একটি আধুনিক মানের অতিথিশালা জেলা ও উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে। যা গত ১৪ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরীফুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন।

ক্ষেতলাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ( ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মজিদ মোল্লা ভোরের কাগজকে জানান, সুস্থ বিনোদন ও মেধা বিকাশে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা জরুরী। আমরা সেই দিক হতে বঞ্চিত। আমাদের হুইপ স্বপন ভাই এটির জন্য কাজ করছে। আমি আশা করি আমাদের জনপ্রিয় নেতা হুইপ স্বপন ভাই ৫০ বছরের অপূর্ণতার অবসান ঘটিয়ে আছরাঙ্গা দীঘিকে একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে ক্ষেতলালবাসীকে উপহার দিবেন।

উপজেলার সদ্য বিদায়ী নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম আবু সুফিয়ান ভোরের কাগজকে বলেন, আমি সস্ত্রীক সেখানে ঘুরতে গিয়েছিলাম। আছরাঙ্গা দীঘি গাছগাছালিতে ভরা এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশের অপূর্ব জায়গা। দীঘির চারপাশে ৮টি বেঞ্চ ও বিশ্রামের জন্য ২ কক্ষের একটি আধুনিক মানের অতিথিশালা নির্মাণ করা হয়েছে । এখন একটি টয়লেট ও বৃষ্টির পানি থেকে বাঁচতে সেড করা প্রয়োজন।

আবু সুফিয়ান আরও বলেন, আছরাঙ্গা দীঘিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রকল্প অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে।

আর- এটি / ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়