আশুলিয়া-রাপা প্লাজায় স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনার হোতা সোহরাব গ্রেপ্তার

আগের সংবাদ

অবিকল যেন ক্যাটরিনা

পরের সংবাদ

শেরপুরে হত্যা মামলার আসামীর বাড়ি লুটপাট করল বাদীপক্ষ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১ , ৩:৪১ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১ , ৩:৫২ অপরাহ্ণ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের দক্ষিণ বনকুড়া গ্রামে একটি হত্যা মামলার আসামীর বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে বাদীপক্ষ। গত ২৬ আগস্ট এ ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে নিহত সাহেদ আলীর স্ত্রী সহিতন বেগমের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে তাদের পুকুরের মাছ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাহেদ আলীর সাথে প্রতিবেশী শাহ আলী ও তার লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। গত ২৪ আগস্ট সাহেব আলী ওই জমিতে ধান চাষ করতে গেলে শাহ আলীর লোকজন তাকে মারধর করে। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে সাহেদ আলীসহ উভয় পক্ষের ৪/৫ জন আহত হন। আহত সাহেদ আলীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসকগণ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। শেরপুর সদর হাসপাতাল থেকে পাঠানো হয় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পরদিন ২৫ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাহেব আলীর মৃত্যু হয়।

সাহেদ আলীর মৃত্যুর খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ ওই দিনই চার জনকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় নিহত সাহেদ আলীর ছেলে সুমন মিয়া বাদী হয়ে শাহ আলীকে প্রধান আসামী করে তাদের ১১ জনের নামে নালিতাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

পরদিন গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শাহ আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, এ হত্যার ঘটনাকে পুঁজি করে ২৬ আগস্ট বাদীপক্ষের সুমন মিয়া, স্বপন মিয়া, রহিম উদ্দিন, সুজন মিয়া, সাইফুল ইসলাম বাচ্চু, আহসান আলী, রাসেল মিয়া, সোহাগ মিয়া, জালাল উদ্দিন ও আব্দুল গফুরের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের ৩টি পরিবারের আটটি বসতঘরে হামলা,ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।

বাদীপক্ষের ভাংচুর ও লুটপাটের নমুনা

লুটপাটকারীরা তাদের বাড়িতে থাকা ১৭টি গরু, ৫টি ছাগল, গোলার ধান, ১টি ল্যাপটপ, ২টি ফ্রিজ, ৩টি খাট, নগদ টাকা-পয়সা-স্বর্ণালঙ্কার, হাঁস-মুরগি ও পুকুরের মাছসহ ঘরের সমস্ত মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।

আসামী পক্ষের আসমত আরা, মর্জিনা বেগম, রহিতন নেছাসহ অন্যান্যরা জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর আমরা জামিনে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি তারা আমাদের বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।

শাহ আলীর মেয়ে সাবিনা ইয়াসমীন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার চোখের সামনে তারা আমাদের ঘরের জিনিসপত্র, গরু-ছাগল ও পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে গেছে। আমি জানের ভয়ে কিছু বলতে পারি নাই। ফোনে থানা-পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হলেও পুলিশ তাদের কোন সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেনি। এখন আমাদের ঘরে খাবার নেই।

সাবিনা আরও বলেন, বাদীপক্ষের লোকজনের ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে তারা এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

নন্নী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম মাহাবুবুর রহমান রিটন, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, প্রতিবেশী মেহের আলী, মোতাহার আলী, রমিছা বেগম, খাদিজা বেগমসহ আরও অনেকে বলেন, ওই হত্যা মামলার বাদীপক্ষের দ্বারা আসামী পক্ষের বাড়িতে যে লুটতরাজ চালানো হয় তা নেহায়েত ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক।

এদিকে, লুটপাটের সাথে জড়িত থাকার ঘটনা অস্বীকার করে বাদীপক্ষের সাইফুল ইসলাম বাচ্চু ও আহসান আলী বলেন, আসামীরা মামলা থেকে রক্ষা পেতে তাদের নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ি সার্কেল) আফরোজা নাজনীন বলেন, লুটপাটের ঘটনাটি কারোরই কাম্য নয়।

তিনি বলেন, লুটপাটের ঘটনাটি কেউ আমাকে আগে জানায়নি। পরে জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট বিট পুলিশ কর্মকর্তাকে সাধারন ডায়েরি করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পুলিশের কোন গাফিলতি থাকলে এবং লুটপাটের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

আর- কেএ / ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়