মুস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিং-ফিল্ডিংয়ের পরও হারল রাজস্থান

আগের সংবাদ

সেরা শিক্ষার্থীরাই বলুক- ‘আমি শিক্ষক হতে চাই’

পরের সংবাদ

গণটিকা প্রদানে শৃঙ্খলা ফেরানো গেল না

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১ , ১:০১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১ , ১:০১ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে গণটিকা দেয়া হয়েছে। মহানগরের ওয়ার্ড এবং উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে এ গণটিকা দেয়া হয়েছে। সারাদেশে ৬ হাজার টিকাকেন্দ্র থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর প্রায় ৮০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ এ টিকা পেয়েছে। সরকারের এই কার্যক্রম নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বর্তমানে যেভাবে মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে তাতে দ্রুততম সময়ে সাধারণ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে সঠিক পদক্ষেপ। শুরুতে টিকা নিয়ে সমাজে নানা ধরনের অপপ্রচার এবং ভীতি তৈরি হলেও সে অবস্থা এখন নেই। এখন টিকা নেয়ার বিষয়ে সবার মাঝেই আগ্রহ লক্ষণীয়। টিকা কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক ভিড়ই বলে দিচ্ছে সবাই এখন টিকা নিতে আগ্রহী। টিকা নেয়া যেন উৎসবে পরিণত হয়েছে। তবে গণটিকা প্রদানে নানা ধরনের অভিযোগ গণমাধ্যমে আসছে। কেন্দ্রে সংশ্লিষ্টদের অব্যবস্থাপনা, গণচাপসহ সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যবিধি একেবারেই উপেক্ষিত হচ্ছে। গণটিকা দেয়ার সময় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ায় করোনার উচ্চ সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিমত, এ ধরনের কার্যক্রম শুরুর আগে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার প্রয়োজন ছিল। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ তা করেনি। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে টিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। ভারতের অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা যখন প্রথম এসেছিল, সেই টিকা প্রদান কার্যক্রম সফলভাবেই পরিচালিত হয়েছিল। কিন্তু এখন দেশে চার ধরনের টিকা দেয়ার কার্যক্রম চললেও টিকাদান কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে নানা জটিলতা। এটা ঠিক, কতসংখ্যক মানুষকে টিকা দেয়া সম্ভব, তা নির্ভর করে টিকাপ্রাপ্তির সংখ্যার ওপর। আমরা মনে করি, টিকার মজুত যা-ই হোক না কেন, সেগুলো শৃঙ্খলার সঙ্গেই প্রয়োগ করা উচিত। ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সি সবাইকে টিকা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। একেকটি ওয়ার্ডে কয়েক হাজার মানুষ বাস করে। তবে সেখানে ৩০০ কিংবা ৬০০ টিকা বিতরণ করা হলে ভিড় বাড়বেই। দেশে চলমান করোনার টিকা কার্যক্রমে বিশেষ গতি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসার পাশাপাশি টিকা প্রদান করতে গিয়ে এক ধরনের অব্যবস্থাপনা আমরা দেখেছি। সরকার যেভাবে দ্রুত টিকার ব্যবস্থা করেছে তা প্রদানের বিষয়টিও সেভাবে দ্রুতায়িত করতে হবে। সব মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে টিকা পায় এবং গ্রহণ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। টিকার আওতায় সবাইকে না আনতে পারলে সংক্রমণ কমিয়ে আনা অনেক কঠিন ব্যাপার। পাশাপাশি টিকা প্রদানে শৃঙ্খলার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। সর্বোপরি, দেশে টিকা প্রদানযোগ্য মানুষের সংখ্যা ১৩-১৪ কোটি হওয়ায় টিকাপ্রাপ্তির বিষয়টিকে নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়