ম্যাক্রোঁর ওপর আবারও ডিম হামলা

আগের সংবাদ

শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বিভোর জামাল-অস্কার

পরের সংবাদ

মঙ্গলবার ঘরের মাঠে ছন্দে ফিরতে মরিয়া মেসি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ , ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ , ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ

এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শুরুটা আশানুরূপ হয়নি পিএসজির। বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুগের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মেসি-নেইমাররা। মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে হাইভোল্টেজ ম্যাচে ম্যানসিটির বিপক্ষে ভালো করার চ্যালেঞ্জ ফরাসি জায়ান্টদের।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় পার্ক দে প্রিন্সেসে ম্যানসিটিকে স্বাগত জানাবে পিএসজি। গতবারের সেমিফাইনালে হারের শোধ তোলার সুযোগ ফরাসি জায়ান্টের সামনে। আর এই ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে, নেইমার ও মেসির আক্রমণ ভাগের আসল পরীক্ষা। যদিও ক্লাব ব্রুগের বিপক্ষে তারা ব্যর্থ ছিলেন। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডও নিজের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে মরিয়া। তিন ম্যাচ খেলে নতুন ক্লাবে এখন পর্যন্ত গোলের দেখা পাননি ছয়বারের বর্ষসেরা ফুটবলার। সুস্থ হয়ে এবার নতুন রূপে হাজির হতে নিবিড় অনুশীলনে দিন পার করেন তিনি।

অন্যদিকে পেপ গার্দিওলা ও লিওনেল মেসির সম্পর্কের রসায়ন অন্যরকম। বার্সেলোনার সেরা সময়ের অপরিহার্য অংশ ছিলেন তারা। কাতালানদের ডাগআউটে যখন ছিলেন গার্দিওলা, তখন তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিলেন মেসি। দুজনের কেউই এখন আর বার্সার নয়। ৯ বছর আগে ন্যু’ক্যাম্প ছাড়েন গার্দিওলা, আর মেসি ২১ বছরের সম্পর্ক চুকিয়ে এখন পিএসজিতে। নতুন ক্লাবে এসে নিজেকে গুছিয়ে নেয়ার আগেই সাবেক গুরুর মুখোমুখি হতে হচ্ছে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে।

ম্যানসিটির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে চেনা ছন্দে ফিরতে মরিয়া মেসি। সমর্থকরা পিএসজির জার্সি গায়ে লিওনেল মেসিকে পেপ গার্দিওলার শিষ্যদের বিপক্ষে গোলের খাতা খুলতে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদী। আগামী ২৪ অক্টোবর ন্যু’ক্যাম্পে রিয়ালকে আতিথ্য দেবে বার্সা। স্প্যানিশ ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ২০০৩ সালের পর এই প্রথম দেখা যাবে না লিওনেল মেসিকে। থাকবেন না সার্জিও রামোসও। দুজনেই এ মৌসুমে প্যারিসে চলে গেছেন। স্পেনে থাকাকালীন মেসি এবং রামোস ছিলেন একে অপরের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী। প্যারিসে অবশ্য এখন তারা ‘বন্ধু’। মেসি পিএসজির হয়ে ৩টি ম্যাচ খেলে ফেললেও রামোসকে এখনো নামতে দেখা যায়নি।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সাবেক গুরু পেপ গার্দিওলার দলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে গতকাল অনুশীলনে ফিরেছেন মেসি। পিএসজি সূত্রে জানা গেছে, চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠেছেন তিনি। যদিও তাকে ম্যানসিটির বিপক্ষে মাঠে নামানো হবে কিনা, এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি পিএসজি। বার্সেলোনা ছাড়ার পর পিএসজিতে নাম লিখিয়ে মাত্র তিন ম্যাচ খেলেই হাঁটুর ইনজুরিতে পড়েন লিওনেল মেসি। খেলতে পারেননি লিগ ওয়ানে ঘরের মাঠের দুইটি ম্যাচও। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ম্যাচে চোখ বিশ্বের অন্যতম সেরা এই তারকার। চোট কাটিয়ে এরই মধ্যে নেইমার-এমবাপ্পেদের সঙ্গে অনুশীলনেও ফিরেছেন মেসি। গত ২০ সেপ্টেম্বর অলিম্পিক লিওর বিপক্ষে ম্যাচে ৭৬ মিনিটের সময় তুলে নেয়া হয়েছিল মেসিকে। ম্যাচ শেষে কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো জানিয়েছিলেন ইনজুরি শঙ্কার কথা। সেই হাঁটুর চোটের কারণে মেস ও মঁপেলিয়ের বিপক্ষে মেসিকে পায়নি পিএসজি।

ম্যানসিটির বিপক্ষে মেসিকে নামানোর কথা পিএসজি ভাবছে কিনা, তা জানা যায়নি। তবে ভক্তরা মেসিকে ফের মাঠে দেখতে উদগ্রীব। হয়তো ম্যানচেস্টার সিটির অনেকেই আশা করছেন, যেন তিনি যথেষ্ট ফিট না হন। কিন্তু রুবেন দিয়াস তাদের চেয়ে আলাদা। সেরা আক্রমণ ভাগের বিপক্ষে লড়তে মুখিয়ে সিটির পর্তুগিজ ডিফেন্ডার, মেসি একজন ফেনোমেনাল খেলোয়াড় এবং একজন পেশাদার হিসেবে এই ধরনের খেলোয়াড়ের বিপক্ষে আপনি খেলতে চাইবেন। মেসি, এমবাপ্পে, নেইমার কিংবা ইকার্দি যেই হোক না কেন পিএসজির গভীরতায় দারুণ শক্তি আছে এবং যাদের মুখোমুখিই হই না কেন, এটা হবে কঠিন পরীক্ষা। ঠিক এ কারণে আরমা প্রত্যেকে এই ম্যাচ খেলতে মুখিয়ে।

দিয়াস আরও বলেন, কয়েক বছর ধরে তারা ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল। তাদের জয়ের মানসিকতায় এবার যুক্ত হয়েছে রামোস ও মেসির মতো খেলোয়াড়রা। কিন্তু আমরা গত মৌসুমে যখন তাদের বিপক্ষে খেললাম তখনই তাদের ছিল নেইমার, এমবাপ্পে ও ডি মারিয়া। ২০০৮-২০১২ সাল পর্যন্ত চার মৌসুম গার্দিওলার অধীনে খেলেছেন মেসি। তাদের দুজনকে একসঙ্গে নিয়ে লা লিগা জায়ান্টরা ছিল অদম্য। তিনটি লা লিগা ও দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ ১৪ শিরোপা জিতেছে ওই সময়। ২০০৯ সালে তো (ছয়টি শিরোপা) জেতার অনন্য নজির গড়েছিল গার্দিওলা-মেসির বার্সা।

বলা হয়ে থাকে মেসির ক্যারিয়ার গড়ায় বড় ভূমিকা গার্দিওলার। কিন্তু স্প্যানিশ কোচ তার সবচেয়ে সফল কোচিং ক্যারিয়ার পার করেছেন মেসিকে নিয়ে। এমনকি ৩৪ বছর বয়সি ফরোয়ার্ডের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলার পর আর কখনো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা হয়নি গার্দিওলার। তার অধীনে ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায় ৪৭ ম্যাচ খেলেছেন মেসি, যেখানে তার গোল ৪৩টি এবং জয় ২৮টি। ১৫ ম্যাচ টাই হয় এবং হেরে গেছে কেবল চারটি ম্যাচ।

গার্দিওলা বার্সা ছাড়ার পর বায়ার্ন মিউনিখে তিন মৌসুম কাটান। আর ম্যানসিটিতে আছেন ২০১৬ সাল থেকে। গত আট বছরে মেসি গার্দিওলার দলের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলেছেন চার ম্যাচ, দুইবার বায়ার্নের বিপক্ষে আর ম্যানসিটির বিপক্ষেও দুইবার। বুন্দেসলিগা দলের বিপক্ষে ২০১৪-১৫ মৌসুমের সেমিফাইনালের দুই লেগ মিলিয়ে বার্সার ৫-৩ গোলের জয়ে ২টি গোল করেছিলেন মেসি। ২০১৬-১৭ মৌসুমে গ্রুপপর্বে মেসির বার্সার মুখোমুখি হয় গার্দিওলার ম্যানসিটি। দুইবারের দেখায় হ্যাটট্রিকসহ করেন চার গোল। মানে স্প্যানিশ কোচের বিপক্ষে চার ম্যাচে ৬ গোল তার। অবশ্য এই ২টি আসরে প্রত্যেকবার দ্বিতীয় লেগে হার দেখেছে মেসির বার্সা।

আর- এস / ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়