সাফল্যের মুকুটে আরো একটি নতুন পালক

আগের সংবাদ

আপনার নেতৃত্বে দেশ হয়ে উঠুক সত্য ও মনুষ্যত্বের

পরের সংবাদ

জাতিসংঘে শেখ হাসিনা

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ , ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ , ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগদান করতে নিউইয়র্কে গেছেন। এটি তার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৭তম অংশগ্রহণ। গত বছর তিনি ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন। পৃথিবীর খুব সংখ্যক সরকারপ্রধান জাতিসংঘের বার্ষিক এই অধিবেশনে এতবার যোগদান করার সুযোগ পেয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যোগদানের পর যতবারই বাংলাদেশকে জাতিসংঘে নেতৃত্ব দিয়েছেন ততবারই তিনি উপস্থিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের কাছে বাংলাদেশকে এবং ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে বিশেষভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষত তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবে পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের বিশেষ আগ্রহের অবস্থানে ছিলেন এবং আছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যদিও ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তারিখে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে একবারই ভাষণ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ভাষণ সারাবিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে বঙ্গবন্ধু তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর সরকার ও জনগণের কাছে সমাদৃত হয়েছিলেন। তাছাড়া ভাষণটি বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনা, যুদ্ধ বন্ধ করা, পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিরসন করা, ক্ষুধা-দারিদ্র্য থেকে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে মুক্ত করার যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, সেটি জাতিসংঘে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ হিসেবে এখনো চিহ্নিত হয়ে আছে। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা হিসেবে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত ছিলেন, ১৯৭৩ সালের অনুষ্ঠিত আলজিয়ার্স জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে তিনি দেশগুলোর নেতাদের কাছে একজন স্বাধীনচেতা, দৃঢ় এবং শোষিতের নেতা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পেরেছিলেন। ১৯৭৫ সালে এই নেতাকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্ষমতার যে রক্তাক্ত ঘটনা ঘটানো হয়েছিল সেটিও বিশ্ব নেতাদের কাছে এখনো মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। শেখ হাসিনা সেই মহান নেতার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শূন্যস্থান পূরণ করেছেন। তিনি তার শাসনকালে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক কল্যাণকামী, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রচরিত্র দানে শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন। এটিও সারা বিশ্বের কাছে জানা আছে। যতবার তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণ করতে নিউইয়র্কে যান, ততবারই বিশ্ব নেতাদের অনেকের সঙ্গেই তার সাক্ষাৎ হয়। আন্তর্জাতিক নানা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে শেখ হাসিনার ভূমিকা সবার কাছে কমবেশি প্রশংসিত হয়। তিনি জাতিসংঘে তার অংশগ্রহণকে সবসময়ই গঠনমূলক ও অর্থবহ করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েই যান এবং সেটি উপস্থাপনেরও উদাহরণ রেখে আসেন। সে কারণে শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগদান করলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এবং ভূমিকা অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকারগণ এবং বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল আন্তোনিও গুতেরেস প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন যে, ‘আপনি আপনার ঘরে এসেছেন।’ এর মাধ্যমে শেখ হাসিনার প্রতি জাতিসংঘের শীর্ষ পর্যায়ের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন সহজে বোঝা যায়।
এবারের ৭৬তম অধিবেশনে যোগদান করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বেশ কিছু পার্শ্ব-অধিবেশনে যোগদান করার মাধ্যমে তার বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ২০ সেপ্টেম্বর তারিখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলাবিষয়ক নেতাদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বাংলদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা তার প্রস্তাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে প্যারিস চুক্তির কঠোর প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা এই বৈঠকে দেয়া তার প্রস্তাবে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিল আদায়ের ওপরও জোর দেন। এই তহবিলের ৫০ শতাংশ বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে অভিযোজন ও স্থিতিস্থাপকতার জন্য ব্যবহার করা হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নতুন আর্থিক প্রক্রিয়া এবং সবুজ প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লোকসান ও ক্ষয়ক্ষতির সমস্যা এবং সেই সঙ্গে বৃহৎ আকারের জনসংখ্যার স্থানচ্যুতি মোকাবিলার আহ্বান জানান। ২০ তারিখ আর্থ ইনস্টিটিউট, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গেøাবাল মাস্টার্স অব ডেভেলপমেন্ট প্র্যাকটিস এবং ইউ এন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক একটি সম্মেলন আয়োজন করে। সেখানে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দারিদ্র্য দূরীকরণ, পৃথিবীর সুরক্ষা এবং সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের সর্বজনীন আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলদেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেয়ার স্বীকৃতি হিসেবে ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ দেয়। এই পুরস্কার অনুষ্ঠানে তিনি ভার্চুয়ালি যোগদান করে বক্তৃতা প্রদান করেন এবং পুরস্কারটি বাংলাদেশের জনগণকে উৎসর্গ করেন। ২২ তারিখ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক হোয়াইট হাউসে আয়োজিত ‘হোয়াইট হাউস গেøাবাল কোভিড-১৯ সামিট : এন্ডিং দ্য প্যান্ডেমিক এবং বিল্ডিং ব্যাক বেটার হেলথ সিকিউরিটি’ শীর্ষক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যোগ দেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি বিশ্ব নেতাদের কাছে কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক জনস্বার্থসামগ্রী’ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানান। এছাড়া স্থানীয় সময় মঙ্গলবার তিনি লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এক গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিশ্রæতিশীল খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, হালকা প্রকৌশল, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, নীল অর্থনীতি, পর্যটন, জ্ঞানভিত্তিক হাইটেক শিল্পসহ অন্যান্য লাভজনক খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’ ২২ তারিখ বুধবার সাধারণ অধিবেশনের ব্যস্ততার ফাঁকে রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশগ্রহণ করে তিনি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন অতি জরুরি বলে উল্লেখ করেন। ভাষণে তিনি ৬টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো নিম্নরূপ :
প্রথমত, কোভিডমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে টিকার সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। গত বছর এ মহতী অধিবেশনে আমি কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। বিশ্ব নেতাদের অনেকে তখন এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেছিলেন। সে আবেদনে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং আমরা ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে টিকা বৈষম্য বাড়তে দেখেছি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, এ যাবত উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের দেশগুলো ১ শতাশেরও কম টিকা পেয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এ টিকা বৈষম্য দূর করতে হবে। লাখ লাখ মানুষকে টিকা থেকে দূরে রেখে কখনই টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা পুরোপুরি নিরাপদও থাকতে পারব না। তাই আমি আবারো আহ্বান জানাচ্ছি, সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, এ মহামারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে অধিক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেলের ওয়ার্কিং গ্রুপ ১-এর প্রতিবেদনে আমাদের এ গ্রহের ভবিষ্যতের এক ভয়াল চিত্র ফুটে উঠেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। ধনী অথবা দরিদ্র কোনো দেশই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ নয়। তাই আমি ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নিঃসরণের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি।
ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম এবং ভালনারেবল-২০ গ্রুপ অব মিনিস্টারস অব ফাইন্যান্সের সভাপতি হিসেবে আমরা ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা- দশক ২০৩০’-এর কার্যক্রম শুরু করেছি। এ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের জন্য জলবায়ুকে ঝুঁকির কারণ নয়, বরং সমৃদ্ধির নিয়ামক হিসেবে পরিণত করার কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে।
তৃতীয়ত, মহামারির প্রকোপে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, করোনাকালে আংশিক বা পুরোপুরি বিদ্যালয় বন্ধের কারণে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর দূরশিক্ষণে অংশগ্রহণের সক্ষমতা ও প্রযুক্তি না থাকায় ভর্তি, সাক্ষরতার হার ইত্যাদি অর্জন হুমকির মুখে পড়েছে।
ডিজিটাল সরঞ্জামাদি ও সেবা, ইন্টারনেটের সুযোগ-সুবিধার সহজলভ্যতা ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এজন্য আমরা জাতিসংঘকে অংশীদারিত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাই।
চতুর্থত, কোভিড-১৯ অতিমারির নজিরবিহীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছি। তবে এ মহামারি অনেক দেশের উত্তরণের আকাক্সক্ষাকে বিপন্ন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা প্রণোদনাভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরো সহায়তা আশা করি।
পঞ্চমত, মহামারিকালে প্রবাসীরা অপরিহার্য কর্মী হিসেবে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি সেবা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তারাও সম্মুখসারির যোদ্ধা। তবুও তাদের অনেকে চাকরিচ্যুতি, বেতন কর্তন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সহজলভ্যতার অভাব ও বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সংকটকালে অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলোকে অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করার এবং তাদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
ষষ্ঠত, রোহিঙ্গা সংকট এবার পঞ্চম বছরে পড়ল। কিন্তু এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি। মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত। অধিবেশন শেষে তিনি নিউইয়র্কে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও কোভিড সংকট মোকাবিলায় তার দল ও সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করেন, সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। ৩০ তারিখ পর্যন্ত তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান শেষে দেশে ফিরে আসবেন। আজ তার ৭৫তম জন্মদিন। তাকে ব্যক্তিগতভাবে বিশেষভাবে অভিনন্দন, দীর্ঘায়ু কামনা করি। তার এমন ব্যস্ততা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতেই সাহায্য করছে এবং করবে।
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়