শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল রাষ্ট্র বাংলাদেশ : জয়

আগের সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে গণটিকা শুরু

পরের সংবাদ

কে জিতবেন এবারের ব্যালন ডি’অর?

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ , ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ , ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ

লিওনেল মেসির শোকেসে ব্যালন ডি’অর ট্রফি আছে সবচেয়ে বেশি ৬টা। নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চেয়ে একটা বেশি। তবে এ বছর ব্যবধান আরো বাড়িয়ে নেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে মেসির। এবার ব্যালন ডি’অর দৌড়ে মেসির সঙ্গে সমান তালে পাল্লা দিয়ে দৌড়াচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদের করিম বেনজেমা, বায়ার্ন মিউনিখের লেভানদোস্কি ও চেলসির ইতালিয়ান মিডফিল্ডার জর্জিনহো। সবশেষ ১২ বছরের ১১টি ব্যালন ডি’অরই ভাগ করে নিয়েছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা দুই ফুটবলার মেসি ও রোনালদো।

ফুটবলের সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। ফ্রান্স ফুটবল নামের একটি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন প্রতি বছর সেরা ফুটবলার নির্বাচন করে থাকে।

১৯৫৬ সাল থেকে চালু হওয়া এই পুরস্কার ফুটবলের সবচেয়ে প্রাচীন পুরস্কার। সর্বপ্রথম এই পুরস্কার জিতে নেন ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথিউস। গত বছর করোনায় স্থগিত থাকার আগ পর্যন্ত প্রতি বছরই দেয়া হয়েছে পুরস্কারটি।

২০১০ সালে ফ্রান্স ফুটবল ও ফিফা সিদ্ধান্ত নেয় ব্যালন ডি’অর ও ফিফা বেস্ট প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড দেয়া হবে একসঙ্গে। তখন থেকে পুরস্কারটির নাম হয় ফিফা ব্যালন ডি’অর। ১৯৯৩ এর পর ২০২১। মাঝের প্রায় তিন দশকের ট্রফির হাহাকার কেটেছে আর্জেন্টাইনদের।

আলবিসেলেস্তেদের নতুন করে শিরোপার স্বাদ পাইয়ে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। পাশাপাশি নিজেও পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি। ৪ গোল আর ৫ অ্যাসিস্টে এবারের কোপা আমেরিকায় দলের ১২ গোলের ৯টিতে অবদান রাখা মেসি, একইসঙ্গে জিতেছেন আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার গোল্ডেন বুট আর সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল অ্যাওয়ার্ড। এ অর্জনই মেসিকে এগিয়ে রাখছে ব্যালন ডি অর জয়ের দৌড়ে।

চেলসির ইতালিয়ান মিডফিল্ডার জর্জিনহোকে অনেকে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এগিয়ে রেখেছেন। এ বছর ডাবল ইউরোপিয়ান ট্রফি তার ঝুলিতে। ক্লাব চেলসির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পর ইতালির হয়ে ইউরো কাপ জয়। ব্লু আর আজ্জুরিদের হয়ে এই সাফল্যে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে এই মিডফিল্ডার নিজেও।
ইতালি ফুটবল দলের মিডফিল্ডার জর্জিনহো এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমি নিজেকে কীভাবে মেসি, রোনালদো, নেইমারের সঙ্গে তুলনা করি? তারা অন্যরকম খেলোয়াড়। কৌশলের মানদণ্ডে আমি বিশ্বের সেরা ফুটবলার নই। কিন্তু, ট্রফির হিসেবে এবার আমার চেয়ে বেশি তো কেউ জেতেনি।

বেনজেমার ব্যালন ডি’অর জেতার দাবির বিপরীতে লেভানডফস্কি কিংবা মেসির দাবি সম্ভবত আরো বেশি জোরাল! বেনজেমা গত মৌসুমে কোনো শিরোপাই জেতেননি, না ক্লাবে, না জাতীয় দলে। আবার গোল করা কিংবা করানোতেও মেসি-লেভার চেয়ে পিছিয়ে বেনজেমা। স্প্যানিশ লিগে গত মৌসুমে বেনজেমার ২২ গোলের চেয়ে বেশি গোল ছিল ভিয়ারিয়ালের জেরার্ড মোরেনো (২৩) ও লিওনেল মেসির (৩০)।

২০২১ সালে ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও জাতীয় দল ফ্রান্সের হয়ে সব মিলিয়ে ৪৩ ম্যাচ খেলেছেন বেনজেমা। তাতে গোল করেছেন ৩০টি, করিয়েছেন ১২টি। রিয়াল কিংবা ফ্রান্সের হয়ে এ বছরে কোনো শিরোপাও জেতেননি বেনজেমা।

অন্যদিকে লেভানডফস্কি ২০২১ সালে ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ ও জাতীয় দল পোল্যান্ডের হয়ে সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ৪০ ম্যাচে করেছেন ৪৮ গোল, করিয়েছেন আরও ৯টি। বায়ার্নের ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ বনে যাওয়া জার্মান লিগ তো জিতেছেনই, কদিন আগে জার্মান সুপারকাপও জিতেছেন লেভা।

আর মেসি কী করেছেন? পিএসজির জার্সিতে ৩ ম্যাচে এখনো কোনো গোল করতে বা করাতে পারেননি ঠিকই, তবে তার আগে বার্সেলোনার জার্সিতে ২০২১ সালে ২৮ ম্যাচে করেছেন ২৭ গোল, করিয়েছেন আরো ৯টি। পালাবদলে ক্ষয়িষ্ণু শক্তির হয়ে পড়া বার্সাকে স্প্যানিশ কাপ জিতিয়েছেন। তবে এর চেয়েও বড় কীর্তি গড়েছেন গত জুলাইয়ে।

আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের শিরোপা খরা ঘুচিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা এনে দিয়েছেন ব্রাজিলের মাটি থেকে, ফাইনালে আর্জেন্টিনা হারিয়েছে নেইমারের ব্রাজিলকে! টুর্নামেন্টে ৪ গোল করার পাশাপাশি ৫টি গোল করেছেন মেসি। গোল করা ও করানো দুদিকেই ছিলেন টুর্নামেন্টে সবার সেরা। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন তিনি।

তাতে একটা কীর্তিও গড়েছেন। ফুটবল ইতিহাসে আর কোনো টুর্নামেন্টে কখনো কোনো খেলোয়াড় শিরোপা জেতার পথে টুর্নামেন্টের সেরা গোলদাতা ও অ্যাসিস্টের তালিকায় সেরা হওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হতে পারেননি।

সবশেষ ট্রফিটি জিতেছেন লিওনেল মেসি। এখন পর্যন্ত ট্রফিটি সবচেয়ে বেশিবার উঠেছে এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের শোকেসে। তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জিতেছেন ৫ বার। মিচেল প্লাতিনি, ইয়োহান ক্রুইফ ও মার্কো ভ্যান বাস্তেন ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ৩ বার করে।
বেনজেমার নতুন মৌসুমের সূচনাটা কেমন হয়েছে, সেটি সংখ্যাতেও স্পষ্ট। মৌসুমে এখন পর্যন্ত ফরাসি স্ট্রাইকার সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ৭ ম্যাচ খেলেছেন রিয়ালের জার্সিতে, তাতে গোল করেছেন ৮টি, সতীর্থদের ৭টি গোলে শেষ পাসও (অ্যাসিস্ট) ছিল তার!

এই গোল করা বা করানো সবই অবশ্য স্প্যানিশ লিগে, চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে রিয়ালের ১-০ গোলের জয়ে বেনজেমার প্রত্যক্ষ অবদান নেই। তাতে কী! লিগে প্রথম ৬ ম্যাচে গোল করে ও করিয়ে মোট ১৫ গোলে অবদান বেনজেমার, একবিংশ শতাব্দীতে স্প্যানিশ লিগের প্রথম ছয় ম্যাচে এত গোলে অবদানের রেকর্ড আর কারো নেই। বেনজেমার ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে রিয়াল কোচ আনচেলত্তি বললেন, হ্যাঁ (সম্ভাবনা আছে)। আমার চোখে, ও এই মৌসুমে যা করছে, গত মৌসুমে যা করেছে, তাতে বেনজেমার ব্যালন ডি’অরের জেতার মতো খেলোয়াড়দের তালিকায় থাকাই উচিত।
তবে এই মৌসুমেই বেনজেমা জিতবেন, সেটা একেবারে জোর দিয়েও বলছেন না আনচেলত্তি।

রিয়াল কোচের চোখে, এবার না পারলেও ৩৩ বছর বয়সি বেনজেমার ব্যালন ডি’অর জেতার সময় এখনই ফুরিয়ে যাচ্ছে না, টা (বেনজেমা ব্যালন ডি’অরের তালিকায় উচিত) বলছি ঠিকই, তবে করিমের পুরস্কারটা জেতার আরো সময় সামনে পড়ে আছে। এটাই তো আর ওর শেষ মৌসুম নয়! আমার চোখে করিম ওয়াইনের মতো, বয়সের সঙ্গে আরো পরিণত হয়।

সবচেয়ে বেশি ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলার হলেন- লিওনেল মেসি ৬টি আর্জেন্টিনা, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ৫টি পর্তুগাল, মিচেল প্লাতিনি ৩টি ফ্রান্স, ইয়োহান ক্রুইফ ৩টি নেদারল্যান্ডস, মার্কো ভ্যান বাস্তেন ৩টি নেদারল্যান্ডস,ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ২টি জার্মানি,রোনালদো নাজারিও ২টি ব্রাজিল, স্টেফানো ২টি আর্জেন্টিনা, কভিন কিগান ২টি ইংল্যান্ড, কার্ল রুমেনিগে ২টি জার্মানি।

এবার মেসি, করিম বেনজেমা, রবার্ট লেভানদোস্কি ও জর্জিনহোর সঙ্গে আলোচনায় রাখতে হচ্ছে ইউরোতে ইতালির রক্ষণে দুর্ভেদ্য প্রাচীর তুলে রাখা কিয়েল্লিনিকেও। আরেক ডিফেন্ডার বোনুচ্চি আর গোলরক্ষক ডনারুমাকে সঙ্গী করে আজ্জুরিদের ইউরো জয়ে বড় অবদান রেখেছেন ইন্টার মিলানের হয়ে সিরি আ’র শিরোপা জয়ী এই ফুটবলার। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ী ইতালি দলের সদস্য ফাবিও ক্যানেভারোর পর আর কোনো ডিফেন্ডারের হাতে ওঠেনি ব্যালন ডি’অর ট্রফি। তাই কিয়েল্লিনি জিতলে নতুন ইতিহাসই রচনা হবে।

আর- এস / ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়