বঙ্গবন্ধু কন্যাকে আমি মাটির সঙ্গে তুলনা করি: আলমগীর

আগের সংবাদ

বাঙালির আস্থা ও বিশ্বের ঠিকানা শেখ হাসিনা

পরের সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী কোনো খেলাকেই আলাদা করে দেখেন না: মাশরাফি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১ , ১০:২২ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ , ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

জীবনের সমস্ত শ্রম ও মেধা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমাদের উপহার দিয়েছেন। আজকের বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ছুটে চলেছেন অদম্য গতিতে। আজকে তার ৭৫তম জন্মদিন। আমি তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আজকের এই দিনে প্রত্যাশা মহান আল্লাহ তাকে শতায়ু করুন। তিনি যেন সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপন করতে পারেন। দেশকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারেন। তার হাত ধরেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে সম্প্রতি ভোরের কাগজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তার সম্পর্কে নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা।

মাশরাফি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ ক্রীড়াবান্ধব মানুষ। তার বাবা (বঙ্গবন্ধু) একজন খেলোয়াড় ছিলেন, ভাই শেখ কামাল আবাহনী ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা। ক্রীড়া পরিবারেই তার বেড়ে ওঠা। আমি তখন অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলি। বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তাকে সরাসরি দেখার পর আমার মধ্যে এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। কৌতূহল ছিল প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষ কিনা। দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এক সময় দূর থেকে দেখা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়। তার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে আমার কথা হয়েছে খেলাধুলা নিয়ে। তাকে আমি খেলাধুলা সম্পর্কে যতটুকু কথা বলতে শুনেছি বা দেখেছি- তিনি এ সম্পর্কে অনেক জানেন, বোঝেন, জ্ঞান রাখেন। কোথাও কোনো চাপ থাকলে, তা কীভাবে সামলাতে হয়, সেটাও জানেন। সেখান থেকে আমি বুঝেছি, খেলাধুলার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভীষণ দুর্বলতা কাজ করে।

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ২০১২ সালে গণভবনে গেলাম। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে অনেক কথা বলেছিলেন, ছোটবেলায় তিনি কী করতেন, ঢাকা শহর কেমন ছিল, দেশের সংস্কৃতি কেমন ছিল- এসব। আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রী ‘স্পোর্টি’। তিনি কোনো খেলাকে আলাদা করে দেখেন না। বাংলাদেশে ক্রিকেট অনেক বেশি প্রচার পায়। সে কারণে প্রধানমন্ত্রী মাঠে এলে বা ক্রিকেটারদের গণভবনে ডাকলে খবরের শিরোনাম হয়। আমি যদি নিজের কথা বলি, তাহলে সেটা ভুল হবে। তিনি দেশের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে সমান দৃষ্টিতে দেখেন। সাকিব, তামিম, মুশফিক, রিয়াদসহ আরো জুনিয়র যারা আছে, সবাইকেই তিনি পছন্দ করেন। শুধু ক্রিকেট নয়, নারী ক্রিকেট টিম, ফুটবল টিমসহ অন্যান্য যেসব ক্রীড়া সংগঠন বা খেলোয়াড় আছে, সবাইকেই তিনি স্নেহ করেন। গণভবনে ডাকেন। নিজের মতো করে আপ্যায়ন করেন। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করেন, প্রেরণা দেন।

নিজের ক্যারিয়ারে প্রধানমন্ত্রীর অবদানের কথা স্মরণ করে তরুণ এই সাংসদ বলেন, ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষের দিকে আমাকে আরো বৃহৎ পরিসরে কাজ করার সুযোগ প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। নড়াইল-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য বানিয়েছেন। আমিও চেষ্টা করছি আমার সর্বস্ব দিয়ে এলাকার কাজ করার। তার মর্যাদা ধরে রাখার। তিনি আমাকে বলেছেন ‘তুমি এখন তোমার জন্মস্থানের জন্য কাজ কর’। এটা আসলেই আমার জন্য বড় সুযোগ। ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে আমার লাইফস্টাইলটা হয়তো অন্যরকম হতো। বঙ্গবন্ধুকন্যার বদান্যতায় আজ আমি জনগণের জন্য কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। আমি বলব, খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাবনাজগত, তিনিই ভালো জানেন। তবে আমাদের তিনি যা দিয়েছেন, এর বেশি কিছু চাওয়ার বা বলার আর নেই।

মাশরাফি আরো বলেন, আমি অধিনায়ক থাকার সময় প্রতিটি ম্যাচের আগে বা পরে আপা আমাকে ফোন করতেন। জিতলে যেমন ফোন করতেন তেমনি হেরে যাওয়ার পরও ফোন করতেন। সফল হওয়ার পর সবাই সঙ্গে থাকে। ব্যর্থ হওয়ার পর যাকে আপনি কাছে পাবেন তার কথা সারা জীবন মনে থাকবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তেমনই একজন ব্যতিক্রমী মানুষ। হেরে গেলে ফোনে সাহস দিয়ে বলেন, তোমরা মন ছোট করো না। উৎফুল্লতা নিয়ে থাকবে। জিততে পারলে আলহামদুলিল্লাহ, না জিতলে তোমরা যতটুকু করেছ, সেটাও কম না। মন খারাপ করবে না। উৎফুল্লতার সঙ্গে খেল, সাহস নিয়ে খেল।’ খেলোয়াড়দের মধ্যে তখন প্রচণ্ড চাপ-টুর্নামেন্ট জিতে আসতে হবে। আপার এক ফোনে আমাদের কাজটা সহজ করে দেয়।

খেলোয়াড়দের বিপদেও প্রধানমন্ত্রী পাশে থাকেন উল্লেখ করে মাশরাফি বলেন, ক্রীড়াবিদ ও শিল্পীদের নানাভাবে তিনি সাহায্য-সহযোগিতা করেন। তামিম দুবাই থেকে হাত ভেঙে দেশে ফিরলে প্রধানমন্ত্রী ফোন দিয়ে খোঁজখবর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ভালো জায়গায় চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সাকিবের ডেঙ্গু হলে তাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন। তামিম ও সাকিব সারাজীবন মনে রাখবে এ ঘটনা। আমি করোনা আক্রান্ত হলে তিনি ফোন করেন। পাঁচ মিনিট আমার সঙ্গে কথা বলেন। পরামর্শ দিয়েছেন- কীভাবে থাকতে হবে, খেতে হবে, চলতে হবে। এমন একজন প্রধানমন্ত্রী পাওয়া ক্রীড়াবিদদের জন্য সৌভাগ্যের। যে কোনো খেলোয়াড়কে জিজ্ঞেস করলে সবাই একবাক্যে প্রধানমন্ত্রীর উচ্ছ¡সিত প্রশংসা করবেন। ক্রীড়াঙ্গনের জন্য তিনি অতুলনীয়।

এই তারকা ক্রিকেটার বলেন, আমি তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে সংসদ সদস্য হইনি। বঙ্গবন্ধুকন্যা আশীর্বাদে আজ আমি নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য। ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় এটা সম্ভব হয়েছে। ক্রিকেটার ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তিনি আমাদের কাছ থেকে ভালো কাজ আশা করেন। আমিও যথাসম্ভব চেষ্টা করছি প্রধানমন্ত্রী যে জিনিসগুলো চান সেটা করতে। তিনি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে ১০টি মেগা প্রকল্পসহ অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েছেন। সেগুলোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আজকে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলসহ আরো বহু প্রকল্প নিয়েছেন। আমাদের মতো দেশের জন্য এত উন্নয়ন বিরাট পাওয়া। এগুলো চালু হলে মানুষ তার সুফলগুলো পাবে। আজকে আমরা বিশ্ব দরবারে বলতে পারি আমরা উন্নয়নের একটা পর্যায়ে এসেছি। আরো ভালো জায়গায় যাব। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী দিনরাত পরিশ্রম করছেন।

প্রধানমন্ত্রীকে দেশের খেলোয়াড় সমাজের পক্ষ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত এই ক্রিকেটার বলেন, আমরা যেন প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও প্রতিষ্ঠিত করতে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তার একজন প্রতিনিধি হিসেবে যেন সেই কাজকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, সততার সঙ্গে এবং বিচক্ষণতা দিয়ে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়