৩৫ খণ্ডে প্রকাশ হচ্ছে সৈয়দ শামসুল হকের রচনাসমগ্র

আগের সংবাদ

লাশেট না শোলজ- কে হচ্ছেন জার্মানির চ্যান্সেলর

পরের সংবাদ

শেষ ম্যাচে জ্বলে উঠলেন সাবিনারা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ , ১১:১৯ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ , ১১:১৯ অপরাহ্ণ

করোনার দীর্ঘ ধকল কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ফিরেছিল চলতি মাসে নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে। তবে দেশটির বিপক্ষে বাংলার মেয়েরা দুই ম্যাচেই ছিলেন অনুজ্জ্বল। এরপর উজবেকিস্তানে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের ম্যাচে একে একে ছোটনের শিষ্যরা হারের মুখ দেখেছে জর্ডান ও ইরানের বিপক্ষে। ফলে ২০২২ সালে ভারতের মাটিতে এএফসি এশিয়ান কাপ খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয়ে যায় কৃষ্ণা রাণীদের।

অবশ্য দীর্ঘ আড়াই বছর পর মাঠের লড়াইয়ে ফিরে একেবারে হতাশ হয়ে দেশে ফিরছেন না সাবিনারা। রবিবার উজবেকিস্তানের তাসখন্দে হংকংয়ের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে সাবিনা ঝড় দেখেছে মাঠের দর্শকরা। তার হ্যাটট্রিকসহ চার গোল নৈপুণ্যে হংকংকে বাংলার মেয়েরা বিধ্বস্ত করেছে ৫-০ গোল ব্যবধানে।

এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের দুই ম্যাচ বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। জর্ডান ও ইরানের বিপক্ষে সমান ৫-০ গোল ব্যবধানে হারা সাবিনারা এবার হংকংয়ের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে একই ব্যবধানে। আর এটি সম্ভব হয়েছে অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের চার গোলের সুবাদে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬১ ধাপ সামনে থাকা দলটির জালে বাংলাদেশের ৫ গোল দেয়াটা কৃতিত্বেরই বটে। যদিও এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের দুই ম্যাচ মোটেও সুখকর হয়নি সাবিনাদের।

হংকংয়ের বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানের জয়ে চার গোলই করেছেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। অন্যটি করেছেন তহুরা খাতুন। গোল উৎসবের শুরুটা করেছিলেন তহুরা ম্যাচের ১৮তম মিনিটে। বাকি সময় সাবিনা যেন ম্যাচটাকে নিজের করে নেন। বিরতিতে যাওয়ার দুই মিনিট আগে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সাবিনা। ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে হংকংয়ের জালে বল জড়িয়ে প্রথমার্ধ শেষ করেন সাবিনা ও তার দল। অন্যদিকে হংকংয়ের মেয়েরা খুব একটা সুবিধাও করতে পারেননি। আক্রমণে দুর্বল করতে পারেনি বাংলার মেয়েদের রক্ষণভাগ।

উজবেকিস্তানের তাসখন্দে অনুষ্ঠিত ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধটি ছিল শুধুই বাংলাদেশের। আরো স্পষ্ট করে বললে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের। কারণ বিরতি শেষে মাঠে নেমেই সাবিনা একে একে আক্রমণ করে কাঁপিয়ে গেছেন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ। ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে সতীর্থ থেকে বল পাস পেয়ে সরাসরি আক্রমণে যায় সাবিনা। জোরালো শটে পরাস্ত করে হংকংয়ের গোলরক্ষককে। এর চার মিনিট পরেই বাংলাদেশ অধিনায়ক তার হ্যাটট্রিক তুলে নেন।

ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে দলকে চতুর্থে গোলের আনন্দে ভাসান সাবিনা। ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে বাংলাদেশ ৪-০ গোল ব্যবধানে এগিয়ে, তখন হয়তো সাবিনাদের চোখে ভাসছিল ইরান ও জর্ডানের বিপক্ষে ৫-০ গোল ব্যবধানে হারের লজ্জার সেই স্মৃতি। তাই তাদের ভাবনাতে শুধুই ছিল ব্যবধান বাড়ানো। একে একে আক্রমণ করেই গেছে সাবিনা-কৃষ্ণারা। অবশেষে ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে তারা দেখা পেয়েছে সেই কাঙ্খিত গোলের। এবারো সাবিনার পা থেকে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াল। শেষ পর্যন্ত সাতক্ষীরার গোলমেশিন খ্যাত সাবিনা ব্যক্তিগত চার গোল করে দলকে হংকংয়ের বিপক্ষে ৫-০ গোল ব্যবধানে জয় এনে দেন।

এর আগে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের আগে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল নেপালে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল। কিন্তু সেই ম্যাচগুলোতে নিজেদের রাঙাতে পারেনি সাবিনারা। প্রথম ম্যাচ হেরেছিল ২-১ গোলের ব্যবধানে। পরের ম্যাচ অবশ্য ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছিল কৃষ্ণারা। কিন্তু মাঠ ছাড়তে হয়েছিল গোলশূন্য ড্র করে। এরপর এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে বাংলাদেশ দল নেমেছিল যেন গোল হজম করতে। রক্ষণাত্মক ভঙিতে খেলেও হার এড়াতে পারেনি ছোটনের শিষ্যরা। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল শক্তি ও সামর্থ্যে কতটা পিছিয়ে আছে তা হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিয়েছে সেই ম্যাচে জর্ডানের মেয়েরা।

এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের ম্যাচে ১৯ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের বুনিয়াদকর স্টেডিয়ামে জর্ডানের মেয়েদের বিপক্ষে সাবিনারা হেরেছিল ৫-০ গোল ব্যবধানে। অবশ্য বাংলাদেশের মেয়েরা আড়াই বছরেরও বেশি সময় পরে আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফিরেছিল। তাই তাদের পারফরমেন্সে ঘাটতি দেখা যাওয়াটা অবাক হওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়। আবার র‌্যাঙ্কিংয়েও জর্ডানের মেয়েরা বাংলাদেশের তুলনায় কয়েকগুণ এগিয়ে ছিল। এরপর ইরানের বিপক্ষে শোচনীয়ভাবে হারে সাবিনারা।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল যে এএফসি এশিয়ান কাপ খেলার যোগ্যতা এখনো অর্জন করেনি তা ওই ম্যাচে বুঝিয়ে দিয়েছিল ইরানের মেয়েরাও। ‘জি’-গ্রুপে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ গত ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ইরানের বিপক্ষে হেরেছিল ৫-০ গোল ব্যবধানে। পরপর দুই ম্যাচে এমন বড় হার মেয়েদের পারফরমেন্স ও ফিটনেসের ঘাটতি ভালোভাবেই ফুটে উঠেছে। বাফুফের যে মেয়েদের ফুটবল নিয়ে আরো ভালো পরিকল্পনা করতে হবে তা আসরটির পারফরমেন্সই বুঝিয়ে দিয়েছিল।

এর আগে ২০১৪ সালে সর্বশেষ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে খেলেছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। পরের আসরে ২০১৮ সালে তারা অংশগ্রহণই করেনি। সাত বছর আগে দেশের মাটিতে অভিজ্ঞতা অবশ্য মোটেও সুখের ছিল না দলের। সেবার থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৯-০, ইরানের বিপক্ষে ২-০ এবং ফিলিপাইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরে গ্রুপের তলানিতে ছিল বাংলাদেশ। এবারো শেষ করলো বড় হার দিয়ে।

রি-এসএস/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়