নিউজ ফ্ল্যাশ

আগের সংবাদ

মিস আর্থ বাংলাদেশের মুকুট শোভা পেল নাইমার মাথায়

পরের সংবাদ

বগুড়া জিলা স্কুলের তিন শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ , ১১:২১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ , ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

বগুড়া জিলা স্কুলের ৩ শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন দশম শ্রেণির এবং অন্যজন পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, অন্য শিক্ষার্থীর মধ্যেও করোনা সংক্রমিত হতে পারে।

তবে বগুড়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তফি দাবি করেছেন, বিচ্ছিন্নভাবে দুই-একজন আক্রান্ত হলেও এখনও আশঙ্কা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এ ছাড়া শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্কুলটিতে করোনা উপসর্গের কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এমতাবস্থায় প্রধান শিক্ষক করোনা উপসর্গ থাকলে স্কুলে না পাঠানোর অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রভাতি ও দিবা শাখার দশম শ্রেণির ২ ছাত্র করোনায় আক্রান্ত হয়েছে মর্মে শ্রেণিশিক্ষক নিশ্চিত করেছেন। তবে পঞ্চম শ্রেণির কোনো শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে- এমন তথ্য শ্রেণিশিক্ষক জানাননি।

তিনি বলেন, দশম শ্রেণির ওই ২ শিক্ষার্থী কয়েক দিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন। পরে শ্রেণিশিক্ষক তাদের অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছেন, ওই দুই শিক্ষার্থী করোনা পজিটিভ। করোনা পজিটিভ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংক্রমণ যাতে অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে না ছড়ায়, এ জন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে ছড়ানোর কোনো আশঙ্কা নেই।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জিলা স্কুলের দুজন শিক্ষক বলেন, দশম শ্রেণির ২ শিক্ষার্থী করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি তাদের অভিভাবকরাই নিশ্চিত করেছেন। এর বাইরে পঞ্চম শ্রেণির দিবা শাখার একজন শিক্ষার্থীরও করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩ শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্তের পর অন্য শিক্ষার্থী, এমনকি শিক্ষকদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়ানোর শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে অভিভাবকদের মনে। বগুড়া জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক রায়হানুল ইসলাম বলেন, তার ছেলের ক্লাসের কয়েকজন শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর জানার পর আপাতত তিনি ছেলেকে বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করেছেন।

ইদ্রিসুর রহমান নামে আরেক অভিভাবক বলেন, জিলা স্কুলে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় সন্তানকে নিয়ে চরম শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন কাটছে। সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাবেন কি না, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন।

অপরদিকে বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি দিনদিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় খোলার প্রথম দিনে এই প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের উপস্থিতির হার ছিল গড়ে ৯০ শতাংশ। অথচ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আজ শনিবার এই বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের উপস্থিতির হার নেমেছে ৭৫ শতাংশে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের শঙ্কা, জ্বর-সর্দিকাশিসহ করোনার উপসর্গের কারণে অনেক ছাত্রী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. রাবেয়া খাতুন দাবি করেন, তার বিদ্যালয়ে এসে কোনো ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই।

তবে উপস্থিতির হার কমছে স্বীকার করে তিনি বলেন, করোনার আগে বিদ্যালয়ে ছাত্রী উপস্থিতির হার ছিল ৯৯ থেকে ১০০ শতাংশ। দেড় বছর পর বিদ্যালয় খোলার প্রথম দিনেও ছিল ৯০ শতাংশ। এখন অবশ্য তা ৭৫ শতাংশে নেমেছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দিন দিন কমতে থাকায় ভালো ফলাফল নিয়ে তারা চিন্তিত।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়