ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ : সব কালো ও অন্ধকার পেছনে ফেলে আলোর আহ্বানে আমরা

আগের সংবাদ

আসছে করোনা সারানোর ওষুধ

পরের সংবাদ

নতুন ইসি গঠনে নজর

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ , ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ , ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে আর চার মাস পর নতুন ইসি গঠনের কথা। পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে ওই নতুন ইসি। সঙ্গত কারণেই রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টি এখন পরবর্তী নির্বাচন কমিশনে। কোনো প্রক্রিয়ায় গঠন হবে নতুন ইসি? কারা পাচ্ছেন এই গুরু দায়িত্ব? এ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে আসছে ভিন্ন মতো। কারো অবস্থান বিদ্যমান নিয়মের পক্ষে। কেউ চান নতুন আইন। কেউ বা তুলছেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের আগে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি। এরমধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আস্থা আগের মতোই ‘সার্চ কমিটিতে’। অন্যদিকে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি চায়- আগে হোক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যে সরকারের অধীনে নির্বাচনের রূপরেখা ও ইসি গঠন করে নির্বাচন পরিচালিত হবে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে কাজ করছে না মন্তব্য করে শক্তিশালী ইসি চায় বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। আর মুক্তবুদ্ধির, উদার গণতান্ত্রিক ইসি গঠনের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনারদের পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ দেবেন এবং তারা সংবিধান ও আইনের অধীনে স্বাধীনভাবে কাজ করবেন। তবে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে নিয়োগ দিতে হয়। তারা পদত্যাগ না করলে তাদের অপসারণের সাধারণ কেনো বিধান নেই।

২০১২ সালে সর্বপ্রথম সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসি নিয়োগ দেয়া হয়। তার আগে সংবিধান সংশোধন করে কমিশন সদস্য বাড়িয়ে পাঁচজন নির্দিষ্ট করা হয়। একজন নারী সদস্য রাখার বিধানও যুক্ত করা হয়। ২০১৭ সালেও সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে এই কমিশন গঠন করা হয়েছিল। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সব নির্বাচনের জন্য ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের নাম চূড়ান্ত করতে হবে।

এক্ষেত্রে ইসিকে উদার গণতান্ত্রিক হওয়া জরুরি বলে মতপ্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার ভোরের কাগজকে বলেন, ইসিতে কারা থাকবেন, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা আইনে রয়েছে। ইসি অবশ্যই শক্তিশালী হবে; তবে এর মানে এই নয়, তারা তাদের নিজস্বতা প্রদর্শনের নামে যা ইচ্ছা তাই করবেন। ইসির কমিশনাররা মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন, উদার গণতান্ত্রিক হলে ব্যক্তিগতভাবে আমি খুশি হব। তবে নির্বাচনী গণতন্ত্র নয়; প্রয়োজন উদার গণতান্ত্রিক নির্বাচন কমিশন।

সার্চ কমিটিতেই আস্থা আওয়ামী লীগের : সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসি গঠনকেই সবচেয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ভবিষ্যতেও এ স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ইসি গঠিত হবে- এমন অভিমত তাদের। শীর্ষ নেতারা

বলছেন, শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে সব দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসি গঠন করা হয়েছে। এর আগে অন্য কোনো সরকার এটি করেনি। এমনকি বিএনপিও এটি করেনি। তারা বিতর্কিত বিচারপতি আজিজকে নিয়োগ দিয়েছিল।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ভোরের কাগজকে বলেন, ইসি গঠন নিয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। বর্তমান ইসিও অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গঠন করা হয়েছে। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্রপতি একটি সার্চ কমিটি গঠন করেন। সেই সার্চ কমিটির মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবিত নামগুলো থেকে বাছাই করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। এটিই সবচেয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। এবারো তাই হবে। তিনি বলেন, সার্চ কমিটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এমন ইসি চায় আওয়ামী লীগ। যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে। ইতোপূর্বে আওয়ামী লীগের ইসি নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেনি। এবারো যেন না পারে, সেটিই আমাদের চাওয়া।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চায় বিএনপি : নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেবে না জানিয়েছে বিএনপি। ইসি গঠনের বিষয়ে প্রস্তাবনাসহ রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেয়ার কথা ভাবছে দলটি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, যদি আগের পদ্ধতি অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়, আমাদের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। আমরা চিন্তা করছি, সময়মতো রাষ্ট্রপতিকে আমাদের প্রস্তাব দেব। জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান ভোরের কাগজকে বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়। নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার চায় বিএনপি। এই অন্তর্বর্তী সরকার ঠিক করবে নির্বাচনের রূপরেখা কেমন হবে, নির্বাচন কমিশন কেমন হবে।

শক্তিশালী ইসি চায় জাতীয় পার্টি : নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে কাজ করছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে কাজ করছে না। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসির অনেক ক্ষমতা আছে। কিন্তু, সাধারণ মানুষের কাছে ইসির ক্ষমতা দৃশ্যমান নয়।

কেমন নির্বাচন কমিশন চায় জাতীয় পার্টি- এমন প্রশ্নের জবাবে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ভোরের কাগজকে বলেন, শক্তিশালী ইসি চায় জাতীয় পার্টি যার অধীনে সব দল সমানভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। তিনি বলেন, অবশ্য মাঠপর্যায়ে ইসির খুব বেশি করার থাকে না। এক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছার প্রয়োজন।

এফবি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়