সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান দম্পতির বিচার শুরু

আগের সংবাদ

পর্যটক আকর্ষণে অন অ্যারাইভাল ভিসা চালুর উদ্যোগ

পরের সংবাদ

কাচকি মাছের চানাচুর

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ , ৮:২৮ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ , ৮:২৮ অপরাহ্ণ

বহুগুণ পুষ্টিসমৃদ্ধ দেশীয় প্রজাতির মাছের মধ্যে কাচকি অন্যতম। কাচকি মাছে প্রচুর প্রোটিন, মিনারেল, ভিটামিনসহ আরও অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। যা শিশুদের শারিরীক বিকাশে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু শিশুরা এ মাছের আকার ছোট হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে খেতে অনীহা প্রকাশ করে। এতে শিশুদের শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ হয় না। তাই বিকল্প উপায়ে তাদের সেই পুষ্টি গ্রহণের উপায় হিসেবে শিশুদের পছন্দের খাবার চানাচুর ও পিনাট বারের সাথে এ মাছের বিভিন্ন মাত্রার মিশ্রণে নতুন এক খাদ্যপণ্য উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। এ খাদ্যপণ্যটিকে কমপ্লিট ডায়েট বলে উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।

রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগ থেকে তথ্যগুলো জানানো হয়। এ উদ্ভাবনের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নুরুল হায়দার এবং সহযোগী গবেষক মো. মোবারক হোসেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হয়েছে।

জানা যায়, দেশীয় প্রজাতির এ কাচকি মাছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিন ‘এ’ বিদ্যমান এবং প্রচুর পরিমাণে এ মাছটি এখন পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি ১০০ গ্রাম কাচকি মাছে ১৩.৫ গ্রাম প্রোটিন, ৮৬৫ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম ও ২.৪ মিলিগ্রাম আয়রন রয়েছে। এবং তাতে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। তাছাড়া, কাচকি মাছ হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ছাড়াও দৈনন্দিন অনেক শারীরিক সমস্যা দূর করতে সক্ষম।

ড. মুহম্মদ নুরুল হায়দার বলেন, দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ থেকে মূল্য সংযোজিত তৈরিকৃত খাদ্য উৎপাদনে গবেষণায় কাচকি মাছকে নির্বাচন করি। এ পুষ্টিসমৃদ্ধ মাছ খেতে শিশুসহ অনেকেই অনাগ্রহী। মাছের এ প্রোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেল সহজে তারা যেন পেয়ে যায়, সেজন্যে দুটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৬টি পণ্য উৎপাদন করেছি।

শিশুসহ সব বয়সের মানুষের চানাচুর এবং বার জাতীয় খাবারটি খুব পছন্দনীয়। তাই ক্যাটাগরি-১ এর পণ্যগুলো মূলত চানাচুর জাতীয়, অন্যদিকে ক্যাটাগরি-২ এর পণ্যগুলো মূলত কুড়কুড়ে বাদাম ও তিলের বার জাতীয় (যা স্থানীয়ভাবে তিল বাদাম তক্তি হিসেবে পরিচিত) করে তৈরি করা হয়েছে। এতে তারা এসব মুখরোচক খাবারের সাথে মাছের পুষ্টিও গ্রহণ করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশ নিউট্রিশন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখা যায়, চানাচুর জাতীয় পণ্যগুলোতে গড়ে ৪-৫ শতাংশ ময়েশ্চার, ২৬-৩০ শতাংশ লিপিড, ১৮-২২ শতাংশ প্রোটিন, ৫ শতাংশ মিনারেল, ২ শতাংশ ফাইবার এবং ৩৯-৪২ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। যেখানে সাধারণ চানাচুরে প্রোটিন থাকে ১২-১৩ শতাংশ।

বার জাতীয় পণ্যগুলোতে ২০-২২ শতাংশ ময়েশ্চার, ১৩-১৯ শতাংশ লিপিড, ১৩-১৫ শতাংশ প্রোটিন, ১২-১৫ শতাংশ মিনারেল, ২-৩ শতাংশ ফাইবার এবং ৩২-৩৪ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়। মুখরোচক খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টিমান বৃদ্ধির লক্ষ্যেই আমরা মূলত গবেষণা প্রকল্প সম্পন্ন করেছি। ছোট মাছের কাটা খেতে হবে চিবিয়ে, এতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম পাওয়া যাবে। এদিকে গর্ভবতী মা এবং দুগ্ধদানকারী মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান দিয়ে থাকে এ কাচকি মাছ।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়