আসছে করোনা সারানোর ওষুধ

আগের সংবাদ

বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস আজ : জন্মনিয়ন্ত্রণের স্থায়ী পদ্ধতিতে নারী-পুরুষ উভয়েই অনাগ্রহী

পরের সংবাদ

করোনার ভয়াবহতা কমেছে, এখনো চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ , ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ , ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ

দেশে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যাচ্ছে। সংক্রমণের হার নেমেছে ৫ শতাংশের নিচে। চার দিন ধরেই এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে এই নিম্নগতি কতটা স্থায়ী হবে তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। কারণ ভাইরাসের নতুন কোনো ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আতঙ্ক রয়েই গেছে। অন্যদিকে দৈনিক ওঠানামার মধ্য দিয়ে ডেঙ্গুর ব্যাপকতা এখনো লাগামছাড়া। আশঙ্কার কথা হলো, এবার যারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে তাদের শতকরা ৫০ ভাগই শিশু।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, টানা তিন সপ্তাহ ধরে মৃত্যু ও নতুন রোগী কমতে থাকা, টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে টানা ৭ সপ্তাহ ধরে নতুন রোগী আর ৬ সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর সংখ্যা কমছে। আর দেশে সাড়ে ৬ মাস পর দৈনিক নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত রোগীর হার গত মঙ্গলবার ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে। ওই দিন শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এরপর থেকে শনাক্তের হার ৫ শতাংশের কমই রয়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে বলেই মৃত্যু ও সংক্রমণের হার কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি ম্যাজিকের মাধ্যমে হয়নি, সবার প্রচেষ্টায় তা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, মশা নির্মূলে সরকার কাজ করছে। দুই সিটি করপোরেশন যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সকালে লার্ভিসাইড স্প্রে, বিকালে ফগিং করা অব্যাহত আছে। নগরবাসীর সচেতনতায় ডেঙ্গু মোকাবিলা সহজ হবে। আশা করি এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গু একটা নিয়ন্ত্রিত জায়গায় নিয়ে আসতে পারব। এজন্য জনসচেতনতা প্রয়োজন।

তবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্য বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, করোনা সংক্রমণ আরো কমবে। মানুষ ভাবছে এখন সংক্রমণ নেই। তাই মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে আগ্রহে ভাটা পড়েছে। এই মনোভাব জটিল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এশিয়ার নোবেলখ্যাত ম্যাগসাইসাই পুরস্কার জয়ী

আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বাংলাদেশে সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ কিছুটা কম। তবুও করোনা ভাইরাসের ডেল্টার মতো অতিসংক্রামক ধরন যে ফের আসবে না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। এ নিয়ে খুব বেশি আশান্বিত হওয়ার কিছু নেই। সংক্রমণ কমায় বিশ্বের অনেক দেশে সংক্রমণ এভাবে কমে আবার বেড়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। তাই এ বিষয়ে এখনই উপসংহারে আসার মতো কিছু বলা যাবে না। করোনার সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। সবচেয়ে বেশি দরকার ব্যাপক হারে টিকা দেয়া।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, বাংলাদেশ এখন ভালো অবস্থানেই আছে। সংক্রমণ পরিস্থিতি একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে এসেছে। পরিস্থিতি ভালো, তবে তার মানে এই নয় যে, করোনা চলে গেছে। এখন তেমন কোনো বিধিনিষেধ নেই। অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না, মাস্ক পরছেন না। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর দৈনিক সংখ্যা ওঠানামা করলেও এই সংখ্যা নিয়ে আছে প্রশ্ন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যুর এ তথ্য শুধু রাজধানীর সরকারি ও বেসরকারি ৪২টি হাসপাতাল এবং সারাদেশের জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাওয়ার ভিত্তিতে করা হয়। তবে রাজধানীর কয়েকশ বেসরকারি ও সারাদেশের বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন হলেও সেই হিসাব সংযুক্ত করা হচ্ছে না। ফলে ডেঙ্গুর ব্যাপকতা বোঝা যাচ্ছে না।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, বছরের শুরুতেই স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে এবার ডেঙ্গুর ব্যাপকতা বাড়বে। কারণ এডিস মশার উপস্থিতি অনেক বেশি পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা সেই বার্তাটি কর্ণপাত করেননি। ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে এডিসের বংশবিস্তার বেড়েছে।

এই সংক্রমক রোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে নগরায়ণের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা অপেশাদারত্বের সঙ্গে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পরিকল্পনাও ঠিক হচ্ছে না। ফলে জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়ে।
হাজারের নিচে নামল শনাক্ত রোগী, সংক্রমণ হারও স্থিতিশীল : গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু এবং শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে। শুধু তাই নয়, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজারের নিচে নেমেছে। ১৭ মের পর সবচেয়ে কম রোগী শনাক্ত হয়েছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। ওই দিন ৬৯৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। আর বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হন। ২৫ জনের মৃত্যু ও ৯৬৫ জন সুস্থ হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৪১ শতাংশ, মৃত্যু হার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার ৩১ জনের মৃত্যু, ১ হাজার ২৩৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হন। বৃহস্পতিবার ২৪ জনের মৃত্যু, ১ হাজার ১৪৪ জন রোগী শনাক্ত হন। সরকারি হিসাবানুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত ৯৫ লাখ ৯৬ হাজার ৯২৯টি নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৩৭১ জন। ১৫ লাখ ১০ হাজার ১৬৭ জন সুস্থ হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৩৯৩ জনের। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৫৯৮ জন পুরুষ আর ৯ হাজার ৭৯৫ জন নারী।

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে : গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২১ জন। এর মধ্যে ঢাকার ১৬৪ জন আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৭ জন। প্রসঙ্গত, শুক্রবার ১৮৯, বৃহস্পতিবার ২৫৪ জন, বুধবার ২২৯ জন, মঙ্গলবার ২৪৬ জন, সোমবার ২৭৫ জন, রবিবার ২৪১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ১৭ হাজার ১১৫ জন। তাদের মধ্যে ১৫ হাজার ৯৫৭ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৯ জনের। তবে ১৮ তারিখের পর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারোর মৃত্যু হয়নি। মাসভিত্তিক হিসাবানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৯ জন, মার্চে ১৩ জন, এপ্রিলে ৩ জন, মে মাসে ৪৩ জন, জুনে ২৭২ জন। জুলাইয়ে ২ হাজার ২৮৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতলে ভর্তি হন আর মারা যান ১২ জন, আগস্টে ৭ হাজার ৬৯৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। আর মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের। সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখ পর্যন্ত ৬ হাজার ৭৫৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন আর ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়