বিবিসি লন্ডন : একাত্তরের ডেসপাচ

আগের সংবাদ

শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে সবসময় সচেষ্ট থাকবো: রাবি ভিসি

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান : বিশ্ব নেতাদের গুরুত্ব দিতে হবে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ , ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ , ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ

রোহিঙ্গা সংকটের পঞ্চম বছর চলছে। বাংলাদেশ এখনো রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের আশা রাখছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে সে কথা আবারো উঠে আসছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে গত বুধবার রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি আন্তঃসীমান্ত এবং আঞ্চলিক সমস্যা। সুতরাং এ মানবিক সংকটের সমাধান করা বিশ্বের দায়িত্ব। বিশ্ব নেতাদের ভূমিকা না থাকায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি অনেকটা থেমে গেছে। রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় মিয়ানমারকে চারটি অন্তর্র্বর্তী ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিয়েছিলেন নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে)। গত বছর ২২ জানুয়ারি আইসিজের বিচারকরা সর্বসম্মতভাবে ওই রায় দেন। এই রায়কে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এই নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালে ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলা দায়ের করে গাম্বিয়া। হেগের পিস প্যালেসে এ মামলার ওপর প্রাথমিক শুনানি হয়। কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চললেও এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক আদালত মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আদেশ দেন। এই আদেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল, অন্তর্র্বর্তী আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে আগামী চার মাসের মধ্যে আদালতকে মিয়ানমারের জানাতে হবে। এরপর আইসিজেতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জেনোসাইডের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ৬ মাস পরপর আদালতে অন্তর্র্বর্তী আদেশ পালনের বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। মিয়ানমার এই বিষয়ে কোনো প্রকার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কিনা আমাদের জানা নেই। আমরা আশা করছিলাম, আইসিজের আদেশ নিঃসন্দেহে মিয়ানমারের ওপর রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিকভাবে বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত। তাদের প্রতি সমবেদনা এবং মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সংহতি এবং রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের তাগিদ জানিয়ে আসছে বিশ্ব সম্প্রদায়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। দুই দফা সময় দিয়েও তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়নি। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারত, চীন, রাশিয়ারও উদ্যোগ নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ নিয়মিত কূটনীতির অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন ফোরামে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করলেও সবাই চুপচাপ শুনছে, কোনো প্রতিক্রিয়া বা পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এ কথা বারবার স্মরণ করছেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্ব হওয়ার কারণে ইতোমধ্যে নানামুখী সমস্যা দেখা দিয়েছে। সংকট নিরসন বিলম্বিত হলে আমাদের সবার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তাদের অনেকে উগ্রবাদসহ নানা অপরাধমূলক কাজে জড়াচ্ছে। আমাদের পুরো অঞ্চলের জন্য এটা একটা হুমকি। বিশ্বকে তিনি মনে করিয়ে দেন, দুর্দশায় পড়া রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ যা যা করছে, তার সবই সাময়িক। মানবিক কারণেই প্রতিবেশী মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের বাড়তি দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই বড় বোঝা। এ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, স্থিতি এবং নিরাপত্তার জন্য রোহিঙ্গা ইস্যুর রাজনৈতিক সমাধান অপরিহার্য। আমরা আশা করছি বিশ্ব নেতারা প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান গুরুত্ব সহকারে নেবেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়