ছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

আগের সংবাদ

ঘূর্ণিঝড় গুলাবের প্রভাবে রাজধানীতে বৃষ্টি

পরের সংবাদ

বারমাসি তরমুজ চাষে সফল কৃষক বদু মিয়া

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ , ৪:২৩ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ , ৪:২৩ অপরাহ্ণ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ মুন্সির ছেলে আব্দুল বাছির বদু মিয়া। সুইট ব্লাক টু, কানিয়া, মনিয়া, বাংলা টাইগার সহ বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষ করে সবাই কে অবাক করে দিয়েছেন তিনি। কৃষি বিভাগ থেকেও পেয়েছেন একাধিক পুরুষ্কার। এবার তিনি বর্ষাকালীন (বারমাসি) তরমুজ চাষ করে পেয়েছেন সফলতা। তার উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ঢাকা নিরাপদ সবজি বাজার সহ সারা দেশে। বদু মিয়ার সফলতা দেখে অনেকেই এখন করছেন তরমুজ চাষ।

কৃষক বদু মিয়া জানান, তিনি ২০০৮ সাল থেকে তরমুজ চাষ করেন। প্রথম দিকে বাংলালিংক তরমুজ চাষ করতেন। এখন বাংলালিংক বাদে করছেন সুইট ব্লাক টু, কানিয়া, মনিয়া, এশিয়ান টু জাতের তরমুজ। এছাড়াও করেছেন সাম্মাম জাতের তরমুজ। তার দেখাদেখি সকলেই আগ্রহী এ জাতের তরমুজ চাষে। তার ইউনিয়নেও বাড়ছে তরমুজ চাষে আগ্রহী চাষীর সংখ্যা।

তিনি আরো জানান, ৪০ বিঘা জায়গায় চাষ করতে খরচ হয় ৪০ হাজার টাকার মত। এক বিঘা জায়গার মধ্যে কমপক্ষে ৩ টন তরমুজ হয়। ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি করলে আয় হয় ১ লক্ষা ৫ হাজার টাকা। ৩০ টাকা কেজি বিক্রি করলে ৯০ হাজার টাকা। ৪০ টাকা কেজি বিক্রি করলে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। চাহিদার উপর বাজার মূল্য নির্ধারণ করে। খরচপাতি বাদ দিয়ে ৬০ হাজার টাকার মত লাভ আসে। কৃষি অফিসের মাধ্যমে চাষ করেন তিনি। প্রথম ২০১০ সালে এই জমিতে কৃষি প্রদশর্নী দেওয়া হয়েছিল। ২৫ শতক জায়গায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করেন তিনি। নিরাপদ সবজি বাজারে বদু মিয়ার একটি স্টল আছে। প্রতি সপ্তাহে ভাল তরমুজ এখানে বিক্রি করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা জিয়া উদ্দিন ( টুক্কু মিয়া) জানান, আমরা লাভবান তরমুজ চাষ করে। বেচা কেনাও ভালো। ঢাকাও সরবারহ করা হয়। পাবেল নামে এক যুবক জানান, বাইরের লোকজন এসে তরমুজ কিনে নিয়ে যায়। পাইকার মোশারফ হোসেন জানান, গোপীনাথপুর বদু মিয়ার বাড়িতে আসি। উনি চাষ করে বিশাল জায়গা জুড়ে। উনার কাছ থেকে মাল কিনি। উনার মাল ভাল। খেতে মিষ্টি, স্বাদে ভালো এই জন্য আমরা কিনে নিয়ে ঢাকার কাওরান বাজার বিক্রি করি। বিভিন্ন জায়গা থেকেও আমরা মাল কিনি। কিন্তু আমাদের এই অঞ্চলের বদু ভাইয়ের মালটা মিষ্টি। ৩৫ টাকা কেজি কিনেছি। কাওরান বাজারে তোলবো। বাজার দর বাড়তেও পারে কমতেও পারে। যদি বাজারে মালের চাপ থাকে তাহলে দাম কম। যদি বাজারে চাপ কম থাকে দাম বাড়বে।

মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন হাসান জানান, বর্তমানে বর্ষাকালীন তরমুজ মাধবপুর উপজেলাতে প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। আমাদের এখানে বদু মিয়ার মত অনেক কৃষক তরমুজের চাষ করেছে। এখানে ৪ জাতের তরমুজ আছে। এই তরমুজ গুলো চাষ করলে ৭ দিনের মধ্যে হারভেষ্ট করা সম্ভব। নিবার্হী ব্যয় করেও ৭০/৮০ টাকা বিঘা প্রতি আয় করা সম্ভব। খরচ পাতি বাদ দিয়ে উনি ৩ লক্ষ টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশা করছি।

রি-আরডিআরআর/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়