শাহজালাল বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা নিয়ে ধূম্রজাল

আগের সংবাদ

এবার ম্যানইউর হার দেখলেন রোনালদো

পরের সংবাদ

আইপিএলে ফের মোস্তাফিজ ঝলক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ , ১০:১৩ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ , ১০:১৩ অপরাহ্ণ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলতি বছরের আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বে বোলিং ঝলক দেখিয়ে যাচ্ছেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। পাঞ্জাবের বিপক্ষে হারতে বসা ম্যাচ শেষ দুই ওভারে মোস্তাফিজ, কার্তিক ত্যাগীর বোলিং নৈপুণ্যে জিতেছিল রাজস্থান রয়্যালস। মোস্তাফিজ উইকেট না পেলেও সেদিন দলকে এনে দিয়েছেন পূর্ণ দুই পয়েন্ট। আর শনিবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে বোলিংয়ে ঝরিয়েছেন আগুন। দিল্লিকে ১৫৪ রানে আটকে দেয়ার ম্যাচে ফিজ পূর্ণ স্পেলে ২২ রান খরচায় নিয়েছেন ২ উইকেট।

তবে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় গতকাল তার দল দিল্লির বিপক্ষে হারে ৩৩ রানের বড় ব্যবধানে। ৬ উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ওভার শেষে ১২১ রানে থামে রাজস্থানের ইনিংস। পরবর্তী ম্যাচে সোমবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে মোস্তাফিজের দল রাজস্থান। এবার আইপিএলে ৯ ম্যাচ থেকে ১০ উইকেট সংগ্রহ করেছেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা দিল্লিকে শুরুতেই চেপে ধরেন রাজস্থানের বোলাররা। মোস্তাফিজকে দিয়ে আক্রমণ শুরু করেন রাজস্থান অধিনায়ক সাঞ্জু স্যামসন। প্রথম ওভারে উইকেট না পেলেও মাত্র ৬ রান খরচ করেন কাটার মাস্টার। প্রথম তিন ওভারে বিনা উইকেটে ১৮ রান তোলে দিল্লি। এরপর ২১ রানের মধ্যে সাজঘরের পথ ধরেন দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ান (১২ বলে ১০) আর পৃথ্বি শ (৮ বলে ৮)। পাওয়ার প্লের প্রথম ৬ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৬ রান তুলতে সক্ষম হয় ঋষভ পন্তের দল। এরপর পন্তের সঙ্গে ৪৪ বলে ৬৫ রানের জুটিতে রানের গতি কিছুটা বাড়ান শ্রেয়াস আয়ার। ১২তম ওভারে ফের বল হাতে নিয়ে দিল্লি অধিনায়ককে (২৪ বলে ২৪) বোল্ড করেন মোস্তাফিজ। ওই ওভারে টাইগার পেসার দেন মাত্র ৫ রান।

এক ওভার পর মারমুখী আয়ার পড়েন দুর্ভাগ্যজনক স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে। রাহুল তেয়াতিয়ার বলে শট খেলতে গিয়ে ক্রিজের একটু বাইরে চলে এসেছিলেন আয়ার, স্যামসন স্টাম্প ভেঙে দেন চোখের পলকে। ৩২ বলে ১ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় আয়ার ফেরেন ৪৩ রানে। সিমরন হেটমায়ার (১৬ বলে ২৮) চালিয়ে খেলছিলেন। ১৭তম ওভারে মোস্তাফিজ তাকে শর্ট থার্ডম্যানে সাকারিয়ার ক্যাচ বানান। কাটার মাস্টারের ওই ওভার থেকে ৪ রান তোলে দিল্লি। ইনিংসের শেষ ওভারটিও করেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ। বাঁ-হাতি পেসারের এই ওভারে বাউন্ডারি না পেলেও দিল্লি তুলে নেয় ৯ রান। সবমিলিয়ে মাত্র ২২ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়ে ৪ ওভার শেষ করেন মোস্তাফিজ। ৬ উইকেটে ১৫৪ রানে থামে দিল্লির ইনিংস।

১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথমেই হোঁচট খায় রাজস্থান রয়্যালস। আবেশ খানের শিকার হয়ে প্রথম ওভারেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান লিয়াম লিভিংস্টোন। এরপরের ওভারের প্রথম বলেই আফ্রিকান বোলার নর্তজের শিকার হন আরেক ওপেনার যশস্বী জসওয়াল। গত ম্যাচে এক রানের জন্য ফিফটি করতে না পারা এই ভারতীয় ব্যাটসম্যান এদিন ৪ বলে ৫ রান করে মাঠ ছাড়েন। হোঁচট কাটিয়ে ওঠার আগেই দলীয় ১৭ রানে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ডেভিড মিলার। এরপর একপ্রান্ত ধরে রেখে ম্যাচের ভাগ্য বদলের চেষ্টা করেন রাজস্থানের অধিনায়ক সাঞ্জু স্যামসন। কিন্তু তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি দলের আর কোনো ব্যাটসম্যান।

গত ম্যাচে ঝড় তোলা মহিপাল লমরোরের এদিন ব্যাট হাসার বদলে কেঁদেছে। দলকে বিপদে রেখে এই ব্যাটসম্যান ২৪ বল থেকে ১৯ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। যুথসই সঙ্গ দিতে পারেননি আরেক ব্যাটসম্যান রিয়ান পরাগও। ৭ বলে ২ রান করে অক্সার প্যাটেলের বলে বোল্ড আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ম্যাচ পরিবর্তন করে দিতে সক্ষম রাহুল তিওয়াতিয়াও এদিন ম্যাচে ঝলক দেখাতে পারেননি। ১৫ বল থেকে ৬০ স্ট্রাইকরেটে মাত্র ৯ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যানরিচ নর্তজের শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

অন্যদিকে একপ্রান্ত আগলে ধরে রেখেও দলকে উদ্ধার করতে পারেননি অধিনায়ক স্যামসন। তিওয়াতিয়া যখন আউট হয়ে মাঠ ছাড়ে তখনই দলের প্রয়োজন ছিল ২০ বল থেকে ৫৬ রানের। অসম্ভর এই লক্ষ্য তাবরিজ শামসিকে নিয়ে আর তাড়া করতে পারেননি অধিনায়ক স্যামসন। ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২১ রানে থামে রাজস্থান রয়্যালসের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত দলের হাল ধরে রাখা স্যামসন অপরাজিত ছিলেন ৫৩ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলে। সাঞ্জু ৮ চার ও এক ছয়ের সাহায্য তার ইনিংসটি সাজান। অন্য ব্যাটসম্যান তাবরিজ সামসি ৪ বল থেকে করেন ২ রান। ১২১ রানে থামা রাজস্থান ম্যাচটি হারে ৩৩ রানের ব্যবধানে। ৮ ম্যাচ থেকে সমান ৪ জয় ও ৪ হার নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে দলটির অবস্থান পাঁচে।

এর আগে চলতি বছর আইপিলের দ্বিতীয় পর্বে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছিল রাজস্থান। শেষ দুই ওভারে অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটিয়ে কিংস ইলাভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে রাজস্থান জিতেছিল দুই রানে। অন্যদিকে শনিবারের ম্যাচে জয় পেয়ে চেন্নাই সুপার কিংসকে পিছনে পেলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে দিল্লি ক্যাপিটালস। ১০ ম্যাচে ৮ জয় ও ২ হারে ১৬ পয়েন্ট সংগ্রহ দিল্লির ঝুড়িতে। আইপিএলে অংশ নেয়া আরেক বাংলাদেশি সাকিব আল হাসানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের অবস্থান পয়েন্ট টেবিলের চারে। ৯ ম্যাচে ৪ জয় ও ৫ হারে দলটির সংগ্রহ ৮ পয়েন্ট। অবশ্য আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বে কলকাতা দুই ম্যাচ খেললেও একাদশে জায়গা হয়নি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিবের।

রি-এসএস/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়