অধিভুক্ত কলেজের নাম থেকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ শব্দ প্রত্যাহারের নির্দেশ

আগের সংবাদ

হবিগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী বানিয়াচংয়ের নৌকা বাইচ সম্পন্ন

পরের সংবাদ

মেহেরপুরের মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ , ৪:০৩ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ , ৪:০৩ অপরাহ্ণ

শিশির ভেজা ভোর আর শরতের কাশফুল জানান দিচ্ছে শারদীয় দূর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গোপূজাকে ঘিরে মেহেরপুরের মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা। আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যদিয়ে দেবী দূর্গার আগমন ঘটবে মর্তলোকে। এবার দেবী দূর্গা আসবে ঘোড়ায় চড়ে, ফিরবেন দোলায়। মা কে বরণ করে নিতে অধির অপেক্ষায় ভক্ত-অনুসারিরা। তাই পূজা মন্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরিতে নিরলস ব্যস্ততা কারিগরদের।

মনের মাধুরি মিশিয়ে কারিগরদের নিপুন হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দুর্গতিনাশীনি দেবী দূর্গা এবং তার সঙ্গীয় লক্ষী, সরস্বতী, গনেশ, কার্তিক ও অনিষ্টকারী অশুর সহ বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ থেকে জানা গেছে, এবছর মেহেরপুর জেলায় ৪২টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দূর্গোৎসব। এর মধ্যে সদরে ১৪টি, গাংনী উপজেলায় ২২টি ও মুজিবনগরে ৬টি। পঞ্জিকা অনুযায়ী ১১ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথিতে দেবীর বোধনের মধ্যে শুরু হবে এ শারদীয় দুর্গোৎসব। দশমী পূজার মধ্য দিয়ে ১৫ অক্টোবর শেষ হবে এ উৎসব।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মেহেরপুরের হরিসভা মন্দির, বড় বাজার কালী মন্দির, নায়েববাড়ি রাধা মাধব মন্দির, হরিসভা মন্দির, দাস পাড়া কালী মন্দিরে পূজার প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হলেই দেওয়া হবে রং-তুলির আচঁড়। প্রতিমা শিল্পি মানিক পাল বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। আগামী সপ্তাহ খানেকের ভিতর পূজা তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে। করোনায় আর্থিক দৈন্যতার কারনে চলতি বছরে মন্ডপের সংখ্যা কমলেও স্বল্প সাধ্যের মধ্যেই উৎসব আয়োজনের ঘাটতি নেই। তবে কারিগরদের আছে হতাশা।

প্রতিমা তৈরির কারিগর শ্রী শ্রীকান্ত রায়, দেবাশিস রায়, মাধবচন্দ্র রায় জানান, পূজা মন্ডপ কমায় অনেকটাই বেকার হয়ে পড়েছেন প্রতিমা কারিগরা। তার পরও পূণ্য লাভের আসায় বাপ দাদার এ পেশা ধরে রেখেছেন কারিগররা। এবার বাইরের শিল্পীরা পূজা তৈরীর কাজে আসতে ভয় পাচ্ছে। তাই কারিগর শিল্পীর সঙ্কটও রয়েছে এবারের পূজায়।

মেহেরপুর কালী মন্দিরের পূরোহিত, তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এ বছরে দেবী দূর্গা পৃথিবীতে আগমন করবেন ঘটোকে, গমন করবেন দোলায়। ভাল বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে আসছেন। ফলে দেশে শান্তি শৃঙ্খলার উন্নতি হবে।

গাংনী উপজেলার ভোমরদহ গ্রামের পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিজয় দাস বলেন, একটা মন্ডপে একাধিক পুরোহিত মালাকার লাগে। এবার তারা আসতে চাইছে না। পূজা তৈরীর প্রতিটি জিনিষের দাম বেড়েছে। বেড়েছে খরচ তারপর করোনায় দেখা দিয়েছে নানা ধরনের আতঙ্ক । সবমিলিয়ে এবার পূজা উদযাপন করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।

মেহেরপুর জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পল্লব ভাট্টাচার্য্য বলেন, এবারের পূঁজাকে সার্বজনীন উৎসবে রূপ দিতে সনাতন সকলকে নিয়ে আনন্দ করতে চাই। অশুর বিনাসী দেবীর এই আগমন উপলক্ষে সাধ্যমত আয়োজন সম্পন্ন করার প্রাণান্তকর চেষ্টা আমাদের। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও প্রতিটি মন্ডপে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়