নিউজ ফ্ল্যাশ

আগের সংবাদ

গোপালপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় সাবেক পৌর কাউন্সিলর নিহত

পরের সংবাদ

হিন্দু আইন পরিবর্তন প্রতিরোধ সম্মিলিত পরিষদ কমিটি

‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন হিন্দুদের সম্প্রীতি ধ্বংস করতে চায়’

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ , ৪:২৫ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ , ৪:৩৯ অপরাহ্ণ

হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার বছরের সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। তাদের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশকে হিন্দু শূন্য করা। এছাড়াও হিন্দুদের বিভক্ত করে ওই গোষ্ঠী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন হিন্দু নেতারা।

‘হিন্দু উত্তরাধিকার আইন পরিবর্তন চক্রান্তে’র প্রতিবাদে হিন্দু আইন পরিবর্তন প্রতিরোধ সম্মিলিত পরিষদ কমিটির এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

হিন্দু আইন পরিবর্তন প্রতিরোধ সম্মিলিত পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র এ্যাডভোকেট ড. জে. কে পালের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুমান কুমার রায়ের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির সভাপতি ও হিন্দু আইন পরিবর্তন প্রতিরোধ সম্মিলিত পরিষদের প্রধান সম্বনয়ক অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রদীপ আচার্য, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন বাংলাদেশ) সাধারণ সম্পাদক শ্রী মৎ স্বামী চারুচন্দ্র ব্রহ্মচারী, রুপানুগ গৌর দাস ব্রহ্মচারী ও চিন্ময় গাদাবর ব্রহ্মচারী, শ্রী শ্রী প্রণব মঠের সংগীতানন্দ মহারাজ, অ্যাডভোকেট প্রবীর হালদার, অ্যাডভোকেট জয়া ভট্টাচার্য, অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল, অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার মন্ডল, এ্যাডভোকেট সুনিল রঞ্জন সরকার, এ্যাডভোকেট সুশান্ত বসু, হিন্দু আইন পরিবর্তন প্রতিরোধ সম্মিলিত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার রায়, হিন্দু লীগের সাধারণ সম্পাদক শংকর সরকার, বিনয় দাস রিকো, এ্যাডভোকেট প্রহলাদ সাহা, এ্যাডভোকেট সঞ্জয় দে, মহানাম সম্প্রদায় (বাংলাদেশ) শ্রীমৎ কান্তি ব্রহ্মচারী, বাংলাদেশ হিন্দু লাইয়ারস অর্গানাইজেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট নারায়ণ চন্দ্র দাস, সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট শংকর চন্দ্র দাস, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি ড. সোনালী রানী দাস, সাধারণ সম্পাদক এম কে রায়, নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের সভাপতি দিপঙ্কর শিকদার দিপু, সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিশ্র, অনুপ কুমার দত্ত, শ্রী শ্রী স্বামী ভোলানন্দগিরি আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক রঘুপতি সেন, অর্থ সম্পাদক নন গোপাল মজুমদার, শারদাঞ্জলি ফোরামের ঢাকা মহানগরের সভাপতি রতন চন্দ্র পাল, ভক্ত সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি নিত্য গোপাল ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক অনিল পাল, জাগো হিন্দু পরিষদের ও পতঞ্জলী যোগসংঘের দেবব্রত সরকার দেবু, সৎসংঘ ফাউন্ডেশন ড. নলিনী রঞ্জন বসাক, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বাংলাদেশ (শাখার সহ-সভাপতি সুবীর সাহা, সাধারণ সম্পাদক কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, বাংলাদেশ সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অশোক তরু, শ্রী শুরু সংঘের সাধারণ সম্পাদক মনঞ্জয় কৃষ্ণ দত্ত, জাতীয় শ্রী শ্রী মাইনোরিটি শিব মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক এস. কে বাদল, মিহির বৌরাগী, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের পলাশ দাস, হিন্দু হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মানিক চন্দ্র সরকার, বাংলাদেশ হিন্দু সেবক সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাজীব ভদ্র, বাংলাদেশ সচেতন হিন্দু পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রভাস চন্দ্র তন্ত্রী, অনুরাগ শিল্পগোষ্ঠীর সুমন মন্ডল, বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ জোটের সভাপতি গৌতম রায়, মূখপাত্র শ্যামল ঘোষ প্রমুখ।

হিন্দু আইন পরিবর্তন প্রতিরোধ সম্মিলিত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার রায় বলেন, সনাতনী সমাজে বিবাহ চুক্তি নয়, এটা একটি পবিত্র ব্রত। এখানে দেবতাকে স্বাক্ষী রেখে পবিত্র বেদমন্ত্রের উচ্চারণে বর কনেকে একাত্মতার ঐশীবন্ধনে আবদ্ধ করে দেয়া হয়। তাই, বিবাহের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী শাস্ত্রবিধি ও হিন্দু আইন অনুযায়ী অবিচ্ছেদ্যভাবে একাত্ম হয়ে যান। সে কারণেই স্ত্রীকে বলা সহ সহধর্মিনী বা অর্ধাঙ্গিনী। তারা পরিবারের সম্পদ-সম্পত্তিও যৌথভাবেই ভোগ করে থাকেন।

তিনি বলেন, যুগ যুগ ধরে পবিত্র শাস্ত্রীর বিধানের ঐশীবন্ধনে হিন্দু সম্প্রদায়ের তথা সনাতনী সমাজের পরিবারগুলো শান্তিময় ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় চলমান। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের মতো কতিপয় এনজিও ও একটি বিশেষ মহলের কারসাজিতে তা বিনষ্ট করা।

সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় সনাতনী সমাজ হিন্দু আইন পরিবর্তন চায় না। আইন কমিশনের সুপারিশকৃত আইন সনাতনী ভাই-বোন ও পরিবারের মধ্যে কলহসৃষ্টির নীল নকশা মাত্র। হিন্দু পারিবারিক আইন পরিবর্তন না করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

বক্তারা হিন্দু আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে সনাতন পরিপন্থী কালো আইন পাশ না করার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অনতিবিলম্বে সংখ্যালঘুদের উপরে প্রত্যেকটি হামলার ঘটনার আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার মোতাবেক সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়ে সংখ্যালঘু কমিশন ও আসন্ন দুর্গাপুজা যাতে সনাতনী সম্প্রদয় নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীদের তিন দিনের সরকারী ছুটি ঘোষণা করিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়