আশা করি প্রীতিলতার মর্যাদা ধরে রাখতে পারব: পরী মনি

আগের সংবাদ

খুলনার ডুমুরিয়ায় সিএনজি ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৪

পরের সংবাদ

বিশ্বকাপে টাইগার দলে অলরাউন্ডারের ছড়াছড়ি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ , ৬:৫৫ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ , ৮:৪৬ অপরাহ্ণ

ইতিহাস বলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হট ফেভারিট দল তারাই যাদের একাধিক অলরাউন্ডার আছে। যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট টিম। ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশটি ২০১২ ও ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে নেয় অলরাউন্ডারদের পারফরম্যান্স নৈপুণ্যে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে অলরাউন্ডারনির্ভর দল গড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসরে ১৫ সদস্যের টাইগার স্কোয়াডে ৭ জনই অলরাউন্ডার। এত অলরাউন্ডারের ছড়াছড়ি আর কোনো দেশের স্কোয়াডে নেই।

টাইগার স্কোয়াডে থাকা সাত অলরাউন্ডার হলেন- অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, আফিফ হোসেন, মাহেদী হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও শামীম হোসেন। বাংলাদেশের পরে সর্বোচ্চ পাঁচ অলরাউন্ডারনির্ভর দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে চারজন করে অলরাউন্ডার দলে ভিড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এরপর সর্বোচ্চ তিনজন অলরাউন্ডার আছে আফগানিস্তান দলে। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের স্কোয়াডে আছে দুজন করে অলরাউন্ডার।

ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর শুরু হয় ২০০৭ সালে। সেবার পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছিল ভারত। ২০০৯ সালে পরের আসরে আক্ষেপ ঘুচিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। এরপর ২০১০ সালে তৃতীয় আসর জয় করে নেয় ক্রিকেটের উদ্ভাবক ইংল্যান্ড। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে আয়োজিত পঞ্চম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয় দুইবার ফাইনালে ব্যর্থ হওয়া শ্রীলঙ্কা। আর চতুর্থ ও ষষ্ঠ আসরটি জিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একাধিক ট্রপির মালিক ক্রিস গেইলরা।

এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি টাইগারদের। একাধিক অলরাউন্ডার ও অভিজ্ঞতার মিশেলে পরিপূর্ণ টাইগার স্কোয়াড। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সব আসর খেলা তিনজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছেন বাংলাদেশ দলে। সাকিব, মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকুর রহিম, অবশ্য তামিম থাকলে সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়াত চারে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যাটিং ও বোলিং পারফরম্যান্সে সবার নজর কাটেন অলরাউন্ডাররা। বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান ইংল্যান্ডে গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে তার অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে রান ও উইকেটে রেকর্ড গড়েছিলেন। এবার লক্ষ্য আরব আমিরাতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা শেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে সাকিব তার নম্বর ওয়ান পজিশন হারান আফগান অলরাউন্ডার নবীর কাছে। এবার দুজনের মধ্যে বিশ্বকাপে পারফরম্যান্সের লড়াইটা হবে দারুণ। এই বিশ্বকাপে সাকিব তার হারানো মুকুট ফিরে পাওয়ার মিশনে থাকবেন। বাংলাদেশ দলে অলরাউন্ডারদের মধ্যেও সবচেয়ে অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান। নম্বর ওয়ান পজিশন ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি সাকিবের লক্ষ্যে থাকবে বিশ্বকাপের ট্রফি।

টাইগার স্কোয়াডে আরেক কার্যকরী অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। পেস বোলিং এই অলরাউন্ডার ব্যাট ও বলে সমান পারদর্শী। আরবের স্পোর্টিং উইকেটে সাইফউদ্দিন কার্যকরী বোলার তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। আর লোয়ার অর্ডারে বিধ্বংসী ব্যাট চালানোর জন্য সাইফউদ্দিনের বিকল্প আর কেবা হতে পারেন। দলের তৃতীয় কার্যকরী অলরাউন্ডার সৌম্য সরকার। যদিও দলে সৌম্যের মূল ভূমিকা ব্যাটিং বিভাগে। তারপরও মাঝে মধ্যে সৌম্যকে বোলিং আক্রমণে এনে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নিতে পারেন টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

টাইগার স্কোয়াডে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রিয়াদও নিজের দিনে প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারেন। মাহমুদউল্লাহর মূল্য কাজ ব্যাটিংয় হলেও বোলিংয়ে তিনি কম পারদর্শী নন। বাংলাদেশ দলের অলরাউন্ডারদের মধ্যে তরুণ ও অধিক কার্যকরী মাহেদী হাসান। তরুণ এই ক্রিকেটার ব্যাটিংয়ে যে ঝড় তুলতে পারেন তার প্রমাণ দিয়েছেন অনেক ম্যাচেই। মাহেদীর সবচেয়ে বড় গুণ স্পিন বোলার হয়েও তিনি ইয়র্কা লাইনে বল করতে পারেন। শেষ ওভারে বিপক্ষ দলকে অল্প রানে আটকাতে তার মতো বোলার বাংলাদেশ দলের জন্য কার্যকরী একজন।

দলের অন্য দুই অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন ধ্রুব ও শামীম হোসেন। দুজনই স্পিননির্ভর অলরাউন্ডার। আফিফ স্টাম্প টু স্টাম্পে বল করে থাকেন। ফলে বিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানদের তার বল খেলতে হবে খুবই সতর্কতার সঙ্গে। কারণ বল মিস তো স্টাম্প হিট। আর ব্যাটিংয়ে আফিফ বিধ্বংসীদের একজন। বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের বেশির ভাগ নার্ভাসে ভোগলেও দলের নার্ভাসহীন ক্রিকেটার আফিফ হোসেন। ম্যাচের যে কোনো মুহূর্তেই তার স্নায়ু চাপ কম কাজ করে, খেলে যান সাহসের সঙ্গে। তার মতোই সাহসী ও বিধ্বংসী শামীম হোসেন।

বাংলাদেশ দলে শামীম ব্যাটিংয়ের জন্য বিবেচিত হলেও বোলিংয়েও তিনি সমান পারদর্শী। অধিনায়ক রিয়াদ বিপক্ষ দলকে পরীক্ষায় ফেলতে শামীমকে বোলিংয় আক্রমণে আনতেই পারেন। তাছাড়া ম্যাচের ডেথ ওভারে রান তুলতে শামীম কার্যকরী একজন ব্যাটসম্যান।

এদিকে বাংলাদেশ ছাড়াও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অলরাউন্ডার নৈপুণ্যে আসর মাতাবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা। দলটির অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ক্রিস গেইল একাই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেন। বোলিংয়ের ভূমিকায় তাকে কম দেখা গেলেও ব্যাটিংয়ে তিনি ক্রিকেটের দানব। দলটির অন্য দুই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার কাইরন পোলার্ড ও ডোয়েন ব্রাভো। ব্যাটিং ও বোলিংয়ে দুজনই বিপক্ষ দলের জন্য ভয়ানক ক্যারিবীয় অস্ত্র। আর বল, ব্যাটে, অভিজ্ঞতায় দলটির অন্যতম মিসাইল আন্দ্রে রাসেল। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের পাঁচজনের শেষ অলরাউন্ডার রস্তন চেইজ।

অন্যদিকে ইংল্যান্ড দলে চার অলরাউন্ডার মইন আলী, ক্রিস জর্ডান, স্যাম কুরান ও ডেভিড উইলি। পাকিস্তানে দলে সাদাব খান, মোহাম্মদ হাফিজ, ইমাদ ওয়াসিম ও মোহাম্মদ ওয়াসিমকে নিয়ে চার অলরাউন্ডার। শ্রীলঙ্কা দলে আছে ধনানজয়া ডি সিলভা, ওয়ানিনদু হাসারাঙ্গা, কামিন্দু মেন্ডিসের মতো অলরাউন্ডাররা।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া দলে আছে তিন অলরাউন্ডার মিচেল মার্শ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মার্কান স্টয়নিস। ভারতের দুজন অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া ও রবীন্দ্র্র জাদেজা। ব্ল্যাক ক্যাপসদের দুই অলরাউন্ডার কেইন উইলিয়ামসন ও জিম্মি নিশাম। আফগানদের আছে মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান ও করিম জানাত। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা দল গঠন করেছে তরুণ ও অনভিজ্ঞ অলরাউন্ডার নিয়ে।

রি-এসএস/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়