সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব অনভিপ্রেত

আগের সংবাদ

শিশুশিক্ষার্থী ঝরে পড়া, কার্যকর ব্যবস্থা নিন

পরের সংবাদ

ই-কমার্সে আস্থা ও স্বচ্ছতা ফেরানোর উদ্যোগ নিতে হবে

আবির হাসান সুজন

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১ , ১:০৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১ , ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

বর্তমান বিশ্বের আলোচিত-সমালোচিত খাত হলো ই-কমার্স খাত। মানুষ যাতে কষ্ট করে, বাইরে না গিয়ে ঘরে বসেই কেনাকাটা করতে পারে তার একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হলো ই-কমার্স। কিন্তু বর্তমানে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে এই খাতে মানুষের বিশ্বাস উঠে যাওয়ার পথে। তাই ই-কমার্স ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে নিতে হবে বিশেষ ও কার্যকরী পরিকল্পনা। ইলেকট্রনিক কমার্সকে সংক্ষেপে ই-কমার্স বলা হয়। আধুনিক ডেটা প্রসেসিং এবং কম্পিউটারভিত্তিক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা বিশেষ করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পণ্য বা সেবা মার্কেটিং, ক্রয়-বিক্রয়, গ্রহণ-বিলি করা, ব্যবসা সংক্রান্ত লেনদেন ইত্যাদি করাই হচ্ছে ই-কমার্স।
ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে ২০০৬ সালে বাংলাদেশে পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয়ে বেসরকারিভাবে কাজ শুরু করে ই-কমার্স। কিন্তু তখন অনলাইন বাণিজ্যের সরকারি অনুমোদন একদমই ছিল না। বিশ্বে প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতেই এর ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে সরকার ব্যাংকের ই-কমার্স বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশে পুরোপুরিভাবে ই-কমার্স চালু হয়। ই-কমার্স অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রবৃদ্ধিতে যুক্ত করেছে নতুন ধারা, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে তরুণ প্রজন্মের জন্য, নতুন উদ্যোক্তাদের যুক্ত করেছে ই-কমার্সের সঙ্গে এবং নানাভাবে সমৃদ্ধ করে চলেছে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণের যাত্রাকে।
দেশে ই-কমার্স ও এফ-কমার্স দুই ধরনের ডিজিটাল বাণিজ্য হয়। ইলেকট্রনিক কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) আওতাভুক্ত সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ৬০০। এ খাতে বছরে গড়ে ২ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। এর বাইরে ফেসবুকনির্ভর ই-কমার্স (এফ-কমার্স) উদ্যোক্তার সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি।
বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ঘরে বসে অনলাইনে পণ্য কেনাকাটা বা ই-কমার্স ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠার পর গোটা খাতটি এখন ভুগছে আস্থা ও স্বচ্ছতার সংকটে। অনেকের বিরুদ্ধে পণ্যমান, দাম, আগাম পেমেন্ট, অবিশ্বাস্যরকম মূল্যছাড়, ডেলিভারির দীর্ঘসূত্রতা, এক পণ্য দেখিয়ে নিম্নমানের অবিকল আরেক পণ্য গছিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জ ছাড়াও নিরাপদ ডটকম, বুম বুম, ধামাকা শপিং ডটকম, আলাদিনের প্রদীপ, আদিয়ান মার্ট, নিড ডটকম ডটবিডি, কিউকুম নামক আরো অনেক প্রতিষ্ঠান গা-ঢাকা দেয়ার শঙ্কায় ভুগছে দেশের জনগণ। এরা ভোক্তাদের বোকা বানিয়ে মায়াজাল ও প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বাহারি বিজ্ঞাপন, অস্বাভাবিক ও আকর্ষণীয় অফার, অবিশ্বাস্য ডিসকাউন্ট, ক্যাশব্যাক ইত্যাদির লোভ দেখিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। তাই এ খাতে আস্থা আনতে ‘আগে পণ্য, পরে টাকা’- নীতির কার্যকর করতে হবে এবং ই-কমার্স খাতের নৈরাজ্য বন্ধ ও স্বচ্ছতা আনতে নীতিমালা ও নির্দেশিকার পাশাপাশি আইন প্রণয়ন করতে হবে। নৈরাজ্য অনুসন্ধান ও আইনি কাঠামো তৈরির জন্য একটি কমিশন গঠন করতে হবে। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অনলাইন কেনাকাটায় বিভিন্ন প্রতারণায় অভিযুক্তদের দৃশ্যমান শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে।
আবির হাসান সুজন
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়