করোনার দুই ডোজ টিকা গ্রহীতাদের ৯৯.১৩ শতাংশের দেহে অ্যান্টিবডি

আগের সংবাদ

পরিবেশ রক্ষায় ছাদবাগানের গুরুত্ব

পরের সংবাদ

পান উপযোগী নয় ওয়াসার পানি : হাইকোর্টের নির্দেশ গুরুত্ব পাক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১ , ১:১৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১ , ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির মান নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন রয়েছে। রাজধানীবাসীর পানি সরবরাহের একমাত্র প্রতিষ্ঠান ঢাকা ওয়াসার পানির ওপর ন্যূনতম ভরসা করার কোনো উপায় নেই। পানি দুর্গন্ধযুক্ত। পানিতে ময়লা-আবর্জনা-কেঁচো ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। এই নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি, সরকারের নানা উদ্যোগও কম হয়নি। কিন্তু ফলাফল শূন্য। ২০১৯ সালের ৪ ডিসেম্বর ওয়াসার পানি পরীক্ষার দুটি প্রতিবেদনের ওপর বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। পরে মামলাটি শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু করোনার কারণে সেটি আর হয়নি। দীর্ঘদিন পর গত সোমবার শুনানির জন্য মামলাটি তালিকায় ওঠে। পানির দূষণ রোধে ওয়াসা গত দুই বছরে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, কী করছে এবং কী করবে সে বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ২ নভেম্বর ওয়াসার আইনজীবীকে এই প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। আমরা আশা করছি সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে মনোযোগী হবেন। হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছেন তা তারা দ্রুত বাস্তবায়ন করবে। জানা যায়, রাজধানীর প্রায় দেড় কোটি মানুষের জন্য প্রতিদিন ২৩০ কোটি লিটার পানির চাহিদা থাকলেও এর বিপরীতে ওয়াসার উৎপাদন ক্ষমতা ২১০ কোটি লিটারের মতো। এর ৭৮ শতাংশ তোলা হয় গভীর নলকূপ দিয়ে, বাকিটা বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পাঁচটি শোধনাগারে শোধনের মাধ্যমে। যা শোধনের পরও দূষিত ও মানহীনই থাকছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৬২ ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানে বিষাক্ত হয়ে পড়া বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পানি শোধন করতে হিমশিম খাচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। এ দুটি নদীর পানিতে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান এতই বেশি যে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার জন্য শোধনের সময় মেশানো হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ক্লোরিন, এলাম (চুন) ও লাইন (ফিটকিরি)। তারপরও দুর্গন্ধ থাকছে পানিতে। অনেক সময় শোধিত পানি থেকে বের হয় ক্লোরিনের গন্ধ। যদিও ওয়াসার দাবি, শোধিত পানিতে সমস্যা নেই। এদিকে বিভিন্ন স্থানের পাইপলাইনে রয়েছে অসংখ্য ফুটো বা লিকেজ। এসব ফুটো দিয়ে বর্জ্য ঢুকছে পাইপলাইনের মধ্যে। একইভাবে বর্জ্য যুক্ত হচ্ছে স্যুয়ারেজ লাইনেও। এ পানি অতিমাত্রায় ফুটানোর পরও পানযোগ্য করতে পারছেন না নগরবাসী। ওই পানি ব্যবহারে চোখ জ্বলা, গা চুলকানোসহ নানা উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। কলেরা হাসপাতালেও বেড়ে যায় রোগীদের ভিড়। আমরা মনে করি, পানির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলার অবকাশ নেই। রাজধানীতে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানির বিকল্প উৎস যেমন সন্ধান ও ব্যবহার করতে হবে তেমনি ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রম আরো বাড়াতে ও গতিশীল করতে হবে। এই মুহূর্তে ঢাকা ওয়াসাকে সরবরাহকৃত পানির বিশুদ্ধতা সংরক্ষণে মনোযোগ দিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে কোনো মূল্যে বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি বিশুদ্ধ করার পাশাপাশি নদীদূষণ রোধে টাস্কফোর্স গঠনসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া দরকার।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়